ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

বিতর্কিত প্রকল্প ঘিরে ফয়েজের কীর্তি, ১০০ কোটি টাকার চাপে ব্যাংক ম্যানেজার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। ফাইল ছবি

দেশত্যাগের পর থেকেই দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ মিলছে সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের বিরুদ্ধে। এবার বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) বিতর্কিত এক প্রকল্প ঘিরে দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে তার।

বিটিসিএলের সক্ষমতা বাড়াতে ‘ফাইভজি উপযোগীকরণে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। প্রায় ২৮ লাখ টাকা খরচ করে বুয়েটের মাধ্যমে প্রথমে প্রকল্পের ফিজিবিলিটি বা সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করা হয়।

বুয়েটের ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী দল দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার বিদ্যমান ব্যান্ডউইথ ব্যবহার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা ব্যান্ডউইথ ইত্যাদি বিবেচনা করে একটি সূত্রের মাধ্যমে ২০৩০ সালে বিটিসিএলের ব্যান্ডউইথ চাহিদা ২৬ দশমিক ২ টেরাবাইট নির্ধারণ করে। এই ব্যান্ডউইথ সরবরাহের জন্য বুয়েট ১০০জি লাইন কার্ড স্থাপনের সুপারিশ করে। বুয়েট এ সমীক্ষাটি চালায় করোনার প্রাদুর্ভাবকালে। সে সময়ে দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার ছিল সর্বোচ্চ। তবে, বুয়েটের প্রতিবেদন উপেক্ষা করে সুকৌশলে ২৬ টেরাবাইটের পরিবর্তে ১২৬ টেরাবাইটের যন্ত্রপাতি কেনার ফন্দি আঁটেন তৎকালীন সরকারের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। ২৬ টিবিপিএসে সর্বোচ্চ ১৫ মিলিয়ন ডলার (দরপত্র আহ্বানের সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১১০ টাকা হিসাবে ১৬৫ কোটি টাকা) খরচে যে কাজ করা সম্ভব ছিল, সেটা করতে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ৩২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে যন্ত্রপাতি কেনার আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়।

এ অবস্থায় প্রকল্পটি ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর দুদক প্রকাশ্য অনুসন্ধানে নামলে স্থবির হয়ে পড়ে প্রকল্পের কার্যক্রম। অনুসন্ধানে পদে পদে অনিয়মের প্রমাণ পায় দুদক। প্রকল্পের গোপনীয়তার শর্ত লঙ্ঘন, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করে সরকারি বিপুল অর্থের অপচয়, ক্ষমতার অপব্যবহার, পিপিআর লঙ্ঘন, মানহীন যন্ত্রপাতি ক্রয়, বুয়েটের প্রস্তাবের চেয়ে চার গুণ বেশি যন্ত্রাংশ ক্রয়চেষ্টার সত্যতা পায় সংস্থাটি। অভিযোগটি এখনও দুর্নীতি দমন কমিশনে অনুসন্ধানাধীন।

এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার পালাবদলে তথ্য ও যোগাযোগ উপদেষ্টা হন বর্তমান এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে তার দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে ও যন্ত্রাংশ ক্রয়ের উদ্দেশ্যে চায়নায় ফ্যাক্টরি ভিজিটে যেতে তিন কর্মকর্তার অনুকূলে জিও জারি করা হয়। তবে, দুর্নীতির বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর নাহিদ সেই জিও বাতিল করান। একইসঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগটি তদন্তের উদ্যোগ নেন তিনি। তবে, নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দায়িত্ব নিয়ে আবার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে ওঠেন। প্রকল্পের সরঞ্জাম আমদানি করতে শুরু হয় তোড়জোড়। প্রথমে গত বছরের ১৩ এপ্রিল ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে দুদকে চিঠি দিয়ে প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এছাড়া, ১৬ এপ্রিল ফের বিটিসিএল থেকে ফ্যাক্টরি ভিজিটে চায়না যাওয়ার অনুমতি চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়। তবে, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি না দিয়ে আবেদনটি ফেরত পাঠানো হয়। এ পরিস্থিতিতে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব তার ব্যক্তিগত সহকারীকে নিয়ে নিজেই যান চীনে। গত ৪ মে জারি করা জিও থেকে জানা যায়, চীন ভ্রমণের সব ব্যয় বহন করে চায়না এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (সিইএবি)।

আরও পড়ুন

জানা যায়, সিইএবি বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করা ৩০০টিরও বেশি বড় চীনা কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করে। সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে হুয়াওয়ে টেকনোলজিস। আর বিটিসিএলে ফাইভজি প্রকল্পে যন্ত্রাংশ সরবরাহের কার্যাদেশ পেয়েছে এই হুয়াওয়ে টেকনোলজিস।

গত ১৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাব দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের তৎকালীন সচিব খোরশেদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘এ প্রকল্পের ক্রয় প্রক্রিয়ার অবশিষ্ট কার্যক্রম এগিয়ে বা চালিয়ে নিলে তা আইনের ব্যত্যয় হবে বলে প্রতীয়মান হয় এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ ব্যয় আইনসিদ্ধ হবে না বলে অনুমেয়।’

দুদকের এই মতামত পাওয়ার পর চীন থেকে ফিরেই বেপরোয়া হয়ে পরেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। ২২ জুন তার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্যাডে একটি আধাসরকারি পত্র দেন দুদক চেয়ারম্যানকে। প্রকল্পের সুফল ও গুরুত্ব তুলে ধরে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ফাইভজির উপযোগীকরণে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রাখা একান্ত প্রয়োজন। এরপর এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত মনোযোগ ও আন্তরিক সহযোগিতা চান তিনি।

দুদক চেয়ারম্যান সেই চিঠির কি জবাব দিয়েছেন বা আদৌ দিয়েছেন কি না বা চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না, তা জানা যায়নি। তবে, দুদকের অনুসন্ধানে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যায়।

এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ বলেন, অভিযোগটি ঘিরে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে এরই মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। শিগগিরই প্রতিবেদন দাখিল করবেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা। প্রতিবেদনের আলোকে কমিশনের অনুমোদনক্রমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ১৮ ও ১৯ মে বিটিসিএলের ফাইভজি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে চিঠি দিয়ে যন্ত্রাংশ পাঠানোর কথা বলে হুয়াওয়ে। কোনো কিছুতেই যখন কোনো বৈধ অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয় বিটিসিএলের এমডিকে। ২৫ মে উপসচিব মৌরান করিম স্বাক্ষরিত সেই চিঠিতে নিজের ইচ্ছামতো কিছু নির্দেশনা দিয়ে ফয়েজ তৈয়্যব ওই প্রকল্পের মালপত্র শিপমেন্ট করার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে বিটিসিএলের মধ্যকার সেই চিঠি প্রকল্প পরিচালক এনডোর্স করে হুবহু পাঠিয়ে দেন হুয়াওকে। হুয়াওয়েও নির্দেশ পেয়ে মালপত্র শিপমেন্ট করে।

জানা গেছে, এখন সেই প্রকল্পে এলসির প্রায় ১০০ কোটি টাকা পরিশোধের জন্য ব্যাংক ম্যানেজারকে নানাদিক থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। চীনের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সুইফটে টাকা চাওয়া অব্যাহত আছে। অন্যদিকে, হুয়াওয়ে বাংলাদেশ ও হুয়াওয়ের পক্ষে নিয়োগকৃত বাংলাদেশি বিভিন্ন লবিস্ট নিয়মিত ব্যাংক ম্যানেজারকে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে। অনুসন্ধান চলমান থাকায় ব্যাংক ম্যানেজার টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। উপায়ান্তর না পেয়ে ব্যাংক ম্যানেজার বেশ কয়েকবার দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও দেখা করেছেন। অনুসন্ধান শেষ হলেও দুদকের প্রতিবেদন কোনো এক অদৃশ্য কারণে আটকে আছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সঙ্গে। একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। এরপর প্রশ্ন লিখে মেসেজ পাঠালে তিনি “বিটিসিএল কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘ফাইভজি’র উপযোগীকরণে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের প্যাকেজ নং-GD-01 এর আওতায় আমদানীকৃত যন্ত্রপাতির গুণগতমান নিশ্চিতকল্পে গঠিত সাবজেক্ট ম্যাটার এক্সপার্ট টিমের প্রতিবেদন শীর্ষক একটি রিপোর্ট হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।’ এরপর লেখেন, ‘এ ধরনের চাপ দেওয়ার কোনো বিষয় নেই। বরং বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট নিয়ে কমিটি করে ইন্টেনসিভ টেস্টিং করা হয়েছে। এখানে রিপোর্ট আছে। মন্ত্রণালয় থেকে এর বাইরে কোনো কিছু করা হয়নি।’

