সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানি বাংলাদেশের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় কাতারের আমির বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানান। একইসঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতিও আন্তরিক সমবেদনা জানান তিনি।
এর আগে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ এবং যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো বার্তায় বাদশাহ বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ আমরা গভীর দুঃখের সঙ্গে গ্রহণ করেছি। এ শোকাবহ সময়ে আমরা আপনাদের ও মরহুমার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি প্রকাশ করছি। আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন খালেদা জিয়াকে অসীম রহমত ও ক্ষমার চাদরে আবৃত করেন, জান্নাতে সর্বোচ্চ স্থান দান করেন এবং আপনাদের সবাইকে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করেন। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তার কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদে আমরা শোকাহত। এই দুঃখজনক সময়ে আমরা আপনাদের ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি জানাচ্ছি। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন মরহুমাকে তার রহমত ও ক্ষমার চাদরে আবৃত করেন, জান্নাতে স্থান দেন এবং আপনাদের সবাইকে সব ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও প্রার্থনা কবুলকারী।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বন্দি রাখা হয়।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার।
এরমধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর-মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।
সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন বিকেল তিনটায় সংসদ ভবনের মাঠ ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশ-বিদেশের গন্যমান্য ব্যক্তিসহ লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়।
এরপর বিশেষ একটি বাহনে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছে নেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পর জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়।
আরটিভি/আরএ




