ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিভৎস বর্ণনা দিলেন তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তদন্তকালে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও বিভিন্ন বস্তু আদালতে প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলের বিভৎস বিবরণ দিতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় এসব আলামত উপস্থাপন করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তে জব্দ করা বিভিন্ন আলামত সাক্ষীদের মাধ্যমে শনাক্ত করানো হয় এবং সেগুলো আদালতের নথিভুক্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
সাক্ষ্যগ্রহণের এক পর্যায়ে প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ সাক্ষীদের একজন এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইকবাল হোসেন আদালতে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, আলামত সংগ্রহ এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট বিষয় বর্ণনা করেন। রামিসার হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং কিছু সময়ের জন্য তার বক্তব্য থামিয়ে দিতে হয়।

সকালে শুরু হওয়া সাক্ষ্যগ্রহণে মামলার প্রত্যক্ষদর্শী, ঘটনা সংশ্লিষ্ট, তদন্ত ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সাক্ষীরা আদালতে জবানবন্দি দেন। বিকেল ৩টা পর্যন্ত মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

মামলার বাদী ও নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা প্রথম দিকের সাক্ষীদের একজন হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন। এছাড়া, সাক্ষ্য দেন শিশুটির মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, প্রতিবেশী শেখ আবু সামা, মো. মনির হোসেন এবং মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম ওরফে রাজুসহ অন্যান্য সাক্ষীরা।

শিশু সাক্ষী হওয়ায় রামিসার বড় বোনের বক্তব্য আদালত ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে নেন। পরে তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা, সুরতহাল ও জব্দ তালিকার সাক্ষী এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

আরও পড়ুন

আদালত সূত্রে আরও জানা গেছে, মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষী রয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত হন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে উপস্থিত সাক্ষীদের সাক্ষ্য একদিনেই সম্পন্ন করার চেষ্টা হচ্ছে।

এর আগে, সোমবার (১ জুন) একই ট্রাইব্যুনাল দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরদিনই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

সাক্ষ্যগ্রহণের বর্তমান পর্যায়ে প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য, জব্দ আলামত, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের জবানবন্দি আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার প্রমাণ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব আলামত ও সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা গ্রেপ্তার
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা গ্রেপ্তার
বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা: ৮ ডিসেম্বর আপিলের চূড়ান্ত শুনানি
২০১২ সালে পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল শুনানি আগামী ৮ ডিসেম্বর।
বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা: ৮ ডিসেম্বর আপিলের চূড়ান্ত শুনানি
সুপ্রিম কোর্টে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া সোমবার
সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিচারপ্রার্থীদের অগ্নি নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) একটি ফায়ার ড্রিল ও প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপণ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খোকন হোসেন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিচারপ্রার্থীদের অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদে সরে যাওয়ার দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্ট কম্পাউন্ড, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ১৯ অক্টোবর সকাল ১১ টায় একটি ফায়ার ড্রিল ও প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপণ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। আরটিভি/টিআর
সুপ্রিমকোর্টে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া সোমবার
সংসদ ভবনের সামনে হ্যাঁচকা টানে প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যু, ছিনতাইকারীর জামিন
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী এ আদেশ দেন।
সংসদ ভবনের সামনে হ্যাঁচকা টানে প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যু, ছিনতাইকারীর জামিন
আবরার ও মেজর সিনহা হত্যাসহ আলোচিত তিন মামলার আপিল শুনানির দিন ধার্য
নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যা ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলাটি আগামী ১৭ নভেম্বর, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলাটি ২৪ নভেম্বর এবং মেজর সিনহা হত্যা মামলাটি ১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। রোববার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল। নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলা: ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের লিংক রোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে অপহরণ করা হয়। বিষয়টি দেখে ফেলায় অপহরণের শিকার হন আইনজীবী চন্দন সরকার ও তাঁর গাড়িচালক মো. ইব্রাহিম। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ, পরদিন পাওয়া যায় আরেকটি লাশ। নজরুল, চন্দন ও ইব্রাহিম ছাড়া হত্যার শিকার অন্য ব্যক্তিরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম। ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত সাত খুনের মামলায় র‌্যাব-১১-এর সাবেক তিন কর্মকর্তা (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) লে. কর্নেল তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন, কমান্ডার এম এম রানা, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন দণ্ডিত ব্যক্তিরা। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল ও অপর ১১ আসামির দণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া ৯ আসামির দণ্ড বহাল থাকে। দণ্ডিত তারেক সাঈদ, নূর হোসেনসহ মামলার বেশ কয়েকজন আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন। মেজর সিনহা হত্যা মামলা: ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি বিচারিক আদালত এই মামলার মোট ১৫ জন আসামির মধ্যে দুই জনকে মৃত্যুদণ্ড, ছয় জনকে যাবজ্জীবন ও সাত জনকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। সে রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন, টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাগর দেব, রুবেল শর্মা, পুলিশের সোর্স নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দীন। ২০২৫ সালের ২ জুন হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা: ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নির্মম সে হত্যায় জড়িতদের সবাই ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন) নেতা-কর্মী। আলোচিত এই হত্যা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারিক আদালতের রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।  ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৫ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন মেহেদী হাসান (রাসেল), মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান (রবিন), ইফতি মোশাররফ, মো. মনিরুজ্জামান, মো. মেফতাহুল ইসলাম, মো. মাজেদুর রহমান, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল (জেমি), মো. শামসুল আরেফিন, মো. মিজানুর রহমান, এস এম মাহমুদ, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ। হাইকোর্টের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা ও ইশতিয়াক আহমেদ। আরটিভি/টিআর
আবরার ও মেজর সিনহা হত্যাসহ আলোচিত তিন মামলার আপিল শুনানির দিন ধার্য
আরও পড়ুন
টেক্সাসে প্রতিবেশীকে হত্যায় দণ্ডিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ৭ বছরেই মুক্ত
ম্যাসাচুসেটসে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য, কাঠগড়ায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা
পেনসিলভানিয়ায় গুলিতে পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, আহত আরেকজন
থানা থেকে পালিয়েছেন মাদকের আসরে ধরা পড়া সেই পুলিশ কর্মকর্তা