দলিল রেজিস্ট্রেশনে নতুন নিয়ম চালু, ভূমি মালিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করণীয়

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৩:১৯ পিএম


দলিল রেজিস্ট্রেশনে নতুন নিয়ম চালু, ভূমি মালিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করণীয়
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে দলিল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলা দালাল ও দলিল লেখকদের সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং অস্পষ্ট প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ ভূমি মালিকরা যেখানে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তেন—সরকার এবার সেই জটিলতা কমাতে নতুন ফি কাঠামো, অনলাইন সেবা এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছে।

বিজ্ঞাপন

ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দলিলের শ্রেণী ও জমির ধরন অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ফি এখন থেকে সুনির্দিষ্ট তালিকা আকারে প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে টানানো বাধ্যতামূলক। ফলে কোন জমির দলিল করতে কত টাকা খরচ হবে, স্ট্যাম্প, রেজিস্ট্রেশন ফি, আইটি সার্ভিস চার্জসহ মোট খরচ কত—সবই ভূমি মালিকরা আগেভাগেই জানতে পারবেন।

দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল—সাব-রেজিস্টারি অফিসে গেলে ভূমি মালিকদের দলিল লেখকদের সিন্ডিকেটের উপর নির্ভর করতে হতো। তারা গণনাহীন 'হিসাব' দেখিয়ে পূর্ব নির্ধারিত ফি'র চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা নিত। কেউ প্রতিরোধ করলে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হতো। এ ঘটনার লাগাম টানতেই সরকার দলিল লেখক লাইসেন্স বিধিমালা, ২০১৪ কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। এখন থেকে শুধুমাত্র অনুমোদিত ও লাইসেন্সধারী দলিল লেখকরা অফিসে কাজ করতে পারবেন, অন্য কেউ নয়।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া, যেসব ভূমি মালিক ফি গণনায় বিভ্রান্ত হন, তাদের জন্য অনলাইনে “দলিল রেজিস্ট্রেশন ক্যালকুলেটর” চালু করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ক্যালকুলেটর অ্যাপ ডাউনলোড করে জমির শ্রেণী, অবস্থান, পরিমাণ ও মৌজার তথ্য দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকৃত খরচ জানিয়ে দেবে।

রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত দলিল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। আনরেজিস্টার্ড দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করা যাবে না, রেকর্ড সংশোধনও করা যাবে না—এই বিষয়েও সরকার ভূমি মালিকদের সচেতন করছে।

বিজ্ঞাপন

যদি কোনও দলিল লেখক বা অফিস সংশ্লিষ্ট কেউ বাড়তি টাকা দাবি করে বা প্রতারণা করে, ভূমি মালিকরা সরাসরি জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে পারবেন। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের নম্বরে কল করেও অভিযোগ জানানো সম্ভব।

সরকার মনে করছে, এই নতুন ব্যবস্থা চালু হলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পুরোনো দালালচক্রের আধিপত্য কমে আসবে, রেজিস্ট্রেশন খরচে স্বচ্ছতা তৈরি হবে এবং ভূমি মালিকেরা প্রতারণা থেকে রক্ষা পাবেন। নতুন নিয়ম ও ফি কাঠামো বাস্তবায়ন হলে ভূমি সেক্টরে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরটিভি/এএ 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission