ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা চায় হাওরবাসী

হোসাইন তারেক, হাওর ঘুরে এসে

বুধবার, ০৩ মে ২০১৭ , ১১:১৫ পিএম


ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা চায় হাওরবাসী

আগাম বন্যায় তলিয়ে গেছে দেশের হাওরাঞ্চল। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসব এলকার ৯০ লাখ মানুষ। হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে হাওর ভেসে যাওয়ায় শুধু ফসলহানিই নয়, একই সঙ্গে ভেসে গেছে মাছের ঘের, পুকুর ও জলাশয়। উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে বিরাজ করছে হাহাকার।

বিজ্ঞাপন

বোরো ফসল দেশে মোট উৎপাদিত ধানের এক-পঞ্চমাংশের জোগান দিয়ে থাকে। কিন্তু এবারের বন্যায় কোনো ফসলই ঘরে তুলতে পারেনি এ অঞ্চলের মানুষ। ফলে এখন সরকারের দেয়া ত্রাণের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে এ বিশাল জনগোষ্ঠিকে। বিষয়টি তাদের জন্য মোটেও সুখের নয়।

বছরে এক মৌসুমেই হাওরে ফসল উৎপাদন হয়। আর তা দিয়ে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাকিটা বিক্রি করেন তারা। সেখান থেকে যে টাকা আসে তা দিয়ে মেটানো হয় ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা এবং আসছে দিনে বোরো উৎপাদনের বীজ তৈরিসহ সবকিছু। আবার অনেকে স্বপ্ন দেখেন বাড়তি ধান বিক্রির টাকা দিয়ে পরিবারের কোনো সদস্যের বিয়ের ব্যবস্থা বা বিদেশ পাঠানোর।

বিজ্ঞাপন

বোরো ফসল রোপনের পর হাওরের মানুষ নতুন স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। বেশিরভাগ মানুষ ছেলে মেয়ের বিয়ে ও ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করানোর স্বপ্ন দেখেন। অনেকে অভাব দূর করতে সন্তানকে পাঠাতে চান বিদেশে। কিন্তু এবারের বন্যায় তাদের সব স্বপ্ন ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। 

বিজ্ঞাপন

গেলো ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জের শাল্লায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। এসময় তিনি পানিতে তলিয়ে যাওয়া হাওর ঘুরে দেখেন। শেখ হাসিনা সেখানে ১ হাজার জনকে ৩৮ কেজি চাল ও নগদ এক হাজার টাকা করে তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ত্রাণে খুশি হাওরের মানুষ। তবে পরবর্তী সময়ে স্বচ্ছভাবে বিতরণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

ত্রাণ বিতরণকালে শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, আসছে বোরো ফসল ওঠার আগ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও আগামি ফসল উৎপাদনে সার, বীজ ও কীটনাশক দেয়া হবে বিনামূল্যে। যা তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে হাওরের মানুষের দাবি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ত্রাণ যেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে সঠিক ও স্বচ্ছভাবে বিতরণ করা হয়। আসল দুস্থরা যেন ত্রাণ পায়।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা গোবিন্দ কুমার আরটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাওরের মানুষকে খাদ্য ও অর্থ সহায়তার যে ঘোষণা দিয়েছেন তা এ অঞ্চলের মানুষরে জন্য সুখের খবর। কিন্তু তা যেন সুষ্ঠুভাবে বন্টন হয়। আসল দুস্থরা যেন ত্রাণ সহায়তা পায়। তাহলে সরকারের এ উদ্যোগ সফল হবে।

তিনি বলেন, হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য বিতরণ করা ত্রাণ যেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে কার্ড পদ্ধতিতে বিতরণ করা হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডের মেম্বাররা তার নিজ নিজ এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করে। প্রত্যেক পরিবার থেকে একজনকে তালিকাভূক্ত করে ত্রাণ বিতরণ করলে আর কোনো অনিয়ম হবে না।

দিরাইয়ের আরেক বাসিন্দা সুদাংশু মন্ডল বলেন, সঠিক তালিকা করে ফসল হারানো মানুষরে মাঝে যেন ত্রাণ বিতরণ করা হয়। তাহলে সরকারের এ মহৎ উদ্যোগ সফল হবে। না হলে চেয়ারম্যান মেম্বাররা তাদের পছন্দের লোকদের ত্রাণ দিলে ক্ষতিগ্রস্তরা বঞ্চিত হবে সরকারি সহায়তা থেকে।

এইচটি/ এমকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission