ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

এক বছরের পরিকল্পনায় বাশারের পতন ঘটাতে সক্ষম হন সিরিয়ার বিদ্রোহীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:৪৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত

আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল শামস (এইচটিএস) মাত্র ১২ দিনের অভিযানে যেভাবে বাশার আল আসাদের সরকারের পতন ঘটিয়ে সিরিয়ার ক্ষমতা দখলে সক্ষম হয়েছে, সেটি মূলত তাদের দীর্ঘ এক বছরের পরিকল্পনার ফসল। সদ্যই সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সশস্ত্র এ গোষ্ঠীটির সামরিক শাখার সাবেক প্রধান আবু হাসান আল-হামউই’র এক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।

সাক্ষাৎকারে গার্ডিয়ান প্রতিনিধিকে হামউই জানান, ২০১৯ সালে সিরীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী সরকার বিরোধীদের লক্ষ্য করে যে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছিল, সে সময় তারা সর্বপ্রথম সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে একটি বড় ত্রুটি শনাক্ত করতে সক্ষম হন। আর সেই ত্রুটি ছিল তাদের মধ্যে যথাযথ নেতৃত্বের অভাব।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাবা হাফিজ আল আসাদের মৃত্যুর পর ২০০০ সালে সিরিয়ার ক্ষমতায় বসেন বাশার আল আসাদ। পরবর্তী এক দশক তেমন কোনো ঝামেলা ছাড়াই যোগ্য উত্তরসূরীর মতো শাসনভার সামলান তিনি। কিন্তু ২০১১ সালে আরব বসন্তের হাওয়ায় গণতন্ত্রের দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয় সিরিয়ায়। এক পর্যায়ে তা সরকার পতন আন্দোলনের দিকে মোড় নিতে থাকে। আল-কায়দা এবং অন্যান্য ইসলামপন্থি কয়েকটি গোষ্ঠীও এই আন্দোলনে তৎপরতা শুরু করে। মূলত সিরিয়ার সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকেই ২০১২-১৩ সালের দিকে জন্ম নেয় আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এমন অবস্থায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার পথ বেছে নেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। এর জেরে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় সিরিয়ায়।

২০১৬ সাল থেকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী ও বিদ্রোহী যোদ্ধাদের দমনে জোরেশোরে অভিযান শুরু করে সিরিয়ার সেনাবাহিনী, রুশ বাহিনী, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের সেনবাহিনী। এই যৌথ বাহিনীর ওপর ভর করেই সে বছর বিদ্রোহীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নেন বাশার। আর আলেপ্পো হাতছাড়া হওয়ার পর সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ইদলিবের দিকে সরে যেতে থাকেন বিদ্রোহীরা। ২০১৭ সালে সেখানেই গঠিত হয় এইচটিএস বা হায়াত তাহরির আল শামস।

দ্য গার্ডিয়ানকে আবু হাসান আল-হামউই বলেন, আমরা দীর্ঘদিন পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ হতে পারিনি। এটি ছিল আমাদের আন্দোলনের প্রধান দুর্বলতা এবং স্বৈরাচারি সরকারের টিকে থাকার প্রধান ভিত্তি। তাই যখন আমরা বুঝলাম যে আন্দোলনকে সফল করতে হলে যথাযথ নেতৃত্ব লাগবে এবং সবাইকে এক ছাতার নিচে আনতে হবে— তখন থেকেই সেই অনুযায়ী আমরা কাজ শুরু করলাম।

এইচটিএস সামরিক শাখার সাবেক এই প্রধান জানান, আলেপ্পো হারানোর পর সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী এবং বিভিন্ন ইসলামপন্থি গোষ্ঠীর প্রধান ঘাঁটি বা ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠে ইদলিব এবং দক্ষিণ সিরিয়া। সেখানেই ‘ইউনিফায়েড ওয়ার রুম’ নামের একটি জোট গঠন করে এইচটিএস। হায়াত তাহরির আল শামস ছাড়াও সেই জোটের সদস্য ছিল ২৫টি সমস্ত্র ইসলামপন্থি গোষ্ঠী।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে গঠিত হয় এই জোট, কিন্তু সে সময় সরকারপতন অভিযান বা এই সংক্রান্ত পরিকল্পনা করার মতো বাস্তব পরিস্থিতি ছিল না। যৌথ বাহিনীর বিধ্বংসী অভিযানের মুখে টিকে থাকাটাই তখন ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে, পরিস্থিতি বদলাতে থাকে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে। গাজা উপত্যায় ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ অভিযান শুরু হওয়ায় সিরিয়া থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বাশারের অন্যতম বিশ্বস্ত মিত্র ইরান। তার আরেক গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বস্ত মিত্র রাশিয়া এর অনেক আগে থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। মূলত, এই সুযোগটাই কাজে লাগায় সশস্ত্র বিদ্রোহীরা।

