রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

আরটিভি নিউজ  

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬ , ১১:৫০ এএম


রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন আসামিপক্ষ থেকে করা হয়নি। এতে প্রমাণিত হয় যে সোহেল স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। আর তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর স্বামীকে পালাতে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন।

এর আগে আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে আসামি স্বপ্না খাতুনকে এবং সকাল ৮ টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন হলো।

আরও পড়ুন

আদালত সূত্র জানায়, গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। পরদিন ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন আদালত। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও তা আদালতে টেকেনি।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হয়। এ সময় প্রতিবেশী স্বপ্না খাতুন কৌশলে শিশুটিকে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির ভেতরে কাটা মাথা দেখতে পান তারা।

পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পল্লবী থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই নৃশংস ঘটনার পরদিন ২০ মে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission