ইউরোপের কথা বলে নেওয়া হচ্ছে নেপাল, ভয়াবহ নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়

আরটিভি নিউজ

রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৬:৪৪ পিএম


ইউরোপের কথা বলে নেওয়া হচ্ছে নেপাল, ভয়াবহ নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়
ফাইল ছবি

বাংলাদেশিদের পাচারের জন্য নতুন ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে নেপাল। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে ভিজিট ভিসায় তাদের নেপালে নিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন চালানো এবং পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের মতো ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

গত ডিসেম্বর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেই প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দালালদের মূল টার্গেট বাংলাদেশি তরুণরা। তারা প্রথমে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে তরুণদের আকৃষ্ট করে। এরপর ভিজিট ভিসায় নেপালে যেতে বলে। সেখানে পৌঁছানোর পর দুই দেশের দালাল ও পাচারকারীরা ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। একপর্যায়ে তাদের আটকে রেখে চালানো হয় ভয়াবহ নির্যাতন। এরপর জিম্মি করে করে পরিবারের কাছ থেকে আদায় করে মোটা অঙ্কের টাকা।

মানবপাচারের জন্য সক্রিয় দালাল চক্রটি আকাশ ও স্থল—উভয় পথ ব্যবহার করে। আকাশপথে রুটগুলো হলো বাংলাদেশ (ঢাকা)–নেপাল (কাঠমান্ডু)–চীন (হংকং)–উত্তর আমেরিকা (কানাডা); বাংলাদেশ (ঢাকা)–নেপাল (কাঠমান্ডু)–ইতালি (রোম)–ইউরোপ (বেলজিয়াম) ও বাংলাদেশ (ঢাকা)–ভারত–নেপাল (কাঠমান্ডু)। এছাড়া স্থলপথে ঢাকা/খুলনা–বেনাপোল/ভোমরা–ভারত (পেট্রাপোল/কলকাতা/শিলিগুড়ি) –কাঁকরভিটা–কাঠমান্ডু রুট ব্যবহার করছে তারা। 

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে এনএসআই আরও জানায়, সম্প্রতি পাচারের শিকার এমন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন দালালের নামও উঠে এসেছে। তারা হলেন আশা ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলের সাজহারুল হক মুকুল; চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মো. আল আমিন ও হাজীগঞ্জের সুমন আহমেদ; কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মো. আলমগীর হোসেন; নোয়াখালীর মালয়েশিয়াপ্রবাসী এবিএম নজরুল; শরীয়তপুরের জাজিরার মো. আয়নাল ও নড়িয়ার মো. মিলন; ঢাকার মো. গিয়াস উদ্দিন এবং সিলেটের ব্রিটিশ নাগরিক মিজানুর আমিন, মো. শামীম ও মিরাবাজারের মো. শোয়েব।

প্রতিবেদনে নেপালকেন্দ্রিক মানব পাচারের মামলাগুলো তদন্তের জন্য সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনে হস্তান্তর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিদেশি মিশনগুলোকে বিষয়টি অবহিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মাধ্যমে অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেনের তদন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, নেপাল হয়ে ইউরোপে মানবপাচারের চেষ্টা প্রায় এক বছর ধরে চলছে। সহজে ভিসা পাওয়া এবং বিমানের ভাড়া কিছুটা কম হওয়ায় পাচারকারীরা নেপাল রুট ব্যবহার করছে। সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশে একজন দালালসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

বিজ্ঞাপন

আরটিভি/আরএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission