images

তথ্যপ্রযুক্তি

হোয়াটসঅ্যাপ কিভাবে অর্থ উপার্জন করে

রোববার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৬:৫৯ পিএম

‘আপনি যদি বিনামূল্যের ব্যবহারকারী হন, সেক্ষেত্রে আপনি এখানে কেবলই পণ্য।’ বলেছেন ম্যাথিউ হডসন। এখন কী তাহলে  আপনিও পণ্যে পরিণত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় হয়তো আপনিও অসংখ্য হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আদানপ্রদান করেছেন—তা সে পরিবারের সঙ্গে পরিকল্পনা হোক বা সহকর্মীদের সঙ্গে প্রকল্পের আলোচনা।

বিশ্বজুড়ে প্রায় তিন বিলিয়ন মানুষ এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে। এত বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য ডেটা সেন্টার এবং শক্তিশালী সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ করা হলেও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী বা বার্তা প্রাপকদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেয় না। তাহলে বিনামূল্যে পরিসেবা দেওয়া সত্ত্বেও হোয়াটসঅ্যাপ কিভাবে তার কার্যক্রম চালায় এবং অর্থ উপার্জন করে?

হোয়াটসঅ্যাপের মূল কোম্পানি মেটা (যা ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামেরও মালিক) ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নয়, বরং কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অর্থ উপার্জন করে। এই ব্যবসায়িক মডেলটি তিনটি প্রধান উপায়ের মাধ্যমে কাজ করে।

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলসের মাধ্যমে প্রথমত ইনকাম করে প্রতিষ্ঠানটি। কয়েক বছর থেকে কোম্পানিগুলো বিনামূল্যে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল তৈরি করে গ্রাহকদের কাছে বার্তা পাঠাতে পারে। এটি মূলত একমুখী যোগাযোগ, যেখানে সাবস্ক্রাইবাররা সেই মেসেজগুলো পড়তে পারে।

আরও পড়ুন
98454185541

গুগল ফটোসে এআই আপনাকে যে সুবিধা দেবে

দ্বিতীয়ত, প্রিমিয়াম বিজনেস মেসেজিং: কর্পোরেট কোম্পানিগুলো হোয়াটসঅ্যাপের প্রিমিয়াম সংস্করণ ব্যবহার করে সরাসরি গ্রাহকদের সাথে চ্যাট করার সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে সাধারণ কথোপকথন থেকে শুরু করে আর্থিক লেনদেন পর্যন্ত সবই সম্ভব। মেটা’র বিজনেস মেসেজিং-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিকিলা শ্রীনিবাসন জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য হলো গ্রাহকরা যেন টিকেট কেনা বা রিফান্ড করার মতো কাজগুলো চ্যাট থ্রেড থেকে বাইরে না গিয়ে সহজে করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের বেঙ্গালুরুতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাসের টিকেট কেনা এবং আসন নির্বাচন করা সম্ভব।

তৃতীয়ত এবং আয়ের প্রধান উৎস হলো বিজ্ঞাপন-সংযুক্ত চ্যাট: ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা যখন বিজ্ঞাপন হিসাবে থাকা কোনো লিংকে প্রবেশ করে, তখন সরাসরি তাদের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে একটি নতুন চ্যাট খুলে যায়। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এই ফিচারের জন্য হোয়াটসঅ্যাপকে অর্থ প্রদান করে। শ্রীনিবাসনের মতে, শুধুমাত্র এই একটি ফিচার থেকেই মেটা প্রতি বছর কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় করে। ব্যবসার মূল লক্ষ্য হলো হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা।

হোয়াটসঅ্যাপ এই পথে চললেও অন্যান্য মেসেজিং অ্যাপগুলো ভিন্ন মডেল অনুসরণ করে। সিগন্যাল, যা মেসেজের নিরাপত্তার জন্য সুপরিচিত, একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এবং এটি অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

২০১৮ সালে হোয়াটসঅ্যাপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রিয়ান অ্যাকটনের থেকে এটি ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান পেয়েছিল। অন্যদিকে, তরুণ গেমারদের মধ্যে জনপ্রিয় ডিসকর্ড অ্যাপটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও ভালো কোয়ালিটির ভিডিও এবং কাস্টম ইমোজির মতো বিশেষ ফিচার ব্যবহারের জন্য পেইড মেম্বারশিপ ‘নিট্রো’ এর প্রয়োজন হয়, যার মাসিক খরচ নয় দশমিক ৯৯ ডলার।

ইলিমেন্ট নামের যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথিউ হডসন এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, অনেক মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীরা কী করছে, কী ধরনের কথা বলছে, তা পর্যবেক্ষণ করে তাদের জন্য উপযুক্ত বিজ্ঞাপন দেখায়। তিনি বলেন, মেসেজিং অ্যাপগুলোতে এনক্রিপশন ও গোপনীয়তার ফিচার থাকলেও অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করতে পারে। হডসনের কথায়, আপনি যদি বিনামূল্যের ব্যবহারকারী হন, সেক্ষেত্রে আপনি এখানে কেবলই পণ্য।

আরটিভি/এএইচ