ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এতে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন সাবেক সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিভূতি ভূষণ রায়।

বাকি সাজা প্রাপ্তদের মধ্যে বেরোবির শিক্ষক মশিউর রহমান ও শিক্ষক আসাদুজ্জামান মন্ডল, বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদ ও রংপুরের মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামানের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ডা. সারোয়াত হোসেন, রংপুরের মহানগর পুলিশের সাবেক এডিসি আবু মারুফ হোসেন, রংপুরের মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ও বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বেরোবি ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, সহসভাপতি ফজলে রাব্বী, সহসভাপতি আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ও দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বহুল আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ২০২৫ সালের ২৪ জুন। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ জুন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। ওই দিনই অভিযোগটি আমলে নিয়ে ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর শুনানি করেন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এরপর ৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয়া হয়। সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় ২৭ আগস্ট। এর পরদিন থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহিদ আবু সাঈদের বাবা মুকুল হোসেন।

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা সাক্ষ্যগ্রহণের সমাপ্তি ঘটে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। এ সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনসহ মোট ২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে। তাদের মধ্যে অন্যতম সাক্ষী হাসনাত আবদুল্লাহ। যিনি জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। তার সাক্ষ্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো স্পষ্ট করতে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০ জানুয়ারি শুরু হয় যুক্তিতর্ক, যা চলে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। ওই দিন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। পরে ৫ মার্চ রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ঘোষণা হয়েছে আলোচিত এ মামলার রায়।

আরও পড়ুন

এদিকে, রায় ঘোষণা ঘিরে ট্রাইব্যুনালের আশপাশ এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তৎপর রয়েছেন পুলিশ-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

এর আগে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে ঢোকার সময় আবু সাঈদের মেজো ভাই আবু হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আজ এ মামলার রায় হবে। আমরা চাই আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি হোক। আর এখনও যারা পলাতক রয়েছেন, তাদের দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তার করে যে রায় হবে তা যেন কার্যকর করে সরকার।

বড় ভাই রমজান আলী বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট। দেখা যাক রায় কি হয়। আমাদের পরিবার থেকে চাওয়া আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের যেন সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড হয়।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জামালপুরে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় ৪ জনের সাজা
জামালপুরে পৃথক অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন এবং আরও দুই আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
জামালপুরে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় ৪ জনের সাজা
বিবস্ত্র অবস্থায় দৌড়ে বাড়ি ফেরে বাকপ্রতিবন্ধী শিশু, যে সাজা পেলেন শহিদুল 
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বাকপ্রতিবন্ধী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় শহিদুল ইসলাম নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিবস্ত্র অবস্থায় দৌড়ে বাড়ি ফেরে বাকপ্রতিবন্ধী শিশু, যে সাজা পেলেন শহিদুল 
সাবেক এমপি জাফর আলম কারাগারে
পৃথক দু’টি মামলায় যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মো. জাফর আলমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। 
সাবেক এমপি জাফর আলম কারাগারে
রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন নজরুলপত্মী মাকছুদা, আটকে রাখার আবেদন
আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলাম।  মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা আদালতকে জানিয়েছেন তিনি। আবেদনে ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছেন, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্তে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এ বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম। রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের একদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম। এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন। এর মধ্যে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন।  সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ। তিনি এজাহারে লিখেছেন, লাশ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার ওপরে তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান। আরটিভি/এসআর
রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন নজরুলপত্মী মাকছুদা, আটকে রাখার আবেদন
টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মুনিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বক্স খাটের নিচে লুকিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর মামলায় স্বামী মুস্তাককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার অপরাধে আরও ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
আরও পড়ুন
গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক ‘শহীদ বীর আবু সাঈদ’: রাশেদ খান
শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ডের নামফলক বহাল, বিসিবির বার্তা
‘আবু সাঈদ সংখ্যাটি ইতিহাসে একটি দলিল হয়ে থাকবে’
পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে জুলাই শহিদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি