আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ও ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। দলগুলোর পাশাপাশি অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।
এবারের সংসদ নির্বাচনে মোট আসন সংখ্যা ২৯৯টি। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেই আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এসব আসনে মোট প্রার্থী দুই হাজার ২৮ জন এবং এদের মাঝে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৭৫ জন। আর মোট প্রার্থীদের মাঝে মাত্র ৮৩ জন হলেন নারী।
মোট প্রার্থী
ইসির তথ্য অনুযায়ী, মোট প্রার্থীর মধ্যে রাজনৈতিক দলের এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর মধ্যে দলীয় ৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ২০ জন। পুরুষ প্রার্থীর মধ্যে দলীয় এক হাজার ৬৯২ জন এবং স্বতন্ত্র ২৫৩ জন।
মোট ভোটার
এবার গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসনভিত্তিক ভোটার সংখ্যার তথ্য প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন ভোট দিতে পারবেন।
ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানান, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন। নারী ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন। এছাড়া, হিজড়া ভোটার রয়েছে ১ হাজার ১২০ জন।
৩০০ আসনে মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে; ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। দেশে ও দেশের বাইরে থেকে আসা ৮ লাখ ৮৩ হাজার পোস্টাল ভোট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে।
পোস্টাল ভোটের সংখ্যা
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এমন তথ্য জানিয়েছে, দেশে ও দেশের বাইরে থেকে আসা ৮ লাখ ৮৩ হাজার পোস্টাল ভোট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে।
এতে বলা হয়েছে, প্রবাসীদের জন্য ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে ভোট দিয়ে দেশে পাঠানো হয়েছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ১৮৫ জন। আর রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৬ জনের।
এদিকে, দেশের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জনের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ভোট দিয়ে ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫১ জন।
নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তায় পুলিশ
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনকে ঘিরে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি ও আনসারসহ অন্যান্য বাহিনীও যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে আনসার বাহিনীর সদস্যই সবচেয়ে বেশি। তাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ।
নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তায় বিজিবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ দেশের ৪৮৯টি উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, দেশের মোট ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতেই বিজিবি মোতায়েন করা হবে। তবে সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, দাকোপ, মনপুরা ও রাঙ্গাবালি—এই ছয়টি উপজেলা মোতায়েনের আওতার বাইরে থাকবে।
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে ইতোমধ্যে মোট ১ হাজার ১৫১ প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া ১ লাখ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
এছাড়াও চট্টগ্রামে র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী চার জেলার ২০টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন রয়েছে মোট ৫০টি টহল দল। এর পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে একটি ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত এই বিশেষ টহল কার্যক্রম আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
ভোট পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণ করতে ইতোমধ্যে ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক বাংলাদেশে পৌঁছেছেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ৮০ জন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ২৩৯ জন দ্বিপাক্ষিক দেশ থেকে আগত (যাদের মধ্যে স্বতন্ত্র ইউরোপীয় পর্যবেক্ষকরাও রয়েছেন) এবং ৫১ জন বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।
আরটিভি/ এমএ




