কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বেসিন, স্যানিটেশন ও প্লাম্বিং-সংক্রান্ত নানা সমস্যায় ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। কোথাও বেসিন অচল, কোথাও পানির সংযোগ নেই, আবার কোথাও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দুর্গন্ধের কারণে ওয়াশরুম ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার দ্বিতীয় তলার অধিকাংশ বেসিন দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একই চিত্র প্রশাসনিক ভবনের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার কয়েকটি বেসিনেও। এ ছাড়া কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলা এবং বিজ্ঞান অনুষদের প্রথম থেকে চতুর্থ তলার একাধিক বেসিন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের টয়লেট ও বেসিন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব, নষ্ট বেসিন এবং অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ক্যাম্পাসের স্যানিটেশন ব্যবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা এ সমস্যায় বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার দ্বিতীয় তলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের কার্যালয় থাকলেও সেখানকার স্যানিটেশন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে ‘থিয়েটার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়’-এর সভাপতি তন্ময় সরকার বলেন, “ক্যাফেটেরিয়ার দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কক্ষ থাকায় প্রতিদিন এখানে অসংখ্য শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের আনাগোনা থাকে। ফ্লোর, ওয়াশরুম ও বেসিন নিয়মিত পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ধরনের নোংরা পরিবেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।”
বিজ্ঞান অনুষদের সামনে নষ্ট অবস্থায় পড়ে থাকা বেসিনগুলো নিয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাদিরা সুলতানা সানিয়া মল্লিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞান অনুষদের সামনের বেসিন, আয়না ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। করোনাকালে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে ক্লাসের ফাঁকে হাত-মুখ ধোয়া বা নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মতো সাধারণ কাজও ব্যাহত হচ্ছে। বেসিন, আয়না ও অন্যান্য নষ্ট সরঞ্জাম মেরামত বা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়। পরিষ্কার করার পরও অনেকেই আবার নোংরা করে ফেলেন। লোকবল-সংকটের কারণে সব জায়গায় সময়মতো পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। অভিযোগ পেলে আমরা সমাধানের চেষ্টা করি। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।
প্রকৌশল দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইঞ্জি. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী কাজের তালিকা প্রশাসনকে দেওয়া হলেও সীমিত বাজেট ও জনবল-সংকটের কারণে জরুরি কাজগুলোই অল্প অর্থে সম্পন্ন করা হয়। মূলত বাজেট ও জনবল-সংকটের কারণেই এসব সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমাদের পর্যাপ্ত বাজেট ও জনবল থাকলে এসব সমস্যা সহজেই সমাধান করা যেত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে অল্প কিছুদিন আগে যোগ দিয়েছি। সব বিষয়ই দেখার চেষ্টা করছি। তবে কাজের ব্যাপকতা ও প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে একসঙ্গে সবকিছু দেখা সব সময় সম্ভব হয় না।
জনবল নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, জনবল নিয়োগের বিষয়ে ইউজিসির কাছে চিঠি দিয়েছি। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। যোগ্য জনবল যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দিতে হবে। তাই এতে কিছুটা সময় লাগবে।
আরটিভি/টিআর




