চিকিৎসা বিজ্ঞানে অতিরিক্ত রাগ বা ক্রোধের তীব্র ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বহিঃপ্রকাশকে একটি রোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি ‘ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার’ নামে পরিচিত। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এমন একটি বিষয়ে খুব দ্রুত রাগে ফেটে পড়েন, যেখানে আসলে ততটা উত্তেজনা বা প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন থাকে না।
গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বের ১৭টি দেশে পরিচালিত ২৯টি গবেষণা অনুসারে, প্রায় ৫.১ শতাংশ মানুষ তাদের জীবদ্দশায় এই রোগে আক্রান্ত হন। এই ধরনের রাগের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো পরিস্থিতির প্রতি প্রতিক্রিয়াটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা অতিরিক্ত হওয়া।
লেবানিজ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের মনোরোগ বিভাগের প্রধান জোসেলিন আজার জানান, এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা তীব্রভাবে রেগে যাওয়ার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন, কিন্তু রাগের সময় তারা হিংসাত্মক শব্দ বা আচরণ ব্যবহার করতে পারেন।
তবে এই রোগটি প্রায়শই বর্ডারলাইন পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার, বাইপোলার ডিসঅর্ডার বা কেবল ‘নার্ভাস’ প্রকৃতির অংশ বলে ভুলভাবে চিহ্নিত হয়। এই রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে সহজেই খিটখিটে ভাব, উত্তেজনা, অতিরিক্ত চিন্তা করা, বুকে টানটান ভাব, হৃৎস্পন্দন দ্রুত হওয়া এবং শরীরে কাঁপুনি। রাগের বিস্ফোরণের মধ্যে মৌখিক ও শারীরিক সহিংসতা, সম্পত্তি ভাঙচুর বা ধ্বংস করা এবং চিৎকার করা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এই বিস্ফোরক আক্রমণের পরে ব্যক্তি সাধারণত শান্ত ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত বোধ করেন এবং তাদের আচরণের জন্য অনুতপ্ত হন।
মিজ আজার উল্লেখ করেন, যদি তিন মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে দুবার এ রকম রাগের লক্ষণ দেখা দেয়, অথবা ১২ মাসে অন্তত তিনটি গুরুতর আক্রমণ হয়, তবে ধরে নেওয়া যায় এই রোগটি হয়েছে এবং চিকিৎসার প্রয়োজন।
আইইডির কারণ হিসেবে শৈশবের ট্রমা, শোষণ, শারীরিক নির্যাতন, বুলিং শিকার হওয়া এবং পারিবারিক পরিবেশের পাশাপাশি কিছু জৈবিক ও জেনেটিক কারণ থাকতে পারে।
মস্তিষ্কের গভীরে অবস্থিত অ্যামিগডালা নামক অংশটি, যা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে, আইইডিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অতিসক্রিয় থাকে এবং সেরোটোনিন হরমোনের কার্যকারিতার পরিবর্তন হয়। ঘন ঘন রাগের বহিঃপ্রকাশ একজন ব্যক্তির শরীরে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এছাড়াও এটি আন্তঃ ব্যক্তিক সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে এবং আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
চিকিৎসার মধ্যে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT), রিলাক্সেশন এবং ব্রিদিং টেকনিক অন্তর্ভুক্ত। রোগের তীব্রতা বেশি হলে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস এবং মেজাজ স্থিতিশীলতার ওষুধের মতো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরটিভি/এএইচ