গার্ডিয়ানকে হামউই জানান, নভেম্বরে সিরিয়ার দুই প্রধান মিত্রের মনোযোগ সরে যাওয়ার পর থেকেই তারা সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরিকল্পনা শুরু করেন।

তিনি বলেন, আমরা পরিকল্পনার শুরুর দিকে একটি ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পেরেছিলাম; সেটি হলো— আমাদের সবার আগে আলেপ্পোর দখল নিতে হবে। কারণ অতীত ইতিহাস এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে যতক্ষণ পর্যন্ত আলেপ্পোর পতন না ঘটবে, ততক্ষণ দামেস্কের পতন সম্ভব নয়। এছাড়া আমাদের সামনে আর একটি চ্যালেঞ্জ ছিল তেহরান এবং মস্কোর সমরাস্ত্র। যে উন্নত প্রযুক্তির সমরাস্ত্র তারা সিরিয়ার সেনা বাহিনীকে দিয়েছিল, সেসব আমাদের ছিল না। এ অবস্থায় অন্যান্য সমরাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন, বিশেষ করে সুইসাইড ড্রোন তৈরির দিকে আমরা বিশেষ মনোযোগী হই এবং শাহীন নামে একটি সুইসাইড ড্রোনও প্রস্তুত করি।

হামউই বলেন, শাহীনের অর্থ আরবের বাজপাখি। মাত্র ১২ দিনের অভিযানে আমরা দামেস্ক দখল করতে সক্ষম হয়েছি এবং এক্ষেত্রে আক্ষরিক অর্থেই শিকারী বাজপাখির মতো আমাদের সহায়তা করেছে শাহীন।

