‘পুরোপুরি সুস্থ’ শিবিরের সেই নেতাকে নেওয়া হলো আদালতে 

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ০৪:৫৪ পিএম


‘পুরোপুরি সুস্থ’ শিবিরের সেই নেতাকে নেওয়া হলো আদালতে 
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার (গর্ভপাত) অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়াকে সুস্থ ঘোষণার পর হাসপাতাল থেকে আদালতে নেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিশেষ মেডিকেল বোর্ড জিসান পুরোপুরি সুস্থ বলে ছাড়পত্র দেওয়ার পর তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল থেকে সরাসরি আদালতে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. বারী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিকিৎসকের আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র পাওয়ার পর জিসানকে হাসপাতাল থেকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে গ্রেপ্তার জিসানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সুস্থতা ও অসুস্থতার বিতর্ক এড়াতে রোববার কুমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। 

কুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান জানান, মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জিসানের বেশ কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় তার অসুস্থতার কোনো প্রমাণ না মেলায় এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ প্রমাণিত হওয়ায় মঙ্গলবার তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ (ছাড়পত্র) দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই বিধবা নারীর সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে জিসান মিয়ার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের এক পর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে গত ১২ জুন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার আগের দিন ১১ জুন রাতেই জিসান এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। 

গত শুক্রবার (১২ জুন) রাতে জেলার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে জিসান মিয়াকে প্রধান আসামি এবং ধর্ষণের সহায়তার অভিযোগে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর জিসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

অভিযুক্ত জিসান মিয়া দাউদকান্দি উপজেলার বীরবাগ গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। এই ঘটনার পর বিবাহবহির্ভুত সম্পর্কের দায়ে জিসানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. আ. বারী জানান, এই মামলায় জিসান মিয়া ছাড়াও অপর তিন সহযোগী আসামি সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীবকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ওই নারীকে জিসানের ধর্ষণে সহায়তা এবং ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission