বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০২:৫০ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টেলিগ্রামের বিভিন্ন গোপন গ্রুপে তরুণীদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এসব কনটেন্টের বেশিরভাগই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এই অপরাধে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনো অনেক চক্র ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তারা ভুয়া সিম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে পরিচয় গোপন রেখে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জানান, হঠাৎ করেই তিনি জানতে পারেন তার ব্যক্তিগত কিছু ছবি একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সদস্যসংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। পরে তিনি থানায় মামলা করেন। তদন্তে উঠে আসে, সম্পর্ক ভাঙনের পর তার প্রাক্তন প্রেমিকই এসব ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী বলেন, আমার অজান্তেই আমার ব্যক্তিগত ছবি তার কাছে ছিল। হঠাৎ করে জানতে পারি সেগুলো ছড়িয়ে গেছে। পরিবারকে জানাতে ভয় পেয়েছিলাম। পরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি, আত্মহত্যার চিন্তাও এসেছিল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফেসবুক ও টেলিগ্রামে শতাধিক এমন গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যেখানে মাসিক ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে সদস্য হয়ে এসব আপত্তিকর কনটেন্ট কেনাবেচা করা হয়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। একইসঙ্গে এমন ঘটনার শিকার হলে দেরি না করে পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
সাইবার বিশেষজ্ঞ আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, কিছু চক্র এসব কনটেন্ট সংগ্রহ করে প্রিমিয়াম গ্রুপে বিক্রি করে। কেউ ভুক্তভোগী হলে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার তরিকুল ইসলাম বলেন, অপরাধীরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করলেও প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব। শেষ পর্যন্ত তারা আইনের আওতায় আসবেই।
পুলিশ ভুক্তভোগীদের ভয় না পেয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরটিভি/এসকে