শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ , ০৮:৩৮ পিএম
বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। ব্যক্তিগত আলাপ, অফিস মিটিং কিংবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদানে প্রতিদিনই ব্যবহার হচ্ছে এই অ্যাপ। অনেক সময় প্রয়োজনীয় কথোপকথন ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করার দরকার পড়ে। তখনই প্রয়োজন হয় কল রেকর্ডিংয়ের।
যদিও হোয়াটসঅ্যাপে সরাসরি কল রেকর্ড করার কোনো অফিসিয়াল সুবিধা নেই, তবে কিছু কৌশল ব্যবহার করে অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন দুই ধরনের ডিভাইসেই কল রেকর্ড করা সম্ভব।
অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের বেশিরভাগ মডেলেই বিল্ট-ইন স্ক্রিন রেকর্ডার সুবিধা থাকে। এই ফিচার ব্যবহার করেই সহজে হোয়াটসঅ্যাপ কল রেকর্ড করা যায়।
প্রথমে ফোনের স্ক্রিন রেকর্ডার চালু করতে হবে। এরপর “রেকর্ড অডিও” বা “ইন্টারনাল অডিও ” অপশন অন আছে কি না নিশ্চিত করতে হবে। তারপর হোয়াটসঅ্যাপ কল শুরু করলেই কথোপকথন রেকর্ড হতে থাকবে। কল শেষ হলে রেকর্ডিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্যালারিতে সংরক্ষণ হয়ে যাবে।
তবে কিছু স্মার্টফোনে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইন্টারনাল অডিও রেকর্ড হয় না। সেক্ষেত্রে স্পিকার মোড চালু করে রেকর্ড করতে হতে পারে।
যদি ফোনের নিজস্ব স্ক্রিন রেকর্ডার ঠিকভাবে কাজ না করে, তাহলে বিভিন্ন থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব অ্যাপ স্ক্রিনের পাশাপাশি অডিও রেকর্ডের সুবিধাও দেয়।
তবে অ্যাপ ডাউনলোডের আগে অবশ্যই রিভিউ, প্রাইভেসি পলিসি ও প্রয়োজনীয় পারমিশন যাচাই করা জরুরি। কারণ কিছু ভুয়া অ্যাপ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে।
অ্যাপলের নিরাপত্তানীতির কারণে আইফোনে সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ কল রেকর্ড করা সহজ নয়। অ্যাপলের আইওএস-এ প্ল্যাটফর্মে বিল্ট-ইন কল রেকর্ডিং সুবিধাও নেই।
তবে অনেক ব্যবহারকারী ম্যাকবুকের সাহায্যে কল রেকর্ড করে থাকেন। এছাড়া অন্য একটি ডিভাইস ব্যবহার করে স্পিকার মোডে কথোপকথন রেকর্ড করার পদ্ধতিও প্রচলিত। যদিও এতে অডিওর মান কিছুটা কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির কল রেকর্ড করার আগে তার অনুমতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুমতি ছাড়া কল রেকর্ড করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া কল রেকর্ডিংয়ে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য থাকতে পারে। তাই এসব ফাইল নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত। প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ব্যবহার করলে তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি কমে।
আরটিভি/এসকে