বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ০৮:১৭ পিএম
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর দূরবীক্ষণযন্ত্র ব্যবহার করে সূর্যের পৃষ্ঠের ইতিহাসের অন্যতম বিস্তারিত ছবি ধারণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এই পর্যবেক্ষণে সূর্যের পৃষ্ঠে আগে কখনও এত স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়া ঘূর্ণাবর্ত (ভর্টেক্স) শনাক্ত হয়েছে, যা সূর্যের চৌম্বকীয় শক্তির আচরণ এবং মহাকাশ আবহাওয়া বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সূর্যের অত্যন্ত উত্তপ্ত গ্যাসের চলাচলের কারণে এর চৌম্বক ক্ষেত্র ক্রমাগত পাক খায় ও স্থান পরিবর্তন করে। এই ঘূর্ণনই সূর্য থেকে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটার অন্যতম প্রধান কারণ। এর ফলে সৃষ্টি হওয়া ‘স্পেস ওয়েদার’ বা মহাকাশ আবহাওয়া পৃথিবীর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, যোগাযোগ উপগ্রহ এবং মহাকাশচারীদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সোলার অবজারভেটরির (এনএসও) বিজ্ঞানী ড. ডেভিড ববোল্টজ বলেন, সূর্যই সব ধরনের মহাকাশ আবহাওয়ার উৎস। তাঁর মতে, সূর্যের আরও বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে মহাকাশ আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করতে সহায়তা করবে।
বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে হাওয়াইয়ের ইনোয়ে সোলার টেলিস্কোপের মাধ্যমে। ধুলাবালিমুক্ত ও পরিষ্কার আকাশের কারণে এই পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে সূর্যের পৃষ্ঠের অত্যন্ত সূক্ষ্ম চিত্র ধারণ সম্ভব হয়েছে।
গবেষণায় সূর্যের পৃষ্ঠে ‘কেলভিন-হেলমহোল্টজ অস্থিতিশীলতা’ নামে পরিচিত একটি প্রক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এটি ঘটে যখন দুটি গ্যাসীয় বা তরল স্তর ভিন্ন গতিতে পাশাপাশি প্রবাহিত হয়। ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা ধীরে ধীরে ঘূর্ণাবর্তে রূপ নেয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রক্রিয়াই সূর্যের চৌম্বকীয় শক্তি সঞ্চয় এবং পরবর্তীতে সৌর শিখা কিংবা করোনাল মাস ইজেকশনের মতো শক্তিশালী বিস্ফোরণের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এনএসও-এর জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. ডেভিড কুরিদজে বলেন, এই ঘূর্ণন চৌম্বকীয় শক্তি তৈরি করে, যা জমে থেকে পরবর্তীতে বড় ধরনের বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে।
গবেষকদের মতে, নতুন এই পর্যবেক্ষণ শুধু মহাকাশ আবহাওয়া নয়, সূর্যের বাইরের স্তর এত উত্তপ্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে। পাশাপাশি এটি ভবিষ্যতে পৃথিবীর প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে মহাকাশ আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে আরও কার্যকর পূর্বাভাস ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
ড. ডেভিড ববোল্টজ বলেন, সূর্য আমাদের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র এবং এটি পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক নিয়মগুলো বোঝার এক অনন্য গবেষণাগার। তার ভাষায়, মানবজ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করতে এ ধরনের গবেষণা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
আরটিভি/এসকে