জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ওয়ারিশান সম্পত্তি। মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া জমির সঠিক মালিকানা ও বণ্টন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রতিনিয়ত ক্রেতারা পড়ছেন আইনি বিপাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লিখিত বণ্টন দলিল ছাড়া ওয়ারিশান সম্পত্তি কেনা হলে নামজারি বাতিলসহ দখল হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে মৌখিকভাবে জমি বণ্টন হলেও তা লিখিত দলিলে রূপ দেওয়া হয়নি। এমন জমি বিক্রি হলে পরবর্তীতে অন্য ওয়ারিশ আপত্তি তুললে ক্রেতার নামজারি বাতিল হয়ে যেতে পারে এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে।
আইনজীবীরা বলছেন, ওয়ারিশান সম্পত্তির সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করতে হলে সব উত্তরাধিকারীর সম্মতিতে লিখিত বণ্টন দলিল থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই দলিলের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির সীমানা, দাগ নম্বর ও প্রত্যেক ওয়ারিশের অংশ স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়।
উদাহরণ হিসেবে তারা জানান, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর যদি তার পাঁচ একর জমি ১০টি দাগে বিভক্ত থাকে, তবে লিখিত বণ্টন ছাড়া সেই জমির কোনো অংশ বিক্রি করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে।
কী কী ঝুঁকিতে পড়তে পারেন ক্রেতা
.বণ্টন দলিল ছাড়া ওয়ারিশান সম্পত্তি কিনলে ক্রেতাকে একাধিক ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।
.দখল হারানোর আশঙ্কা: অন্য কোনো ওয়ারিশ আদালতে দাবি করলে জমির দখল হারাতে পারেন।
.নামজারি বাতিল: আপত্তি উঠলে নামজারি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
.সীমানা পরিবর্তনের ঝুঁকি: দলিলবিহীন জমির সীমানা ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হতে পারে।
.দলিল বাতিলের মামলা: আদালতে মামলা হলে ক্রয়কৃত দলিল বাতিল হয়ে যেতে পারে।
আইনি জটিলতা এড়ানোর পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা ওয়ারিশান সম্পত্তি কেনার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন—
.জমি কেনার আগে বণ্টন দলিল আছে কি না যাচাই করা
.অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে কাগজপত্র পরীক্ষা করানো
.মৌখিক বণ্টনের ওপর নির্ভর না করা
.লিখিত বণ্টন ছাড়া কোনো অবস্থাতেই সম্পত্তি না কেনা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বণ্টন দলিল কেবল একটি কাগজ নয়; এটি জমির মালিকানা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা। সঠিক আইনি যাচাই-বাছাই করলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়িয়ে নিশ্চিন্তে সম্পত্তির মালিকানা ভোগ করা সম্ভব।
আরটিভি/এসকে




