আদালতে যা বললেন সোহাগ হত্যা মামলার আসামি টিটন

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫ , ০৭:১৯ পিএম


আদালতে যা বললেন সোহাগ হত্যা মামলার আসামি টিটন
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় সোহাগ নামে এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মো. টিটন গাজীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার (১২ জুলাই) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ গিয়াসের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে শুনানি শুরু হলে বিচারক আসামি টিটন গাজীকে জিজ্ঞাসা করেন আপনি কিছু কি বলতে চান?

তখন তিনি বলেন জি স্যার, আমার কোনো আইনজীবী নেই। আপনি (বিচারক) যে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখেছেন, সেখানে আমাকে দেখা যাচ্ছে। আমি কাউকে আঘাত করেনি। আমাকে মোবাইলে ফোন করে ডাকা হয়েছিল। ফোন পেয়ে সেখানে যাই। আমি কাউকে আঘাত করিনি। ভিকটিমকে আঘাত করার জন্য হুকুমও দেয়নি। আমি শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমি নির্দোষ স্যার। পরে বিচারক শুনানি শেষে আসামির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন

এর আগে, কোতোয়ালী থানার জিন্দাবাহার এলাকা থেকে শুক্রবার রাত ১টার দিকে টিটন গাজীকে (৩৩) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ নিয়ে এ মামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত ৯ জুলাই বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সোহাগকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পুরো দৃশ্য ধরা পড়ে সিসিটিভি ফুটেজে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি সোহাগকে প্রথমে নির্মমভাবে মারধর করে, পরে কুপিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর দুই যুবক তার নিথর দেহ রাস্তায় টেনে নিয়ে এসে একের পর এক লাথি, ঘুষি ও বুকের ওপর লাফিয়ে বর্বরতা চালায়। পরে তার মাথা ও শরীরের ওপর ছোড়া হয় বড় বড় পাথর। ঘটনার সময় শত শত মানুষ আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।

এ ঘটনায় নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত সোহাগ মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে পুরোনো বৈদ্যুতিক কেবল কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। ওই এলাকায় বিদ্যুতের তামার তার ও সাদা তারের ব্যবসার একটা সিন্ডিকেট রয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণ ছিল সোহাগের হাতে। তবে, এর নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া ছিল মহিন ও টিটু নামে আরও দুজন। তারা বাণিজ্যের ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিল। তা না হলে নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল তারা। এর জেরেই দ্বন্দ্ব শুরু হয়। 

আরটিভি/আরএ -টি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission