দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে গর্ভবতী মায়েদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের (সিজারিয়ান ডেলিভারি) হার কমলেও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সিজারিয়ান অপারেশন বেশি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান সেকশন বিশ্বব্যাপী আলোচনার বিষয়। উন্নত দেশগুলোতে এর হার কম হলেও উন্নয়নশীল দেশে বেশি। বাংলাদেশে এই সংখ্যা গ্রামে কম, শহরে বেশি। সরকারি হাসপাতালে কম বেসরকারি হাসপাতালে বেশি।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতাল: অপ্রয়োজনীয় সিজার আর নয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাফর বলেন, একদিকে মানুষ চায় পেইনলেস ডেলিভারি ও নিরাপদ সন্তান। আবার অন্যদিকে নরমাল ডেলিভারির জন্য কোথাও দীর্ঘ লাইনও দেখা যায়। কখনো কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেটাকে নিয়ে হইচই শুরু হয়ে যায়। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো সেবাগ্রহীতাদের সঠিক তথ্য দেওয়া, তাদের সচেতন করা এবং সম্পৃক্ত করা। জনগণকে সঙ্গে না নিলে কোনো প্রকল্পই সফল হবে না।
তিনি বলেন, সেবাদানকারীদের শুধু সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, দক্ষতা ও গুণগত মান বাড়াতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে জাতীয় নির্দেশিকা ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর তৈরি করেছি। এখন প্রয়োজন এটার সঠিক বাস্তবায়ন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, আমাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আমাদের প্রধান উপদেষ্টা সবসময় বলেন—যা আছে, তা দিয়েই সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। আমাদের প্রয়োজন সমন্বয়, ইন্টিগ্রেশন, রেজিলিয়েন্স ও টেকসই ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, আমরা অনেকদিন একই পথ ধরে হাঁটছি, দিন শেষে মনে হয় আমরা খুব বেশি এগোতে পারিনি। এখানেই আমাদের দুর্বলতা। এই দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। সরকারের একার পক্ষে এটা সম্ভব নয়।
এই সময় তিনি দেশে ১৪ হাজার ক্লিনিকের মধ্যে আট হাজারের নিবন্ধন নেই এবং তারা নবায়ন করেনি বলেও উল্লেখ করেন।
আরটিভি/এমআই





