দেশে নিরাপদ খাদ্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে খাদ্যশস্যের সরকারি মজুদ গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে গত ৬ বছরের খাদ্যশস্যের মজুদ সংক্রান্ত একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। এ সময় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ এবং খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার উপস্থিত ছিলেন।
খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে সরকারি গুদামগুলোতে ২২ লাখ ১০ হাজার টনেরও বেশি খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় এক অভাবনীয় সাফল্য। আমাদের নিরাপদ খাদ্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ১৩ দশমিক ৫ লাখ টন কিন্তু বর্তমানে আমাদের গুদামগুলোতে ২২ লাখ ১০ হাজার টনেরও বেশি খাদ্যশস্য মজুদ আছে। আল্লাহর রহমতে আমাদের খাদ্য মজুদ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি সবসময় বলতাম যে, আমরা দায়িত্ব ছাড়ার সময় যতটুকু মজুদ থাকার কথা, ইনশাআল্লাহ তার চেয়ে বেশিই রেখে যাব। এখন সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। ফলে দুই দিন পর যিনি দায়িত্ব নেবেন, তাকে তাৎক্ষণিকভাবে তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে না। তিনি ধীরস্থিরভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন।
গত ছয় বছরের (২০২১-২০২৬) খাদ্য মজুদের তুলনামূলক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চালের মজুদ ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮ টন, গমের মজুদ ৩ লাখ ২২ হাজার ৭৪৩ টন এবং ধানের মজুদ ১ লাখ ৭ হাজার ৮১৫ টন। অর্থাৎ দেশে চাল, গম ও ধান মিলিয়ে মোট খাদ্যশস্যের মজুদ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ১০ হাজার ৬৭০ টনে। এটি গত ছয় বছরের একই সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ মজুদ। আর বিপুল মজুদ গত বছরের (২০২৫) একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮ লাখ ৩৪ হাজার টন বেশি।
বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে এই মজুদ ছিল মাত্র ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬৮ টন। ২০২২ সালে ২০ লাখ ৯ হাজার ৯২৪ টন। ২০২৩ সালে মজুদ ছিল ২০ লাখ ২৬ হাজার ১৯৬ টন। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে মজুদ যথাক্রমে ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৩০ এবং ১৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫৫৫ টনে নেমে এসেছিল।
আরটিভি/এমএইচজে




