ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

যৌনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে টেস্টোস্টেরন হরমোন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৫, ১০:৩৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত

পুরুষের যৌন বৈশিষ্ট্যর জন্য দায়ী এ টেস্টোস্টেরন হরমোন। পুরুষদের মধ্যে এ হরমোনের হার নারীদের তুলনায় ২০ গুণ বেশি। টেস্টোস্টেরন হরমোন সম্পর্কে আমরা অনেকেই কিছুটা জানি, কিন্তু এই হরমোনটি আমাদের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা জানলে আপনি হয়তো অবাক হবেন। এটি শুধু পুরুষেরই নয়, নারীদেরও শরীরের জন্য অপরিহার্য। তবে, জীবনযাত্রার অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মদ্যপানসহ বিভিন্ন কারণে অনেকের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়।

টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়ার লক্ষণ
টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যাচ্ছে এটির লক্ষন নির্ভর করে বয়সের উপর। বাচ্চা বয়সে যদি টেস্টোস্টেরন হরমোনের অভাব দেখা দেয় তাহলে তার প্রজননতন্ত্রের অঙ্গগুলোর সঠিকভাবে বৃদ্ধি ঘটবে না। বয়সন্ধিকালে এর অভাব দেখা দিলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোম দাড়ি ঠিকমতো উঠবে না এবং মাংসপেশী ও হাড়ের বিকাশ না হওয়ার লক্ষণ গুলো দেখা দিতে পারে। এখন জানবো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার কয়েকটি লক্ষণ –

প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের অন্ডকোষ সাধারণত লম্বায় ৫ সেন্টিমিটার, প্রস্থে ৩ সেন্টিমিটার এবং ওজনে ১০-১৫ গ্রাম হয়ে থাকে। তবে যদি কারো অন্ডকোষের আকার ছোট হয়, তা হতে পারে টেস্টোস্টেরনের ঘাটতির লক্ষণ।

টেস্টোস্টেরন হরমোনের অভাবে পুরুষদের স্তনের আকার বৃদ্ধি পাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে, যাকে গাইনোকোমেশিয়া বলা হয়। এই হরমোনের ঘাটতির ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, কিছু মনে না রাখা, এবং অবসাদগ্রস্ততার মত লক্ষণ দেখা দেয়, যদিও খাওয়া-দাওয়া ঠিকঠাক থাকে।

টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি হলে পেটে চর্বি বেড়ে যায়, হাড় ও মাংসপেশির ঘনত্ব কমে যায়, এবং মাথার চুল পড়ে টাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও বীর্যের পরিমাণ কমে যায় এবং শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত হয়, যার ফলে বীর্য পাতলা হয়ে যায় এবং সন্তান জন্মদানে সমস্যা দেখা দেয়।

লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যাও (ইরেক্টাইল ডিসফাংশন) টেস্টোস্টেরনের অভাবের একটি সাধারণ লক্ষণ। যৌন ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও লিঙ্গ শক্ত হয় না বা ইরেকশন ঠিকভাবে হয় না, এমনকি ঘুমের মধ্যেও ইরেকশন না হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

টেস্টোস্টেরন যৌনজীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই হরমোনের অভাবে যৌন চাহিদা কমে যায়, যার ফলে যৌনমিলনে অনীহা, দ্রুত বীর্যপাত, এবং ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির ব্যায়াম
টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি করতে ব্যায়াম একটি অতি কার্যকরী পদ্ধতি। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বয়স বৃদ্ধির পরেও অনেক বেশি থাকে। টেস্টোস্টেরন শরীরে মাংসপেশি গঠনে সহায়ক, তাই এমন ব্যায়াম করা উচিত যা মাংসপেশি গঠনে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, ওয়েট লিফটিং, স্কোয়াট, ব্রেঞ্জ প্রেস, এবং দৌড়ানো প্রভৃতি ব্যায়াম বেশ উপকারী।

হাই ইনটেন্সিটি ইন্টারভাল ট্রেইনিং (HIIT): এই ধরনের ব্যায়ামও টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধিতে সহায়ক। HIIT ব্যায়াম করতে হলে, সকালে ৬-৭ টার মধ্যে খোলা মাঠে ৩০-৬০ সেকেন্ড জোরে দৌড়াবেন এবং তারপর ১০-২০ সেকেন্ড বিশ্রাম নেবেন। এভাবে পুনরায় দৌড়াবেন। প্রতিদিন অন্তত ৫ মিনিট এই ব্যায়াম করুন। এর সাথে অন্যান্য ব্যায়াম মিলিয়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ব্যায়াম করলে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন: শরীরে টেস্টোস্টেরন এবং অন্যান্য হরমোনের মাত্রা ঠিক রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ মুক্ত থাকা প্রয়োজন। প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা ঘুমের সময় নিশ্চিত করা উচিত।

