রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে শুক্রবার (২১ নভেম্বর)। এদিন সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রিখটার স্কেল অনুযায়ী ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যা কয়েক সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
দেশে মাঝে মধ্যেই ভূমিকম্প হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গত দুই বছর ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ছোট ও মাঝারি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে এসব ছোট ও মাঝারি ভূমিকম্পকে বড় বা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পূর্বাভাস বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এদিনের ভূমিকম্পের পর ঘুরেফিরে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে―বাংলাদেশ কেন ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল?
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হওয়ার পেছনে দুটি প্রধান কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় এবং মিয়ানমার টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। যা ভূতাত্ত্বিকভাবে ব্যাপক নাজুক অঞ্চল। এই প্লেটগুলোর ক্রমশ চাপের কারণে ভূমির ভেতরে থাকা ত্রুটি বা ফাটলগুলো হঠাৎ করেই ভেঙে যায় এবং শক্তি নির্গত করে, ফলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ এবং এর চারপাশের অঞ্চলে ফাটল রয়েছে। সেসবের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। যা হঠাৎ উন্মুক্ত হলেই বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটে থাকে। কাঠামোগত ক্ষেত্রে, বাংলাদেশের ভূমিরূপ ও ভূঅভ্যন্তরীণ কাঠামোগত কারণে ভূআলোড়নজনিত শক্তি সক্রিয় হয়। এ থেকে ভূমিকম্প হতে পারে।
তিনটি টেকটোনিক প্লেটের মিলনের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম অস্থির ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। আর উচ্চ ঝুঁকির অঞ্চলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলটি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। সেই সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম মাঝারি ঝুঁকির আওতাধীন।
টেকটোনিক প্লেটের সংযোগ: ভারতীয় প্লেট, ইউরেশীয় প্লেট ও মিয়ানমারের প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রতি বছর ভারতীয় প্লেটটি প্রায় ৬ সেন্টিমিটার গতিতে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ইউরেশীয় ও মিয়ানমারের প্লেটের নিচে প্রবেশ করছে। প্লেটগুলোর ক্রমাগত নড়াচড়ার কারণে প্রচুর শক্তি সঞ্চয় হতে থাকে। যা হঠাৎ উন্মুক্ত হলে ভূমিকম্প সৃষ্ট হয়।
ফল্ট লাইন: বাংলাদেশ এবং এর আশপাশের অঞ্চলে কয়েকটি সক্রিয় চ্যুতি বা ফল্ট লাইন রয়েছে। যেমন- ডাউকি ফল্ট জোন, বগুড়া ফল্ট জোন, ত্রিপুরা ফল্ট জোন, শিংল মালভূমি এবং আসাম ফল্ট জোন। এসব ফল্ট জোনগুলোয় জমা শক্তি নির্গত হলে তখন মাঝারি থেকে বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ব-দ্বীপ বাংলাদেশ: বিশ্বের বৃহত্তম সক্রিয় ব-দ্বীপগুলোর মধ্যে একটি বাংলাদেশ। এ কারণে এর নরম মাটি ও ভূগর্ভস্থ গঠন ভূমিকম্পের সম্ভাবনা এবং ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে অপরিকল্পিত নগরায়নের জন্য ভূমিম্পের ঝুঁকি অনেক বেশি।
আরটিভি/এএ





