অটিজম একটা অবস্থা, অসুখ নয় বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় উপস্থাপক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও ইনফ্লুয়েন্সার আব্দুন নূর তুষার।
সোমবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বেঙ্গল স্কয়ারে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ-তরুণীদের জন্য ৮ দিনব্যাপী জুয়েলারি তৈরি প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আব্দুন নূর তুষার বলেন, আমাদেরকে এই অবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হতে হয়, বুঝতে হয় আমাদের শিশুরা প্রকৃত অর্থে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নয়, তারা বিশেষ গুণসম্পন্ন শিশু। মুশকিল যেটা হয়েছে, আমরা সব সময় তাদের চাহিদার কথা বলি। কিন্তু সেই চাহিদার কথা কিন্তু তারা আমাদের জানায়নি। আমরা, আমাদের সমাজ একটা চাহিদা তৈরি করেছি। আমরা মনে করি আর ৮-১০টা শিশু যেমন হয়েছে, আমাদের শিশুরও তেমন হতে হবে- সেটা হয়নি বলেই প্রতিনিয়ত আমরা সেটা তাকে হওয়ানোর চেষ্টা করি।
তিনি আরও বলেন, এই শিশুদের (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন) প্রত্যেকের আলাদা আলাদা গুণ আছে। এরা আসলে বিশেষ গুণসম্পন্ন শিশু। এরা আমাদের সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করে না বলে আমরা মনে করি তারা স্বাভাবিক না। কোনটা স্বাভাবিক আর কোনটা অস্বাভাবিক এটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্ধারিত হয়। আজকে পৃথিবীর অধিকাংশ শিশু যদি এমন হতো, তবে আমাদেরকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতো। এ বিষয়টা আমাদেরকে বুঝতে হবে।
এই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বলেন, একজন অভিভাবকের প্রথম যে অভিঘাতটি হয়, তা হচ্ছে প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণা হয়। সে অন্য শিশুর সঙ্গে নিজের শিশুকে মেলাতে থাকে এবং ভাবতে থাকে তার শিশুটি পারে না।
এ সময় অটিজম শিশুদের চেয়ে তাদের মা-বাবার মানসিক যন্ত্রণা বেশি থাকে বলেও জানান তিনি।
এসএমই ফাউন্ডেশন ও ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা মুনিরা ইসলাম।
ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সহসভাপতি ও আরটিভির বার্তা প্রধান ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম সরদার, এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও বিসিআই-এর সাবেক সভাপতি শাহেদুল ইসলাম হেলাল, সংগীতশিল্পী কাণিজ সুবর্ণা ও অভিনেতা মুকিত জাকারিয়া উপস্থিত ছিলেন।
এসএমই ফাউন্ডেশনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সৈয়দা সুলতানা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যদের মধ্যে আরটিভির অনুষ্ঠান প্রধান দেওয়ান শামসুর রাকিব, জেনারেল ম্যানেজার আবু সাদেক মোহাম্মদ আলীম, ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রধান কবির আহমেদ, অনলাইন ইনচার্জ আবু আজাদ, বায়ান্ন টিভির বার্তা সম্পাদক ও ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই জুয়েলারি তৈরি কর্মশালাটি চলবে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। এতে ১৬ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোর-কিশোরী ও তাদের মায়েরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো এসব কিশোর-কিশোরীদের এমন দক্ষতা প্রদান করা, যাতে তারা ভবিষ্যতে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে এবং পরিবারের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। ১০ বছরের পথচলায় সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সংগঠনটি নানামুখী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এরমধ্যে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার সম্পর্কে সমাজের বিভিন্ন স্তরে সচেতনতা তৈরি ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে বিশেষভাবে কাজ করছে।
পাশপাশি সচেতনতা তৈরিতে প্রচারণার অংশ হিসেবে আরটিভিতে নিয়মিত ‘হাত বাড়িয়ে দিলাম’ ও কিশোরীদের বাল্যবিয়ে-স্বাস্থ্যঝুঁকিবিষয়ক ‘সর্বজয়া’ শিরোনামে দুটি অনুষ্ঠান প্রচার করছে এই প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, ও নারীর ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।
আরটিভি/আইএম




