দুই শিক্ষক এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের (বাগছাস) তিন নেতার ওপর হামলার ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসানের সাংগঠনিক পদ এক মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের অনুমোদনক্রমে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মাহমুদুলের সাংগঠনিক পদ স্থগিতের কারণ হিসেবে ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ কথা বলা হয়েছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট কারণ সেখানে বলা হয়নি। তবে এদিন বিকেলে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের দুই নেতা এবং একজন সহকারী প্রক্টরকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল ছাত্রদলের যাদের বিরুদ্ধে, মাহমুদুল হাসান তাদের একজন।
জানা গেছে, গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ ভবনের নিচে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রফিক বিন সাদেক রেসাদের ছাত্রলীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে মারধর শুরু করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এসময় বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা ড. এ কে এম রিফাত হাসান এবং সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম রক্ষা করতে গেলে তাদেরকে গালিগালাজ ও হামলা করে ছাত্রদলের নেতকর্মীরা।
একই সঙ্গে শাখা বাগছাস সভাপতি, মুখ্য সংগঠক ও যুগ্ম-আহ্বায়ক যথাক্রমে মো. ফয়সাল মুরাদ, ফেরদৌস হাসান এবং ফারুককে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে তাদের উপরও হামলা ও মারধর শুরু করে তারা। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
ঘটনার বর্ণনায় গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, আমরা সাংগঠনিক আলোচনা করতেছিলাম। হঠাৎ দেখতে পাই, ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন শহীদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় আমাদের সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফারুকের ওপর অতর্কিত হামলা করে।
ফয়সাল মুরাদ আরও বলেন, ফারুক ছাত্রলীগকে শেল্টার দিচ্ছে অভিযোগ করে তার কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে মারধর করে। পরে আমি সেখানে জিজ্ঞেস করতে গেলে তারা আমার অণ্ডকোষে লাথি মারে, ফেরদৌসকেও লাথি দেয়। পরে আবার দ্বিতীয় দফায় তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।
সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম বলেন, হ্যাঁ, আমার গায়ে হাত তুলেছে এটা সত্য। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় আমি অনিশ্চিত। সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই সব পরিষ্কার হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছি। দুইপক্ষ যখন দুদিক থেকে মারামারি করছিল, তখন আমি সহকারী প্রক্টর হিসেবে তাৎক্ষণিক সমাধান করতে গেলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে একজন আমার ওপর হামলা করে। আমি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর স্যারকে জানিয়েছি। লিখিত অভিযোগও দিব আমি।
আরটিভি/এসআর




