ভিক্ষাবৃত্তি করাতে শিশুর গোপনাঙ্গ বিচ্ছিন্ন, এরপর যা ঘটল

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ , ০৯:৩৪ এএম


ভিক্ষাবৃত্তি করাতে শিশুর গোপনাঙ্গ বিচ্ছিন্ন, এরপর যা ঘটল
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে এক শিশুর গোপনাঙ্গ বিচ্ছিন্ন করার নির্মম ঘটনার ১৬ বছর পর সেই ভুক্তভোগীকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে র‌্যাব-১ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এলিনা খানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাব-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপস অ্যান্ড মিডিয়া) শাহ আলম জানান, ২০১০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, তখন ভুক্তভোগীর বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান আলীসহ পাঁচজন তাকে অপহরণ করে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করার জন্য ব্লেড দিয়ে তার গোপনাঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে এবং গলা, পেট ও মাথায় গুরুতর আঘাত করে।

ঘটনার পর শিশুটির বাবা উমেদ আলী কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্তে র‌্যাব মূল আসামিসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

হাইকোর্টের নির্দেশে ভুক্তভোগীকে র‌্যাবের জিম্মায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে দুই মাস চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফেরেন।

২০১১ সালের ১৫ মে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২ এপ্রিল ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

পরবর্তীতে ৯ এপ্রিল আদালত ভুক্তভোগীকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরলেন ভুক্তভোগী।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission