দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) বিভাগীয় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই হলের শিক্ষার্থীদে মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন প্রশাসন।
শনিবার (২১ জানুয়ারি) সকাল থেকেই উত্তাল হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতের পোশাক বানানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বাগবিতণ্ডা রূপ নেয় হাতাহাতিতে। পরবর্তীতে এ রেশ ছড়িয়ে পড়ে তাজউদ্দীন আহমেদ হল ও শেখ রাসেল হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা একটি পিকনিকের বিষয়ে আলোচনায় বসেছিল। এ সময় শীতের পোশাক বানানোর টাকার হিসাব নিয়ে কথা উঠলে শিক্ষার্থীদের মাঝে কথা-কাটাকাটি হয়। সেখানে একই বিভাগের শিক্ষার্থী তাজউদ্দীন আহমেদ হলের দোলনের সঙ্গে শেখ রাসেল হলের স্বপ্নীল ও অম্লান নামের দুইজনের হাতাহাতি হয়। এরপরে তারা নিজ নিজ হলের শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে আসলে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে একই দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশিদ এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরান পারভেজের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সমস্যা সমাধান করার আশ্বাস প্রদান করেন।
এদিকে সন্ধ্যায় দুই হলের শিক্ষার্থীরা আবারও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে আহত হয় মৎসবিজ্ঞান অনুষদের ২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অভিসহ বেশ কয়জন। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় ঝটিকা হামলা চালায় দুই হলের শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. নওশের ওয়ান বলেন, ডিপার্টমেন্ট এখানে কোনোভাবেই জড়িত না। পিকনিক নিয়ে ছাত্রদের মধ্যে একটা মিটিং চলাকালীন পরস্পরের মাঝে কথা-কাটাকাটি হয়। সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত।
এ সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোববার (২২ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় ডিন অফিসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর, ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক এবং ইংরেজি বিভাগের ডিনসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
