ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশে ফেরানো ঠেকাতে দুবাইয়ে নিজের নামেই মামলা করালেন বেনজীর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত

যেকোনো‌ উপায়ে নিজের বাংলাদেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া ঠেকাতে মরিয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি দুবাইয়ে ঘনিষ্ঠ একজনকে দিয়ে নিজের নামে মামলা করিয়েছেন তিনি। এতে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

দুবাইয়ের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এটি মূলত বেনজীরের বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ ঠেকানোর প্রচেষ্টার অংশ।

এ বিষয়ে বেনজীর আহমেদের আইনি বিষয় দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। তার দাবি, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নিজের লোক দিয়ে তার নামে মামলা করানোর তথ্য সঠিক নয়।

এদিকে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুবাইয়ে যাওয়া ঢাকার প্রতিনিধিরা সেখানে ইন্টারপোলসহ বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

যেকোনো মূল্যে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চান তারা। মূলত ঢাকার প্রতিনিধিদের এই দৌড়ঝাঁপের বিষয়টি টের পেয়েই আইনি ফন্দি আঁটেন বেনজীর।

দুবাইয়ের একজন ব্যবসায়ী জানান, বেনজীর আহমেদের আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। বরং তার প্রত্যর্পণ ঘিরে নতুন করে আইনি ও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই দুবাইয়ে একটি দেওয়ানি ও ব্যক্তিগত আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত অভিযোগে নতুন মামলা হয়েছে।

ওই ব্যবসায়ীর মতে, এই আইনি পদক্ষেপের লক্ষ্য বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ থামিয়ে দেওয়া। কেননা, দুবাইয়ে কারও বিরুদ্ধে আর্থিক বা সম্পত্তি-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে তাকে ফেরত দেওয়ার সুযোগ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনে নেই।

আরও পড়ুন

ফলে এই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে গণমাধ্যম।

তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণপ্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি অনেক সময় স্থানীয় আদালতে বিভিন্ন ধরনের মামলা করে থাকেন। এসব আবেদনের মাধ্যমে তারা বিচারিক সুরক্ষা চান। গ্রেপ্তারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন অথবা প্রত্যর্পণ কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকার সুযোগ চান।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্বাভাবিক নয়।

বেনজীর আহমেদের ক্ষেত্রেও দুবাইয়ে এমন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে আসছে। তবে এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো তথ্য না পাওয়ায় এ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনজীর আহমেদের আইনি বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা একজন জানিয়েছে,‌ বর্তমানে আমরা তার জামিন নিয়ে ব্যস্ত। এ পরিস্থিতিতে তাকে ঘিরে নিজের লোক দিয়ে মামলায় কেন যাব? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, দুবাই আদালত বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ আবেদন কীভাবে মূল্যায়ন করে। সেই সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে নেওয়া প্রতিটি আইনি পদক্ষেপ এবং তার পক্ষ থেকে দাখিল করা সম্ভাব্য প্রতিটি আবেদনই আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।

আইনজীবীরা মনে করছেন, কোনো অভিযোগ বা গুঞ্জনকে আদালতে যাচাইযোগ্য তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম ৩ দিন বন্ধ থাকবে
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন দিন সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। 
সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম ৩ দিন বন্ধ থাকবে
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
ঢাকার পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
শতশত মরদেহের ভেতর থেকে পোশাক দেখেই ছেলেকে চিনেছিলেন মা
জুলাই যোদ্ধা মোহাম্মদ ইসমাইল। তুমুল আন্দোলনের সময় ছেলে নিখোঁজ হওয়ায় দিশেহারা ছিলেন মা। হঠাৎ ফোনে খবর এলো, গুলি লেগেছে তার ছেলের।
শতশত মরদেহের ভেতর থেকে পোশাক দেখেই ছেলেকে চিনেছিলেন মা
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে।
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
শাকক্ষেত দেখতে যাওয়া স্কুলছাত্রীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে পাসুন দেখান নুরনবী, অতঃপর... 
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মো. নুরনবী নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় অপর দুই আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন লালমনিরহাট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার।  আদালতের রায়ের নথি অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো. নুর নবীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই আইনের ৮(৩) ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এসব সাজা একইসঙ্গে চলবে। অন্যদিকে একই মামলার অপর দুই আসামি মো. মোবারক আলী ও মো. বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ভুক্তভোগীর বাবা লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থানায় মামলা করেন। মামলার বাদী উল্লেখ করেন, আসামি নুরনবী ও রাকিবুল ইসলাম আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন কু-প্রস্তাব দেয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে হাতিবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ করি। এ বিষয়ে রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট বিজ্ঞ আদালত ন্যায় বিচার দিয়েছেন। এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় ভিক্টিমকে তার বাবা শাকক্ষেত দেখতে পাঠিয়েছিল, সেখান থেকে ভিক্টিমকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায় আসামি নুরনবী। পরে পাসুন (জমিতে ছোটখাটো চাষ দিতে এবং ফসল বা বাগানের আগাছা পরিষ্কার বা নিড়ানি দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়) নামক অস্ত্র দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ মামলার রায় দিয়েছে আদালত। এ রায়ে সমাজের অপরাধপ্রবণতা কমে যাবে। এ ঘটনায় বাদীপক্ষ নুরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো মতামত পাওয়া যায়নি। আরটিভি/এমএইচজে
শাকক্ষেত দেখতে যাওয়া স্কুলছাত্রীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে পাসুন দেখান নুরনবী, অতঃপর... 
আরও পড়ুন
দুবাইয়ে বেনজীরের জামিন বাতিলে কাজ করছে সরকার
যেসব শর্তে বেনজীরকে মুক্তি দিলো দুবাইয়ের আদালত
দুবাইয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বেনজীর
শেখ হাসিনা ও বেনজীরের নামে নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা