images

আবহাওয়া

ঈদুল আজহার সময় সারাদেশে যেমন থাকবে আবহাওয়া

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ , ১০:৩৩ পিএম

চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঈদুল আজহা। এ সময় ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র কালবৈশাখীর আশঙ্কা থাকছে বলে জানা গেছে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে।

বাসসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ জানান, ১৫ মে’র পর বঙ্গোপসাগরে ১-২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

একই সঙ্গে মে মাসে দেশে ৫-৮ দিন কালবৈশাখী ও বজ্রঝড় এবং ১-৩ দফা তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আরও পড়ুন
dhaka

রাতে ঢাকাসহ দেশের ১০ অঞ্চলে শক্তিশালী ঝড়ের আভাস

ঢাকার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সাম্প্রতিক এক সভার বরাত দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম জানান, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেখানে ৫২০-৫৪০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৪০-৩৬০, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৩০-৩৫০, রংপুর বিভাগে ২৬০-২৮০ এবং ঢাকা বিভাগে ২৫০-২৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বরিশাল বিভাগে ২২০-২৫০ মিলিমিটার, রাজশাহী বিভাগে ১৭০-১৯০ এবং খুলনা বিভাগে ১৬০-১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, এ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে ৫-৮ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী ও বজ্রঝড় হতে পারে। এর মধ্যে ২-৩ দিন তীব্র কালবৈশাখীর আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।

আরও পড়ুন
image-296618-1729657383_20251025_191208595_20251026_114725565_20251027_085302888_20251123_131743976

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশঙ্কা

আবহাওয়াবিদদের মতে, বৃষ্টিপাত ও মাটির আর্দ্রতার বর্তমান পরিস্থিতি চলতি মৌসুমের কৃষিকাজের জন্য সহায়ক হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে সারাদেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রায় সব বিভাগেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে রাজশাহী বিভাগে বৃষ্টিপাত ছিল প্রায় স্বাভাবিক।

সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের বিচ্যুতি দেখা গেছে বরিশাল বিভাগে। সেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫০ দশমিক ৯ এবং সিলেট বিভাগে ১০৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

আরও পড়ুন
1_20260405_082112238_20260426_141136561

বিকেলের মধ্যে ৭ জেলায় কালবৈশাখীর ঝড়ের শঙ্কা

ঢাকা বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ছিল ১১৯ মিলিমিটার। সেখানে রেকর্ড করা হয়েছে ২১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি। সিলেটে স্বাভাবিক ২৯৫ মিলিমিটারের বিপরীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬০৩ মিলিমিটার।

আবহাওয়াবিদরা জানান, পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূবালী বায়ুপ্রবাহের সংযোগের কারণে এপ্রিলের বিভিন্ন সময়ে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশেষ করে ৬-৯ এপ্রিল এবং ২৬-৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বৃষ্টি, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া বয়ে যায়। অনেক এলাকায় শিলাবৃষ্টিও হয়েছে।

এ সময় দেশের সর্বোচ্চ একদিনের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে। গত ২৮ এপ্রিল সেখানে ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

বৃষ্টির পাশাপাশি এপ্রিল মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দফা তাপপ্রবাহও বয়ে গেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে তাপীয় লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় ১ থেকে ৪ এপ্রিল, ১২-১৫, ১৭-১৯ এবং ২০-২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ দেখা দেয়।

এপ্রিল মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে। গত ২২ এপ্রিল সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাঙ্গামাটিতে, ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আরটিভি/এমএম