প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে এখনও অজ্ঞতায় অধিকাংশ মা 

আরটিভি নিউজ  

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:৫১ পিএম


প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে এখনও অজ্ঞতায় অধিকাংশ মা 
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে এখনো বড় ধরনের অজ্ঞতা ও অস্পষ্টতায় ভুগছেন অধিকাংশ নারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব ও মানসিকতার সীমাবদ্ধতার কারণে মা ও নবজাতকের জীবনে বাড়ছে ঝুঁকি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভধারণ কোনো রোগ নয়। তবে প্রজননক্ষম বয়সে অর্থাৎ ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের মৃত্যুর একটি বড় অংশ ঘটে সন্তান জন্ম দেওয়ার সময়। দেশে মাতৃমৃত্যুর প্রায় ১৩ শতাংশই এ কারণে হচ্ছে। যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু ও স্বাস্থ্যসেবা জরিপ ২০১৬ অনুযায়ী, প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে ১৯৬ জন মায়ের মৃত্যু হয়। ২০০১ সালে এ হার ছিল আরও বেশি, ২০ শতাংশের কাছাকাছি।

জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ প্রসব এখনো অদক্ষ সহায়তাকারীর হাতে হচ্ছে। যা মা ও শিশুর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি মাত্র ৩ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতে পারে।

আরও পড়ুন

মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, খিঁচুনি এবং দীর্ঘ প্রসব জটিলতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কারণ প্রতিরোধযোগ্য হলেও সচেতনতার অভাবে তা এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

জরিপে গবেষক দলের সদস্য কামরুন নাহার বলেন, প্রতিবারই রক্তক্ষরণ ও খিঁচুনি প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম যথাযথভাবে নেওয়া হচ্ছে না।

প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমুন নাহার বলেন, সন্তান নেওয়ার আগে থেকেই পরিকল্পনা ও সচেতনতা জরুরি। কিন্তু শহর ও গ্রাম দুই জায়গাতেই এই বিষয়ে অবহেলা দেখা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন প্রায় ১৬ জন মা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। বছরে এই সংখ্যা প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার, যার ৯৫ শতাংশই প্রতিরোধযোগ্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, মিডওয়াইফারি সেবা, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী এবং ব্যাপক সচেতনতা বাড়াতে পারলে মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।


সূত্র: বাসস

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission