শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ , ০৯:১৮ এএম
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার দিন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে রাজধানী ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মে মাসের শেষ সপ্তাহে বর্ষা মৌসুমের আগাম প্রভাব এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রসহ ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ভ্যাপসা গরম অব্যাহত থাকতে পারে।
শুক্রবার (২২ মে) আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, ঈদের দিন রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগের কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজধানীসহ দক্ষিণাঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টি হলেও তার সম্ভাবনা খুবই কম।
তিনি জানান, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি বাড়ছে। বর্ষার প্রভাব পুরোপুরি শুরু হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টি হলেও তা তাপ কমাতে কার্যকর হয়নি বলে উল্লেখ করেন এই আবহাওয়াবিদ। তিনি বলেন, ঢাকার আকাশে নিম্নস্তরের মেঘ থাকায় গরম আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। এসব মেঘ থেকে সাধারণত উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয় না।
এদিকে গত বুধবার রাজধানীতে তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। ওইদিন ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তা কমে ৩৪ ডিগ্রিতে নেমে এলেও আর্দ্রতার কারণে গরমের তীব্রতা কমেনি।
গতকাল খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট, যশোর ও সাতক্ষীরা জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আজও এসব এলাকায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে খুলনার কয়রায়, ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঈদের দিন বিশেষ করে সকালবেলায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকতে পারে। এতে খোলা ময়দানে ঈদের জামাত আয়োজন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে খোলা মাঠের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে নিকটস্থ মসজিদ প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানেও বৃষ্টি প্রতিরোধে বিশেষ শামিয়ানার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া কোরবানির সময় বৃষ্টি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নিরাপদ ও ছাউনিযুক্ত স্থানে পশু কোরবানি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, বৃষ্টির পানির সঙ্গে কোরবানির বর্জ্য মিশে যেন পরিবেশ দূষণ বা জলাবদ্ধতা তৈরি না হয়, সেজন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।
আরটিভি/এসকে