সুতরাং, সঠিক জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, এবং নিয়মিত ব্যায়াম শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা সঠিকভাবে বজায় রাখতে সাহায্য করে।

যেভাবে প্রতিরোধ সম্ভব:

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, যদি জীনগত কারণে, অণ্ডকোষে ক্ষতির কারণে অথবা হাইপোথ্যালামাস বা পিটুইটারি গ্রন্থিতে আঘাতের কারণে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়, তাহলে তার কোনো চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। তবে কিছু জীবনযাত্রায় কিছু অভ্যাস পরিবর্তন বা সংযোজন করে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখা যায়। এগুলো হলো-স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা,ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা,অতিরিক্ত পরিমাণ অ্যালকোহল পান ও মাদক থেকে দূরে থাকা।

এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি ঠেকাতে হলে দৈহিক ওজন অবশ্যই কমাতে হবে। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত গরম ও রেডিয়েশন থেকে দূরে থাকতে হবে। রেডিয়েশনে কাজ করতে হলে সুরক্ষা পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে যাতে ঝুঁকি কমে যায়।

চিকিৎসা কী?

টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি কমানোর কোনো একক চিকিৎসা নেই। এই হরমোন ঘাটতির চিকিৎসা আসলে উপসর্গ ভিত্তিক। এর মাত্রা ভিত্তিক নয়। তবে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির মাধ্যমে কিছু উপসর্গ কমিয়ে আনা যায়। যেমন যৌন তাড়না, বিষণ্নতার সাধারণ উপসর্গ এবং কাজে উৎসাহে ঘাটতির মতো উপসর্গ কমে আসতে পারে।

