বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোর-কিশোরীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা মুনিরা ইসলাম।
সোমবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বেঙ্গল স্কয়ারে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ-তরুণীদের জন্য ৮ দিনব্যাপী জুয়েলারি তৈরি প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সৈয়দা মুনিরা ইসলাম বলেন, খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা এবং চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে ২০১৫ সালে এই প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোর-কিশোরীদের দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বপ্ন পূরণে স্বপ্নসারথি লাগে। সেই সারথি এসএমই ফাউন্ডেশন। আশারাখি এই জুয়েলারি তৈরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন তরুণ-তরুণীরা উপকৃত হবেন। তারা এগিয়ে যাবেন সুন্দর আগামীর পথে।
তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বাচ্চারা দেখা যায় অনেক সময় পরিবারেই সম্মান পায় না, তাহলে একবার চিন্তা করুন বাইরে তাদের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ। আমরা অন্তর থেকেই এদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
সৈয়দা মুনিরা ইসলাম বলেন, আজকের দিনটি অনেক আনন্দের। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পনা ছিল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বাচ্চাকে তার মায়ের সঙ্গে রেখে কিছু করা যায় কি না, যা তাদের কাজে লাগবে, সম্মান বাড়াবে। অবশেষে তা সম্ভব হয়েছে এই জুয়েলারি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। এসএমই ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ আমাদের পাশে থাকার জন্য। সামনে এমন আরও অনেক কাজ আমরা এসএমই ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় করতে পারব বলে আশা করছি।
ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সহসভাপতি ও আরটিভির বার্তা প্রধান ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার, এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম সরদার, এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও বিসিআই-এর সাবেক সভাপতি শাহেদুল ইসলাম হেলাল, সংগীতশিল্পী কাণিজ সুবর্ণা ও অভিনেতা মুকিত জাকারিয়া উপস্থিত ছিলেন।
এসএমই ফাউন্ডেশনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সৈয়দা সুলতানা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যদের মধ্যে আরটিভির অনুষ্ঠান প্রধান দেওয়ান শামসুর রাকিব, জেনারেল ম্যানেজার আবু সাদেক মোহাম্মদ আলীম, ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রধান কবির আহমেদ, অনলাইন ইনচার্জ আবু আজাদ, বায়ান্ন টিভির বার্তা সম্পাদক ও ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই জুয়েলারি তৈরি কর্মশালাটি চলবে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। এতে ১৬ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোর-কিশোরী ও তাদের মায়েরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো এসব কিশোর-কিশোরীদের এমন দক্ষতা প্রদান করা যাতে তারা ভবিষ্যতে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে এবং পরিবারের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। ১০ বছরের পথচলায় সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সংগঠনটি নানামুখী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এরমধ্যে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার সম্পর্কে সমাজের বিভিন্ন স্তরে সচেতনতা তৈরি ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে বিশেষভাবে কাজ করছে।
পাশপাশি সচেতনতা তৈরিতে প্রচারণার অংশ হিসেবে আরটিভিতে নিয়মিত ‘হাত বাড়িয়ে দিলাম’ ও কিশোরীদের বাল্য বিয়ে-স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ক ‘সর্বজয়া’ শিরোনামে দুটি অনুষ্ঠান প্রচার করছে এই প্রতিষ্ঠান।
এ ছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, ও নারীর ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।
আরটিভি/আইএম/এস




