অস্ত্রোপচারে আলাদা হয়ে বাড়ি ফিরেছে রুহি-জুহি

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ২২ আগস্ট ২০২৫ , ০১:০২ এএম


অস্ত্রোপচারে আলাদা হয়ে বাড়ি ফিরেছে রুহি-জুহি
মা-বাবার কোলে দুই বোন রুহি ও জুহি। ছবি: সংগৃহীত

আট মাস আগে প্রায় জুহি ও রুহি দুই যমজ বোন শরীরের পেছন দিকে জোড়া লাগানো অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। সাত মাসের সময় অস্ত্রোপচার হয়। তারা এখন আলাদা আলাদা মানুষ। দুই বোনের বয়স এখন ৮ মাস ২৩ দিন। 

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুই যমজ বোনের একজন বাবা, আরেকজন মায়ের কোলে চড়ে বাড়ি ফিরেছে। 

এর আগে, গত ২৪ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের (ইউনিট-২) অধ্যাপক কানিজ হাসিনার নেতৃত্বে চার ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে তাদের আলাদা করেছেন চিকিৎসকেরা। এই হাসপাতালে জোড়া লাগানো যমজ আলাদা করার সফল হওয়ার তালিকায় চার নম্বরে আছে রুহি ও জুহি।

বিজ্ঞাপন

নীলফামারীর জলঢাকার ওবায়দুল ইসলাম-শিরিনা বেগম দম্পতি আলট্রাসনোগ্রাম করে জানতে পারেন যমজ সন্তানের মা–বাবা হতে যাচ্ছেন তারা। রংপুরে এক ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারে সন্তানদের জন্মের পর দেখা গেল জোড়া লাগানো দুই সন্তান। 

পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে জন্মের ১৪ দিনের মাথায় গত ১২ জানুয়ারি মেয়েদের নিয়ে এই মা–বাবা এসেছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেই থেকে হাসপাতালের একটি কেবিনই ছিল ঠিকানা। হাসপাতালে ভর্তির সময় রুহি ও জুহির দুজনের একসঙ্গে ওজন ছিল ৩ দশমিক ৬ কেজি। রুহি-জুহির পুষ্টি ঠিক রাখাসহ অন্যান্য বিষয় পর্যবেক্ষণে রাখার জন্যই হাসপাতালে রাখা হয়েছিল। সেই অস্থায়ী ঠিকানা ছেড়ে আজ দুই বোন যাচ্ছে দাদার বাড়ি। বিদায়বেলায় জুহির ওজন ছিল সাড়ে ৫ কেজি আর রুহির সাড়ে ৬ কেজি।  

বিজ্ঞাপন

রুহি-জুহির বিদায়ী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক কানিজ হাসিনা বলেন, দুজনের পেছন দিকে মেরুরজ্জু জোড়া লাগানো ছিল (পাইগোপেগাস)। তবে তাদের পায়ুপথ ও যৌনাঙ্গ আলাদা ছিল। অস্ত্রোপচার–পরবর্তী সময়ে প্রস্রাব-পায়খানায় নিয়ন্ত্রণ না থাকা, পা নাড়াতে না পারা, মস্তিষ্কে জটিলতাসহ নানান জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা ছিল। সংক্রমণের ভয় ছিল। তবে তারা এসব ঝুঁকি থেকে আপাতত মুক্ত। তাদের দীর্ঘ মেয়াদে ফলোআপে থাকতে হবে। তাদের অস্ত্রোপচার খালি চোখে দেখে নয়, পোর্টেবল মাইক্রোস্কোপ মেশিন দিয়ে করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিদায়বেলায় গিয়ে রুহি ও জুহির বাবা ওবায়দুল ইসলাম মেয়েদের নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন, সে কথা বলতে গিয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন। আর মা শিরিনা বেগম তার মেয়েদের জন্য সবার কাছে দোয়া চাইলেন।

বিজ্ঞাপন

আরটিভি/কেএইচ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission