প্রশ্নপত্র ফাঁসে ৫ বছরের কারাদণ্ড, সংসদে বিল পাস

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ , ১১:৩৮ পিএম


প্রশ্নপত্র ফাঁসে ৫ বছরের কারাদণ্ড, সংসদে বিল পাস
ছবি : সংগৃহীত

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি, পরীক্ষার ডেটাবেইসে অননুমোদিত প্রবেশ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের মত অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রেখে একটি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়।

সংসদে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিলের ওপর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের আনা জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি শেষে এটি পাস হয়।

নতুন এই সংশোধনী আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ‘অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নপত্র ফাঁস’ ও ‘ডিজিটাল কারসাজি’র বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। তবে ১৯৮০ সালের বিদ্যমান আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছর থাকলেও নতুন সংশোধনীতে তা কমিয়ে ৫ বছর করা হয়েছে। এখন থেকে যে কোনো উপায়ে প্রশ্ন ফাঁসের সর্বোচ্চ সাজা হবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।

আরও পড়ুন

বিলে ‘ডিজিটাল কারসাজি’র সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষার ডেটাবেইসে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, কোনো তথ্য পরিবর্তন, সংশোধন, মুছে ফেলা বা লুকিয়ে ফেলা এই অপরাধের আওতায় পড়বে। এই অপরাধের জন্যও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ বা প্রবেশের চেষ্টা এবং পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত বৈধ নির্দেশনা অমান্য করলেও একই সাজা ভোগ করতে হবে। কোনো পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে চুক্তি বা চুক্তি করার চেষ্টা করলেও ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া যাবে।

খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম করলে ২ বছরের জেল পরীক্ষার উত্তরপত্র অবমূল্যায়ন বা অতিমূল্যায়নের (ওভার অ্যাসেস) জন্যও সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে এই বিলে। যদি কোনো পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়নে অন্যায্য কিছু করেন, তবে তার সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে তৃতীয় পরীক্ষকের (থার্ড এক্সামিনার) মাধ্যমে বিষয়টি প্রমাণিত হতে হবে। আর কোনো শিশু এই আইনের অধীন অপরাধ করলে তার বিচার হবে ‘শিশু আইন’ অনুযায়ী।

এদিকে প্রশ্ন ফাঁস আইনের পাশাপাশি আজ সংসদে বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বিলটি সংসদে তুললে তা পরীক্ষা করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০০১ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ করা হলেও গত ২৫ বছর তা কার্যকর করা হয়নি। বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে এটিকে শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিজ্ঞান, কলা, আইন, ব্যবসায় প্রশাসন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে পুরোনো আইনটি রহিত করে নতুন এই খসড়া বিলটি আনা হয়েছে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission