সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে নির্দিষ্ট সাত ধরনের দলিলের ক্ষেত্রে আলাদা করে নামজারির জন্য আবেদন বা উপজেলা ভূমি অফিসে যেতে হবে না। ভূমি মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং উপজেলা ভূমি অফিসকে সংযুক্ত করে একটি আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।
এই নতুন ব্যবস্থায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে। ফলে মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও একই সঙ্গে সম্পন্ন হবে।
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, নিম্নোক্ত সাত শ্রেণির দলিলে নামজারির আলাদা প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে—
১. সাধারণ বিক্রয় দলিল (সাফ কবলা দলিল)
জমি বিক্রির পর দলিল রেজিস্ট্রি হলেই ক্রেতার নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামজারি সম্পন্ন হবে।
২. হেবা দলিল
ওয়ারিশদের মধ্যে শর্তহীন সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে করা হেবা দলিলে আর আলাদা নামজারি প্রয়োজন নেই।
৩. হেবা বিল আওয়াজ দলিল
আত্মীয়দের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের এই দলিলও স্বয়ংক্রিয় নামজারির আওতায় এসেছে।
৪. এওয়াজ বদল দলিল
পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে মালিকানা পরিবর্তনের দলিলে নামজারির জন্য আলাদা আবেদন করতে হবে না।
৫. ওসিয়তনামা দলিল
জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভবিষ্যৎ মালিক নির্ধারণ করে করা ওসিয়তনামা দলিল রেজিস্ট্রির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে।
৬. আপোষ বণ্টননামা দলিল
ওয়ারিশদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে অবিভক্ত সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রেও নামজারির আলাদা বাধ্যবাধকতা থাকছে না।
৭. না-দাবি দলিল
ভুলক্রমে মালিকানা দাবি না করা বা বন্ধক সম্পত্তি ফেরত দিয়ে করা না-দাবি দলিলও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।
সরকার জানিয়েছে, ইতোমধ্যে দেশের ২১টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এই অটোমেশন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। আগামী ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মধ্যে দেশের সব জেলায় এই ডিজিটাল প্রক্রিয়া সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগের ফলে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি নামজারি ঘিরে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দালালচক্র ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূমি মালিকানা হস্তান্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
সাত শ্রেণির দলিলে নামজারির বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে বাংলাদেশ ভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি স্মার্ট ও ভবিষ্যতমুখী অধ্যায়ে প্রবেশ করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরটিভি/এসকে