আরও পড়ুন

তাই এ ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। কারণ হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বিভিন্ন ধরনের হয় এবং এর অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্বাস্থ্য সচিব ও মহাপরিচালককে ফের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফরকে দুই মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।  জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী মো. সাইদুর রহমানকে তার অবসরোত্তর ছুটি ও তৎসংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত এবং অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো। একই আইনের সম ধরায় দুই মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফরও। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, অধ্যাপক ডা. মো. শাদরুল আলমকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এর আগে তিনি সেন্টার ফর মেডিকেল এডুকেশনের (সিএমই) পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের উপসচিব দূর-রে শাহ্ওয়াজ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। আরটিভি/কেএইচ
স্বাস্থ্য সচিব ও মহাপরিচালককে ফের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ
রোগ তালিকার শীর্ষে উচ্চ রক্তচাপ 
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫’–এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে শীর্ষ ১০টি রোগের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। ওষুধের উৎপাদন ও সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে দেশের সকল কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।  মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিএমএ ভবনে “উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: অগ্রগতি, বাধা এবং করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এই আহবান জানানো হয়। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ২৮ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।  কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে অসংক্রামক রোগ মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী হলেও, এই খাতে বাজেট বরাদ্দ খুবই সামান্য।  বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতে সরকারের মোট অর্থায়নের মধ্যে ৫ শতাংশেরও কম ব্যয় হয় অসংক্রামক রোগ সংক্রান্ত বাজেটে। এই সীমিত বরাদ্দ কার্যকরভাবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। অন্যদিকে, বরাদ্দকৃত অর্থও যথাযথভাবে ব্যবহার হয় না বলে জানানো হয় কর্মশালায়। বক্তারা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সকল কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান নিশ্চিত করা গেলে দেশে উচ্চ রক্তচাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে  কমবে। একইসঙ্গে, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয়ও হ্রাস পাবে। উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে আহ্বান জানানো হয় কর্মশালায়। কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট-এর ডা. গীতা রানী দেবী বলেন, “প্রান্তিক পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। পর্যায়ক্রমে আমরা সকল কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পারবো।” এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানি লিমিটেড-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয় ও বিপণন) মো. রিয়াদ আরেফিন বলেন, “উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ উত্পাদন ও সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখা আমাদের অন্যতম প্রধান একটি অগ্রাধিকার। আশা করি দ্রুতই আমরা সব কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবো।” কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল টুয়েন্টিফোর-এর হেড অব নিউজ অ্যান্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স জহিরুল আলম; জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল। আরটিভি/কেএইচ
রোগ তালিকার শীর্ষে উচ্চ রক্তচাপ 
কিডনি ডায়ালাইসিস যে কারণে দরকার হয়
কিডনি বিকল হওয়ার সর্বশেষ ধাপ বা এন্ড স্টেজ রেনাল ডিজিজ আক্রান্ত রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস একটি জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাপদ্ধতি। যখন একজন মানুষের কিডনি তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ হারিয়ে ফেলে, তখন শরীর থেকে বর্জ্য এবং অতিরিক্ত তরল বের করে দেওয়ার জন্য কৃত্রিম এই উপায়ের প্রয়োজন হয়। মূলত রক্ত থেকে বিষাক্ত ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন এবং বাড়তি লবণ সরিয়ে রক্ত পরিষ্কার রাখাই এর মূল কাজ। কিডনি যখন এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তখন রক্তে বিষাক্ত পদার্থ জমে শরীর ফুলে যাওয়া, প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব এবং দীর্ঘমেয়াদী দুর্বলতার মতো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া বা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে হৃৎস্পন্দনে সমস্যা তৈরি হলে ডায়ালাইসিস ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডায়ালাইসিস প্রধানত দুইভাবে সম্পন্ন করা হয়। হেমোডায়ালাইসিস এবং পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস। হেমোডায়ালাইসিসে একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে শরীরের বাইরের রক্ত পরিষ্কার করা হয়, যার জন্য সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার হাসপাতালে যেতে হয় এবং প্রতিবার প্রায় ৪ ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হয়। আরও পড়ুন আয়রন ঘাটতি: সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের বিষয়ে ভিন্নমত বিজ্ঞানীদের অন্যদিকে, পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস পেটের ভেতরের প্রাকৃতিক পর্দা ব্যবহার করে করা হয়, যা রোগী চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শে নিজ বাসাতেই সম্পন্ন করতে পারেন। তবে ডায়ালাইসিস শুরু করার আগে রোগীর শারীরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি মানসিক ও পারিবারিক প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হাতে ‘এভি ফিস্টুলা’ বা ক্যাথেটার তৈরির ছোট অস্ত্রোপচার এবং দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার মানসিক ধকল সামলাতে পরিবারের সক্রিয় সমর্থন প্রয়োজন। ডায়ালাইসিস একটি চলমান ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা পদ্ধতি হওয়ায় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ থাকতে ডায়ালাইসিসের পাশাপাশি নিয়মিত ওষুধ সেবন, পরিমিত ঘুম এবং হালকা ব্যায়ামের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। শুরুতে কিছুটা দুর্বলতা বা বমি ভাব থাকলেও সময়ের সাথে শরীর এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে ডায়ালাইসিস শুরু করলে এবং খাদ্যতালিকায় পটাশিয়াম ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখলে একজন কিডনি রোগী দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তাই আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই জীবন রক্ষার প্রধান উপায়। আরটিভি/এএইচ
কিডনি ডায়ালাইসিস যে কারণে দরকার হয়
ডেঙ্গুতে আজও দুই জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৪
দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ থামছেই না। সারাদেশে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুইজন মারা গেছেন। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯৪ জন ডেঙ্গুরোগী। রোববার (২১ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আরও পড়ুন শিশুর সর্দি-কাশি নিউমোনিয়া নয় তো ২০২৪ সালে দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। এর আগের বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মারা যান সর্বোচ্চ এক হাজার ৭০৫ জন এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। আরটিভি/এমএ
ডেঙ্গুতে আজও দুই জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৪
ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২৪০
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪০ জন। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৯০ জন এবং বাকিরা ঢাকা সিটির বাইরের। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১ হাজার ২৯৩ জন। এর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৭৭২ জন। মারা গেছেন ৪১০ জন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু এখন সারা বছরই হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলে এটা বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি সব জায়গায় প্রচার চালাতে হবে। একইসঙ্গে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বলছেন, মশানিধনে শুধু জেল-জরিমানা আর জনসচেতনতা বাড়িয়ে কাজ হবে না। সঠিকভাবে জরিপ চালিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী আক্রান্ত এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। আরটিভি/আরএ
ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২৪০
আরও পড়ুন
পুরুষদের যৌন অক্ষমতা ও করণীয়
ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আটক
সমন্বয়ক পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি, প্রধান শিক্ষক আটক
নাবালিকাকে মদ্যপান করিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, ব্যাংককর্মী গ্রেপ্তার