images

তথ্যপ্রযুক্তি / আন্তর্জাতিক

ওপেনএআই-এর সঙ্গে মামলায় হারলেন ইলন মাস্ক

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ১২:২৩ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে করা মামলায় পরাজিত হয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। মানবকল্যাণের লক্ষ্য থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরে গেছে, এমন অভিযোগ তুলে তিনি এই মামলা করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা ফোরবসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, সোমবার (১৮ মে) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড ফেডারেল কোর্টে জুরি বোর্ড সর্বসম্মতভাবে জানায়, মামলাটি দায়ের করতে মাস্ক অনেক দেরি করেছেন এবং আইনি সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। দুই ঘণ্টারও কম সময় আলোচনার পরই তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

জুরির সুপারিশের ভিত্তিতে বিচারক ইভন গঞ্জালেজ রজার্স মামলাটি খারিজ করে দেন এবং ওপেনএআই-কে দায়মুক্তি দেন। তিনি বলেন, জুরির দেওয়া তথ্য-প্রমাণ যথেষ্ট ছিল এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

রায় ঘোষণার পর ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন এবং আপিল করার ঘোষণা দেন। তিনি বিচারককে 'পক্ষপাতদুষ্ট' বলেও মন্তব্য করেন।

মাস্কের আইনজীবীরা আপিলের ঘোষণা দিলেও বিচারক ইঙ্গিত দিয়েছেন, আইনি সময়সীমা পার হওয়ায় এই লড়াই জেতা কঠিন হবে।

আরও পড়ুন
em

‘ইনস্টাগ্রাম শুধু মেয়েদের জন্য’

২০২৪ সালে করা মামলায় মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্যামুয়েল হ্যারিস অল্টম্যান প্রতারণার মাধ্যমে তাকে অর্থ দিতে বাধ্য করেন এবং পরে প্রতিষ্ঠানটি অলাভজনক থেকে লাভজনক কাঠামোয় রূপ নেয়।

তিনি এটিকে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। তবে ওপেনএআই এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, মাস্ক দেরিতে মামলা করেছেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে অভিযোগ তুলেছেন।

ওপেনএআই প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালে মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যানসহ কয়েকজন মিলে। পরে মাস্ক ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠান ছাড়েন। বর্তমানে ওপেনএআই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কাজ করছে, যেখানে মাইক্রোসফটসহ বড় বিনিয়োগকারীরা যুক্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য,  এই রায়টি সাম্প্রতিক সময়ে ইলন মাস্কের একের পর এক আইনি ব্যর্থতার ধারাবাহিকতাকে আরও দীর্ঘ করল। এর আগে টুইটার (বর্তমানে এক্স) অধিগ্রহণ সংক্রান্ত মামলায় তিনি বিনিয়োগকারীদের অভিযোগের মুখে পড়েন, যেখানে বলা হয়—ক্রয় প্রক্রিয়ার সময় তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন।

একই সময়ে সাবেক টুইটার নির্বাহীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন চলা আরেকটি মামলায় বছরের পর বছর আইনি লড়াই শেষে তিনি সমঝোতায় পৌঁছান। এছাড়া বিজ্ঞাপনদাতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলাও আদালত খারিজ করে দেয়। সেখানে মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, কোম্পানিগুলো প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে গিয়ে অন্যায় আচরণ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ধারাবাহিক ঘটনায় সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত তিনটি বড় মামলায় মাস্ককে হয় পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে, নয়তো সমঝোতায় যেতে বাধ্য হয়েছেন। এর ফলে ওপেনএআই মামলাসহ তার আইনি ব্যর্থতার তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।


আরটিভি/জেএমএ