রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানার সন্তানদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি পৃথক মামলার রায় ঘোষণা করা হবে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি)।
দুই মামলাতেই শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানার আরেক মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ ১৪ জন আসামি। তাদের ছাড়াও আজমিনার বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির তালিকায় আরও ৩ জন এবং রাদওয়ানের বিরুদ্ধে করা মামলায় আরও ৩ জন রয়েছেন।
গত ১৩ ও ১৮ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম পৃথক এই দুই মামলায় রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেন।
মামলা দুটির অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরও তা গোপন করেছেন। এর ফলে প্লট বরাদ্দে আইন, বিধি, নীতিমালা ও আইনানুগ পদ্ধতি লঙ্ঘন হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রভাবিত করেছেন। মামলার আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে ও অন্যকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ১০ কাঠা করে প্লট তাদের নামে বরাদ্দ দেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। মামলায় টিউলিপ, শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ মার্চ আরও দুই আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ৩১ জুলাই ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এরপর ১৩ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় এ বছরের ৫ জানুয়ারি। মামলায় মোট ৩১ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৩ জানুয়ারি রায় ঘোষণার তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেন।
এ মামলায় আজমিনা ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন শেখ হাসিনা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। তাঁদের মধ্যে কেবল খুরশীদ আলম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
আরটিভি/এস