আরটিভি/এসএইচএম/এস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দেশটির সিউল ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্তের দায়িত্বে থাকা দ্য করাপশন ইনভেস্টিগেশন অফিস ফর দ্য হাই-র‌্যাঙ্কিং অফিশিয়ালস (সিআইও) নিশ্চিত করেছে, সামরিক আইন জারিকে কেন্দ্র করে তদন্তকারীদের অনুরোধে প্রেসিডেন্ট ইউনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে সিউল ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট।   স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলো।   প্রসঙ্গত, ৩ ডিসেম্বর দেশে সামরিক আইন জারি করেছিলেন ইউন। কিন্তু জনগণ এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানালে সামরিক আইন জারির ছয় ঘণ্টার মাথায় তা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। এর জেরে ১৪ ডিসেম্বর পার্লামেন্টে তিনি অভিশংসিত হন। তাকে বরখাস্ত করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
ভারতীয় ভিসা বন্ধে ভ্রমণ খাতে বিরূপ প্রভাব 
বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা বন্ধের জেরে যশোরের বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে দুই দেশের মধ্যে একেবারে কমেছে পাসপোর্টধারী যাত্রীর চলাচল। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে উভয় দেশের ভ্রমণ খাতে। বাংলাদেশের ক্ষতির পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পে অচলাবস্থা নেমে এসেছে।   সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে ভারতে গেছেন ১৪৭১ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী। এর মধ্যে বাংলাদেশি ছিলেন ১ হাজার ১৯৪ জন, ভারতীয় ২৭৪, জাপানের ২ ও একজন নেপালের পাসপোর্টধারী ছিলেন। এছাড়া খুলনা-কলকাতা রুটে ‘বন্ধন’ রেলে যাত্রীসেবা এখনও বন্ধ থাকায় নিরাপদ যাতায়াতে বেড়েছে ভোগান্তি। তবে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভিসা সীমিত ও দু’দেশের মধ্যে রেলপথে যাত্রী সেবা বন্ধ করে দেয় ভারত।   সূত্রমতে, যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ যান চিকিৎসা ও দর্শনীয় স্থান ভ্রমণে। অন্যদিকে, যেসব ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে আসেন, তাদের একটি বড় অংশ আসেন কম খরচে মেডিকেল শিক্ষার জন্য। বর্তমানে দেশের ১০৮টি মেডিকেল কলেজে ১০ হাজারের বেশি বিদেশি অধ্যয়নরত, যাদের বেশিরভাগ ভারতীয়। এছাড়া ট্যুরিস্ট ও ওয়ার্ক ভিসায় দেশে প্রায় ১০ লাখের মতো ভারতীয় চাকরি করছেন।  বাংলাদেশ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলেও নানান অজুহাত দেখিয়ে এখনও স্বাভাবিক ভিসা প্রদান ও রেল পথে বেনাপোল-পেট্রাপোল হয়ে যাত্রী সেবা বন্ধ রেখেছে ভারত সরকার। এতে একদিকে ভিসা না পেয়ে যাত্রী যাতায়াত যেমন কমে এসেছে, তেমনি স্বাভাবিক সময়ে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর ব্যবহার করে দুদেশের মধ্যে ৮ থেকে ১০ হাজার পাসপোর্টধারী যাতায়াত করলেও এখন তা কমে দেড় হাজারের ঘরে নেমেছে।  সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রে দুই দেশেই ক্ষতির শিকার হচ্ছে। কেবল বেনাপোল রুটে ভ্রমণ খাতে ভিসা ফি বাবদ বাংলাদেশিদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় করে থাকে ভারতীয় দূতাবাস। তবে এখনও ‘বন্ধন’ রেল পরিষেবা বন্ধ থাকায় এ পথে যাতায়াতকারী পাসপোর্টধারীদের ভোগান্তি বেড়েছে।  বিষয়টি নিশ্চিত করে বেনাপোল স্থলবন্দর প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ইনচার্জ আব্দুল হাফিজ জানিয়েছেন, ভিসা স্বাভাবিক না থাকায় যাত্রী একেবারে কমে এসেছে। আরটিভি/কেএইচ
ভারতীয় ভিসা বন্ধে ভ্রমণ খাতে বিরূপ প্রভাব 
হাসপাতালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার (২৯ ডিসেম্বর) তার প্রস্টেট অপসারণের অস্ত্রপচার হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অস্ত্রপচার সফল হয়েছে এবং তিনি ভালো আছেন। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের হাদাসাহ মেডিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জ্ঞান ফিরেছে, তিনি ভালো আছেন। শনিবার নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক ঘোষণায় জানিয়েছে যে, তিনি মূত্রনালীর সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। গত মার্চে নেতানিয়াহুর হার্নিয়ার অস্ত্রপচার হয়েছিল। এর আগে, গত ২৩ ডিসেম্বর দুর্নীতি মামলায় নিজের বক্তব্য পেশ করতে আদালতে হাজির হয়েছিলেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন অবস্থায় ফৌজদারি অপরাধের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করছেন তিনি। এদিকে গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫ হাজার ৫১৪ জনে পৌঁছেছে বলে রোববার অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। চলমান এই হামলায় আরও অন্তত এক লাখ ৮ হাজার ১৮৯ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে ৩০ জন নিহত এবং আরও ৯৯ জন আহত হয়েছেন।   আরটিভি/এস
হাসপাতালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে ৩০ জন নিহত এবং আরও ৯৯ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন। গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত এক লাখ ৮ হাজার ১৮৯ জন। এ ছাড়া দখলদারদের হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। উল্লেখ্য, ইসরায়েল ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। আরটিভি/আরএ
ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। স্থানীয় সময় রোববার (২৯ ডিসেম্বর) জিমি কার্টার সেন্টার এক বিবৃতি এই তথ্য জানিয়েছে। খবর এনবিসি নিউজের। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন কার্টার। কার্টার এক মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জর্জিয়ায় নিজ শহর প্লেইনসে জীবনের শেষ সময়ের সেবাযত্নে ছিলেন। এনবিসি নিউজের তথ্যমতে, জিমি কার্টারই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি তার ১০০তম জন্মদিনে পৌঁছেছিলেন।  যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিদিন বাঁচা প্রেসিডেন্ট কার্টার। ২০০২ সালে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন তিনি। কার্টারের যাত্রা শুরু হয়েছিল জর্জিয়ার প্লেইন্সের ছোট্ট শহরে। তিনি সেখানে ১ অক্টোবর, ১৯২৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে একজন অফিসার হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের পারমাণবিক সাবমেরিন বহরের উন্নয়নে সহায়তা করেছিলেন। নৌবাহিনীতে একজন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পরকার্টার পারিবারিক চিনাবাদাম চাষের ব্যবসা চালানোর জন্য ১৯৫৩ সালে তার নিজ শহরে ফিরে আসেন। তিনি ১৯৬০-এর দশকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত রাজ্যের ৭৬তম গভর্নর হওয়ার আগে জর্জিয়ার বিধায়ক হিসাবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্টার, একজন ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান ক্ষমতাসীন জেরাল্ড ফোর্ডের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যিনি ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে রিচার্ড নিক্সন পদত্যাগ করার পরে রাষ্ট্রপতির পদে অভিষিক্ত হন। কার্টার ফোর্ডকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট হন। আরটিভি/একে
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন
আরও পড়ুন
কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সরকার পতন
বিএনপি লড়াই করেছে বলেই ছাত্ররা ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাতে পেরেছে: মির্জা ফখরুল
সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্র হতে দেওয়া যাবে না: এরদোয়ান
জার্মানিতে ওলাফ শলৎসের সরকারের পতন