সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৯:৩৮ এএম
২০২৭ সালের ২ আগস্ট বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে বিশ্বের কয়েকটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ সূর্যগ্রহণের সময় ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু এলাকায় টানা ৬ মিনিট পর্যন্ত অন্ধকার নেমে আসতে পারে যা শতাব্দীর ইতিহাসে দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণগুলোর একটি হতে যাচ্ছে।
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, সূর্যগ্রহণটি শুরু হবে পূর্ব আটলান্টিক অঞ্চলে। সেখান থেকে উত্তর আফ্রিকার মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া ও মিশর অতিক্রম করে এটি প্রবেশ করবে মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরের কিছু অংশে। বিশেষত মিশরের লাক্সর ও আসওয়ানের মতো শহরগুলোতে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দেখা যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের আলো সম্পূর্ণভাবে ঢাকা পড়ে গেলে আকাশের উজ্জ্বলতা চোখে পড়ার মতোভাবে কমে যাবে। কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো প্রায় নিভে যাবে, তাপমাত্রাও সামান্য হ্রাস পেতে পারে। এ সময় সূর্যের অন্ধকার ডিস্কের চারপাশে মৃদুভাবে জ্বলতে থাকা করোনা দৃশ্যমান হবে, যা সাধারণত চোখে পড়ে না।
ইউরোপের বেশির ভাগ অংশ, পশ্চিম এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার বহু দেশ থেকে এই সূর্যগ্রহণ আংশিকভাবে দেখা যাবে। আংশিক গ্রহণের সময় সূর্যকে মনে হবে যেন কেউ কামড়ে খেয়েছে বিশেষ আকৃতির এক দৃশ্য। তবে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়ার বেশির ভাগ দেশ থেকেই এ বিরল দৃশ্য দেখা যাবে না।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে সরাসরি অবস্থান নেয়, তখনই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে। দিনের আলো হঠাৎ কমে যাওয়ায় পরিবেশে অস্বাভাবিক এক সন্ধ্যার অনুভূতি তৈরি হয়। এমন সময় কিছু প্রাণী রাত নেমে এসেছে ভেবে আচরণে পরিবর্তন আনে পাখিরা নীরব হয়ে যায়, চারপাশ হয়ে ওঠে অস্বাভাবিকভাবে শান্ত।
২০২৭ সালের এ সূর্যগ্রহণ পৃথিবীর কোটি মানুষের জন্য এক অনন্য মহাজাগতিক দৃশ্য হয়ে দেখা দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরটিভি/এসকে