বিসিএস নিয়োগে বড় পরিবর্তনের পথে পিএসসি

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০২:১৬ পিএম


বিসিএস নিয়োগে বড় পরিবর্তনের পথে পিএসসি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) দীর্ঘদিনের জট, ধীরগতি এবং নিয়োগের অনিশ্চয়তা দূর করতে বড় ধরনের সংস্কার ও পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। 

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক বিশেষ প্রতিবেদন পেশের মাধ্যমে পিএসসি এই নতুন পরিকল্পনাগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরে।

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করা নতুন কমিশনের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তৈরি এই প্রতিবেদনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা ফেরানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পিএসসির প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ বা এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিয়োগের মানদণ্ডে বড় পরিবর্তন এনে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০০ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এর বিপরীতে লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। 

প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো কলঙ্কজনক ঘটনা রুখতে পিএসসি নিজস্ব প্রেস স্থাপন ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে, যার ফলে আগে যেখানে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ৬ মাস সময় লাগত, এখন তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরীক্ষার্থীদের আর্থিক বোঝা কমাতে বিসিএস পরীক্ষার আবেদন ফি ৭০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ২০০ টাকা নির্ধারণ করেছে কমিশন। পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম এই সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বলেন, এক সময় পিএসসি প্রায় অকার্যকর একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। 

তিনি জানান, কমিশনের পুরনো ও পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে পিএসসিকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে নতুনভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুততম সময়ে সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পিএসসির এই সংস্কার কার্যক্রম কেবল বিসিএসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং নন-ক্যাডারসহ অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রেও একই ধরনের গতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। 

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের সময় কমিয়ে আনার ফলে চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে। বিসিএস পরীক্ষায় দুর্নীতির ছিদ্রপথগুলো চিরতরে বন্ধ করতে নতুন কমিশন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission