images

আবহাওয়া

২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত রেকর্ড গরমের শঙ্কা

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬ , ০৭:২৮ পিএম

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিষ্ঠান বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার নতুন পূর্বাভাসে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নতুন করে রেকর্ড গরমের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।

২০১৫ সালের পর ১১টি বছর ছিল এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ বছর এবং এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। এমনকি ২০৩১ সালের আগেই নতুন করে সবচেয়ে উষ্ণ বছরের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনাও রয়েছে।

ডব্লিউএমও-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে পাঁচ বছরের গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প যুগের (১৮৫০–১৯০০) তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ। একই সময়ে অন্তত এক বছর ২০২৪ সালের রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে উষ্ণ বছর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৮৬ শতাংশ।

২০২৬-২০৩০ সময়কালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। তবে অন্তত এক বছরের জন্য হলেও ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা ৯১ শতাংশ।

ডব্লিউএমও-এর জলবায়ু পূর্বাভাস বিশেষজ্ঞ লিওন হার্মানসন জানান, ২০২৬ সালের শেষ দিকে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০২৭ সালকে নতুন রেকর্ড গরমের বছরে পরিণত করতে পারে।

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া, যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন আনে। এটি সাধারণত ২ থেকে ৭ বছর পরপর ঘটে এবং ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ২ ডিগ্রির নিচে এবং আদর্শভাবে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখার কথা বলা হলেও, সাময়িকভাবে এই সীমা অতিক্রমের প্রবণতা বাড়ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি গড় উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে এখনও লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

এ ছাড়া, আগামী পাঁচ বছরে আর্কটিক অঞ্চলে শীত মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

একই সময়ে আফ্রিকার সাহেল, উত্তর ইউরোপ, আলাস্কা ও সাইবেরিয়ায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং অ্যামাজন অঞ্চলে খরার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: এএফপি

আরটিভি/টিআর