প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ভুয়া এতিমখানাকে ত্রাণের টাকা দেয়ার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন ১/১১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা অনুসরণ করে মামলাটি করেন দুদকের উপ পরিচালক হারুনুর রশিদ।
খালেদা জিয়ার আবেদনে এই মামলায় ৫ বার বিচারক পরিবর্তন করা হয়। প্রায় ১০ বছরে বিচার কাজ শেষে দেশের সাবেক কোনো প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই প্রথম দুর্নীতি মামলার রায় হতে যাচ্ছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বাংলাদেশের এতিমদের জন্য ১৯৯১ সালের ৯ই জুন ইউনাইটেড সৌদি কমার্সিয়াল ব্যাংকের ডিডির মাধ্যমে ৪ কোটি ৪৪লাখ ৮১হাজার ২১৬ টাকা অনুদান হিসেবে দেশে পাঠানো হয়।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন জানান, টাকা পাঠিয়েছিলেন, ওই সময়ে কুয়েতের আমির। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তা দেশের প্রতিষ্ঠিত কোন এতিমখানায় না দিয়ে, নিজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করেন। যার ঠিকানা ব্যবহার করা হয়, ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত ৬ মইনুল রোডের এই বাসভবনকে। যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া নিজেও বাস করতেন।
তহবিলের কিছু অংশ দিয়ে, তারেক রহমানের গ্রামের বাড়ী বগুরার গাবতলীতে ২.৭৯ একর জমি কেনা হয়। তবে এই জমির ব্যাপারে অন্য কথা বলেন স্থানীয়রা।
মামলা দায়েরের এক বছর পর ২০০৯ সালের ৫ই আগস্ট ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় দুদক। মামলায় আসামী করা হয় ৬ জনকে। এরা হলেন, ১. খালেদা জিয়া ২. তারেক রহমান ৩. মমিনুর রহমান ৪. কাজী সলিমুল হক ওরফে কাজী কামাল ৫. শরফুদ্দিন আহমেদ এবং ৬.কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী। পরদিন চার্জশিট দাখিলের জন্য মহানগর হাকিম আদালত মামলাটি সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে পাঠান।
২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি মামলাটি তৃতীয় স্পেশাল জজ আদালতে পাঠানো হয়। বিচারক পরিবর্তন, তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনসহ ৩০টির বেশি আবেদন নিয়ে আসামি পক্ষ উচ্চ আদালতে যায়। কেটে যায় চার বছর। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে চার্জ গঠন করেন আদালত। ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার বক্তব্য গ্রহণের দিনে ধার্য ছিলো।
ওইদিন আবার খালেদা জিয়া আদালতের ওপর অনাস্থা জানান। বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ায়। আবারও আদালত পরিবর্তন হয়ে মামলায় যায় পঞ্চম স্পেশাল জজ আদালতে। ২০১৭ সালের ১৯শে অক্টোরব খালেদা জিয়া আদালতে মৌখিক বক্তব্য শুরু করেন, যা শেষ হয় ৫ ডিসেম্বর। আদালতে ১৯২ পৃষ্ঠার জবানবন্দী লেখা হয়। মামলার যুক্তি উপস্থাপন হয় ১৬ দিন।
রাষ্ট্রপক্ষের একমাত্র আইনজীবী মোশাররফ হোসেন ১ দিন শুনানি করেন। আর খালেদা জিয়ার পক্ষে ১৫ দিন যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহম্মেদ, অ্যাভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী।
সব মিলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা চলে প্রায় ১০ বছর। এদিকে মামলা শুরুর পর থেকেই এর পক্ষে-বিপক্ষে শুরু হয় যুক্তি পাল্টা যুক্তি।
তবে আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলা নিয়ে এমন রাজনৈতিক বক্তব্য মোটেই কাম্য না বলে মন্তব্য করেন, বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম।
এসজে




