প্রতিদিন ভারতের আগ্রার তাজমহলে হাজার হাজার মানুষের সমাগম। অন্য দিনের মতো মঙ্গলবারও পর্যটকদের সমাগমও ছিলো দেখার মতো। কিন্তু হঠাৎ পর্যটকদের এদিক-সেদিক ছোটাছুটি। পরে কারণ হিসেবে ওঠে আসে ছয় ফুট লম্বা সাপ।
প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ছয় ফুট লম্বা ওই সাপটি একটু স্বস্তি পেতে ঢুকেছিল তাজমহলের পানি পরিশোধনাগারের শীতলীকরণ অংশে। সেটা দেখেই পর্যটকেরা আতঙ্কে ছোটাছুটি করেন।
তবে এক ঘণ্টার চেষ্টার পর ‘র্যাট স্নেক’ জাতের সাপটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। যদি সাপটি কারো কোন ক্ষতি করেনি।
তীব্র গরমে ঠান্ডা জায়গা খুঁজতে খুঁজতে সাপটি আশ্রয় নেয় ১৭ শতকের এ স্মৃতিস্তম্ভের ভেতর। পর্যটকদের আতঙ্ক, চিৎকার-চেঁচামেচিতে এগিয়ে আসে তাজমহলের প্রত্নতাত্ত্বিক দল। তারা তাৎক্ষণিক সাহায্যের জন্য খবর দেয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগে।

তাজমহলের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মুনাজ্জার আলী জানান, পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে তাজমহলে চারটি পানির প্ল্যান্ট আছে। তার একটির কাছে ওই সাপ নজরে আসে পর্যটকদের। তাৎক্ষণিকভাবে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়।
তাজমহল ভারতের আগ্রায় অবস্থিত একটি রাজকীয় সমাধি। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রী আরজুমান্দ বানু বেগম যিনি মুমতাজ নামে পরিচিত ছিলেন। তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে এ অপূর্ব সৌধটি নির্মাণ করেন। সৌধটি নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে যা সম্পূর্ণ হয়েছিল প্রায় ১৬৫৩ খ্রিস্টাব্দে। সৌধটির নকশা কে করেছিলেন এ প্রশ্নে অনেক বিতর্ক থাকলেও, এ পরিষ্কার যে শিল্প-নৈপুণ্যসম্পন্ন একদল নকশাকারক ও কারিগর সৌধটি নির্মাণ করেছিলেন যারা উস্তাদ আহমেদ লাহুরীর সঙ্গে ছিলেন।
এ স্থাপত্যটিকে ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তখন একে বলা হয়েছিল ‘বিশ্বের ঐতিহ্যের সর্বজনীন প্রশংসিত সেরা শিল্পকর্ম ’( universally admired masterpiece of the world's heritage।)
এপি/এমকে
