ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে এখনও অজ্ঞতায় অধিকাংশ মা 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে এখনো বড় ধরনের অজ্ঞতা ও অস্পষ্টতায় ভুগছেন অধিকাংশ নারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব ও মানসিকতার সীমাবদ্ধতার কারণে মা ও নবজাতকের জীবনে বাড়ছে ঝুঁকি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভধারণ কোনো রোগ নয়। তবে প্রজননক্ষম বয়সে অর্থাৎ ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের মৃত্যুর একটি বড় অংশ ঘটে সন্তান জন্ম দেওয়ার সময়। দেশে মাতৃমৃত্যুর প্রায় ১৩ শতাংশই এ কারণে হচ্ছে। যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু ও স্বাস্থ্যসেবা জরিপ ২০১৬ অনুযায়ী, প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে ১৯৬ জন মায়ের মৃত্যু হয়। ২০০১ সালে এ হার ছিল আরও বেশি, ২০ শতাংশের কাছাকাছি।

জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ প্রসব এখনো অদক্ষ সহায়তাকারীর হাতে হচ্ছে। যা মা ও শিশুর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি মাত্র ৩ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতে পারে।

আরও পড়ুন

মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, খিঁচুনি এবং দীর্ঘ প্রসব জটিলতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কারণ প্রতিরোধযোগ্য হলেও সচেতনতার অভাবে তা এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

জরিপে গবেষক দলের সদস্য কামরুন নাহার বলেন, প্রতিবারই রক্তক্ষরণ ও খিঁচুনি প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম যথাযথভাবে নেওয়া হচ্ছে না।

প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমুন নাহার বলেন, সন্তান নেওয়ার আগে থেকেই পরিকল্পনা ও সচেতনতা জরুরি। কিন্তু শহর ও গ্রাম দুই জায়গাতেই এই বিষয়ে অবহেলা দেখা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন প্রায় ১৬ জন মা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। বছরে এই সংখ্যা প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার, যার ৯৫ শতাংশই প্রতিরোধযোগ্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, মিডওয়াইফারি সেবা, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী এবং ব্যাপক সচেতনতা বাড়াতে পারলে মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।


সূত্র: বাসস

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও হাম-সংশ্লিষ্ট উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ শিশু এবং উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৭১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্র থেকে খাবারে মিশছে বিষাক্ত সিসা: গবেষণা
স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্র থেকে খাবারে মিশতে পারে মানবদেহের জন্য বিষাক্ত ধাতু সিসা। বিশেষ করে নতুন পাত্র প্রথম কয়েকবার ব্যবহারের সময় খাবারে সিসার পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ গবেষণায় এ উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্র থেকে খাবারে মিশছে বিষাক্ত সিসা: গবেষণা
শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হার্ট সার্জারি চালু করা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) হার্ট সার্জারি কার্যক্রম চালুর জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৬ সালে এ হাসপাতালে হার্ট সার্জারি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তবে সরকার পরিবর্তনের কারণে তাঁর সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। মরহুম প্রধানমন্ত্রীর সেই অসমাপ্ত উদ্যোগ বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ হার্ট সার্জারি কার্যক্রম চালু করবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অডিটোরিয়ামে কলেজটির ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজটির সাবেক অধ্যক্ষ ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাদশা ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ  সুরাইয়া জেরিন রনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালটিতে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৩৭টি ডায়ালাইসিস মেশিন কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই ডায়ালাইসিস সেবার সক্ষমতা বাড়িয়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এছাড়া নেফ্রোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে একটি মাল্টি-হেড মাইক্রোস্কোপ সরবরাহ এবং হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা আরো ২০টি বাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। সাখাওয়াত হোসেন  বলেন, বগুড়া পুরো উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল।  এ কারণে এখানে ক্যানসার ও লিভারসহ জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাসপাতালের চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি  বলেন, দেশের বড় বড় হাসপাতালগুলোতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫টি হাসপাতালে এই সেবা চালু হয়েছে। বগুড়াসহ যেসব হাসপাতালে এ ব্যবস্থা নেই, সেগুলোকেও পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদের বিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন প্রমুখ।  আরটিভি/এসআর  
শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হার্ট সার্জারি চালু করা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও হাম-সংশ্লিষ্ট উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ শিশু এবং উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৬৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭২ জনে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৯৬ জন। সবচেয়ে বেশি ৫২৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে একই সময়ে হাম ও উপসর্গে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন আরও দুইজন। ফলে এক দিনে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ জনে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ২৫৯ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ লাখ ১ হাজার ১৫৩ জন রোগী। আরটিভি/টিআর
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪৫২
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে মোট ৪৫২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।  একই সময়ে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৫৯৬ জন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫২ জনে। এর মধ্যে অক্টোবর মাসে ১৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা গেছেন। বুলেটিনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৫৯৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭৪ জনে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ জন। আরটিভি/টিআর
ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪৫২
আরও পড়ুন
বয়স বাড়লেও শরীর শক্তিশালী রাখতে নারীদের যে ৩ অভ্যাস জরুরি
প্রেগন্যান্সিতে স্পটিং কি স্বাভাবিক বিষয়?
পুরুষদের প্রজনন সক্ষমতা নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
যোনির ব্যাকটেরিয়ায় বদলে যেতে পারে নারীর স্বাস্থ্য, বলছে গবেষণা