এমভি আবদুল্লাহ

মুক্ত দুই নাবিক ফিরবেন বিমানে, বাকিরা জাহাজে  

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪ , ১২:৪৬ পিএম


মুক্ত দুই নাবিক ফিরবেন বিমানে, বাকিরা জাহাজে  
দস্যুমুক্ত এমভি আবদুল্লাহ ২৩ নাবিক নিয়ে আগামী ২২ এপ্রিল দুবাইয়ের আল হারমিয়া বন্দরে পৌঁছাবে। ছবি : সংগৃহীত

সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে ৩২ দিনের জিম্মি জীবন কাটানো শেষে মুক্ত ২৩ বাংলাদেশি নাবিককে নিয়ে দুবাইয়ের পথে এমভি আবদুল্লাহ। সেখানকার আল হারমিয়া বন্দরে পৌঁছে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা করবেন তারা। তবে সহসাই জলদস্যুদের ডেরা থেকে ফেরা নাবিকদের কাছে পাচ্ছেন না উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে পুরো রমজান মাস ও ঈদ কাটানো স্বজনরা। 

কারণ, কেবল দুজন নাবিক দেশে ফিরছেন বিমানযোগে। বাকি ২১ জন নাবিক ফিরবেন এমভি আবদুল্লাহতেই। অবশ্য নাবিকদের নিজ নিজ ইচ্ছাতেই এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজের মালিকপক্ষ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার (১৭ এপ্রিল) এ বিষয়ে কেএসআরমের মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেরুল করিম বলেন, এমভি আবদুল্লাহ আগামী ২২ এপ্রিল সকালে আল হারমিয়া বন্দরে পৌঁছাবে। সেখান থেকে দুজন নেমে গিয়ে বিমানযোগে দেশে ফিরবেন। বাকিরা জাহাজে করেই দেশে ফিরবেন। 

প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে মোজাম্বিকের মাপুতো বন্দর থেকে দুবাইয়ের আল হারমিয়া বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে এমভি আবদুল্লাহ। ১৯ মার্চ আল হারমিয়া বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল এসআর শিপিংয়ের জাহাজটির। কিন্তু পথিমধ্যে ১২ মার্চ দুপুরে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে জাহাজটি। ২৩ নাবিককে জিম্মি করে জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলে নিয়ে যায় তারা। এরপর পুরো রমজান মাস ও ঈদ জিম্মি অবস্থাতেই কাটে নাবিকদের। চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ঘিরে থাকে তাদের স্বজনদের।

অবশেষে গত শনিবার (১৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টা ৮ মিনিটের দিকে এমভি আবদুল্লাহ থেকে নেমে যায় দস্যুরা। জাহাজটির মালিকপক্ষের দাবি, ২৩ নাবিক ও জাহাজটিকে মুক্ত করতে দস্যুদের দাবি অনুযায়ী মুক্তিপণ বুঝিয়ে দিয়েছেন তারা। ওইদিন বিকেলে একটি বিশেষ উড়োজাহাজে মুক্তিপণ বাবদ ডলারভর্তি তিনটি ব্যাগ এমভি আবদুল্লাহর পাশে সাগরে ছুঁড়ে ফেলা হয়। স্পিডবোট দিয়ে ব্যাগ তিনটি কুড়িয়ে নেন দস্যুরা।
  
দস্যুমুক্ত হয়ে শনিবার রাতেই সোমালিয়ার উপকূল থেকে আরব আমিরাতের পথে রওনা দেয় এমভি আবদুল্লাহ। এরপর নিরাপদ জলসীমায় আনা পর্যন্ত জাহাজটিকে নিরাপত্তা দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ। একইসঙ্গে কাঁটাতারের নিরাপত্তা বেষ্টনী লাগানো হয় জাহাজের চারদিকে। প্রস্তুত করে রাখা হয় জাহাজে নিরাপত্তার জন্য সংরক্ষিত এলাকা সিটাডেল, ইমার্জেন্সি ফায়ার পাম্প এবং সাউন্ড সিগন্যাল।

এর আগে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে আরব সাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল একই মালিকপক্ষের আরেক জাহাজ জাহান মণি। ওই সময় জাহাজের ২৫ নাবিক এবং প্রধান প্রকৌশলীর স্ত্রীকে জিম্মি করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে চেষ্টার পর ১০০ দিনের চেষ্টায় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পান তারা।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission