শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৮:০৩ পিএম
নদীর শীতল হাওয়া, দুই পাশের চিরচেনা সবুজ প্রকৃতি আর বিশাল প্যাডেলের ছন্দময় শব্দে অতীতের আভিজাত্য ছুঁয়ে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’।
১৮৮৪ সালে বরিশাল-খুলনা রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই ঐতিহ্যবাহী নৌযানগুলো এক সময় কয়লাচালিত বাষ্পীয় ইঞ্জিনে চলত। দুই পাশে থাকা বিশাল চাকা বা প্যাডেল ঘুরিয়ে নদীর বুকে দ্রুতগতিতে ছুটে চলার কারণে এগুলো সাধারণ মানুষের কাছে ‘রকেট’ নামে পরিচিতি পায়।
১৯২৮ সালে নির্মিত লাল-কমলা রঙের এই দৈত্যাকার জাহাজটি এখন প্রতি সপ্তাহে ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা রুটে ‘দিবা হেরিটেজ ক্রুজ’ হিসেবে নিয়মিত যাতায়াত করছে।
বিআইডব্লিউটিসির মহাব্যবস্থাপক (কার্গো ও ফেরী) মো. আজমল হোসেনের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ যাত্রা নয়, বরং বাংলার নদী-ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে তোলার একটি অনন্য উদ্যোগ।
ঐতিহ্যবাহী এই স্টিমারটি প্রতি শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে চাঁদপুর হয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বরিশাল পৌঁছায়। আবার পরদিন শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় বরিশাল থেকে ফিরতি যাত্রা শুরু করে সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকায় ফিরে আসে। প্রায় ৯ থেকে ১০ ঘণ্টার এই ভ্রমণে দিনের আলোয় নদীর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
সুলভ শ্রেণি থেকে শুরু করে প্রথম শ্রেণির এসি কেবিন পর্যন্ত বিভিন্ন বাজেটের যাত্রীদের জন্য এখানে ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। সুলভ শ্রেণিতে জনপ্রতি ভাড়া ৬০০ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণি ১ হাজার ৬৫০ টাকা এবং প্রথম শ্রেণির প্রাইভেট কেবিনের ভাড়া ভ্যাটসহ ২ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাহাজে থাকা রেস্তোরাঁয় ইলিশ-চিংড়ি থেকে শুরু করে বিরিয়ানি পর্যন্ত নানা পদের খাবার আলাদাভাবে কেনার সুযোগ রয়েছে।
পিএস মাহসুদ-এর বিশেষত্ব হলো এর শতবর্ষী অবকাঠামো। কাঠের সিঁড়ি, পিতলের রেলিং আর প্যাডেলের ছপছপ শব্দ যাত্রীদের মনে করিয়ে দেয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী কিংবা রানি এলিজাবেথের মতো বরেণ্য ব্যক্তিদের স্মৃতি, যারা এক সময় এই রকেটে চড়েছেন।
পুরোনো দিনের সেই আভিজাত্য বজায় রেখে বর্তমানে এতে নতুন ইঞ্জিন, জিপিএস ও লাইফ জ্যাকেটের মতো আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। শীত বা বর্ষা—যেকোনো ঋতুতেই বাংলার নদী-ঐতিহ্যের জীবন্ত ছোঁয়া পেতে এবং অতীতের স্মৃতিময় পথে ঘুরে আসতে পর্যটকদের জন্য এই হেরিটেজ ক্রুজ হতে পারে এক চমৎকার অভিজ্ঞতা।