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ে আগের মতো এখন আর ভোগান্তি নেই: বিমানমন্ত্রী 
বিমানবন্দরে লাগেজ সংগ্রহ ও ব্যাগ নিয়ে যাত্রীদের আগের মতো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার মান নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে সম্প্রতি দেখা দেওয়া যান্ত্রিক ত্রুটি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েছে। তদন্তে কারও গাফিলতি বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, ঢাকা থেকে উড়োজাহাজটি সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় যাত্রা শুরু করেছিল। তবে জাপান থেকে ফেরার পথে উড়োজাহাজের ডানার পেছনের অংশে থাকা ফ্ল্যাপে কিছুটা যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। এ ধরনের ছোটখাটো ত্রুটি উড়োজাহাজ চলাচলে অস্বাভাবিক নয়। তবে এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পূর্ণাঙ্গভাবে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্যে জাপানের দেওয়া বিভিন্ন শর্ত মেনে নেওয়া হয়েছে। থার্ড টার্মিনাল চালু হলে বর্তমান টার্মিনাল ১ ও ২ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করা হবে। তবে টার্মিনাল দুটি পরিত্যক্ত রাখা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নতুন টার্মিনালে স্থানান্তরের পর পুরোনো দুটি টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি কার্গো, চার্টার্ড ও ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনার কাজেও এগুলো ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া সরকার নতুন একটি বাজেট এয়ারলাইন্স চালুর পরিকল্পনা করছে। এর কার্যক্রমও টার্মিনাল ১ ও ২-কে কেন্দ্র করে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই বলেও জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, একটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ করতে অন্তত ১০ থেকে ১২ বছর সময় প্রয়োজন। আর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ বছর লেগে যায়। তাই আপাতত বিদ্যমান বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার উন্নতির এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী। আরটিভি/এসকে
বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ে আগের মতো এখন আর ভোগান্তি নেই: বিমানমন্ত্রী 
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার আন্তরিক: শ্রমমন্ত্রী
শ্রমমন্ত্রী বলেছেন, যেসব মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তারা যেন সেগুলো খুলে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। শ্রমিক নেতাদেরও নিজ নিজ কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার আন্তরিক: শ্রমমন্ত্রী
হরমুজ পার হতে বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: রাষ্ট্রদূত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে যাতায়াত করতে হলে অবশ্যই ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দেওয়া নিয়ম মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো দেশই এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে নিরাপদে জ্বালানি পরিবহন করতে পারবে না। হরমুজ পার হতে অবশ্যই ইরানের বেঁধে দেওয়া নির্দেশনা মানতে হবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যেসব হামলার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশসহ কোনো দেশের জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে না। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জনগণকে ‘মুসলিম ভাই-বোন’ উল্লেখ করে বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সহায়তার আশ্বাস দেন। তি‌নি ব‌লেন, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। তবে এই সংকটকালীন বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ, আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদ পারাপারে ইরান সব ধরনের সহযোগিতা করবে। এ সময় ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি। তি‌নি ব‌লেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান যৌক্তিক। ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের ম‌নোভাব বা সমর্থ‌নে আমরা খু‌শি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স‌ঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নে জালিল রাহিমি ব‌লেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স‌ঙ্গে সমঝোতার মা‌নে আত্মসমর্পণ। এটা কখ‌নো মে‌নে নে‌বে না ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে পূর্ণ শক্তিতে তাদের গুঁড়িয়ে দিতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে ইরান নিজে থেকে কোনো যুদ্ধ বা সংঘাত চায় না। মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর সাথে ইরানের কোনো বিরোধ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে যদি ইরানের ওপর হামলা না হয়, তবে ইরান কখনোই কোনো আরব দেশে আক্রমণ করবে না। পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ইরানের ‘রেড লাইন’ হিসেবে ঘোষণা করে তিনি এ অঞ্চলে পশ্চিমা হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ‘মক্কা চুক্তি’ গঠনের প্রস্তাব দেন। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তি‌নি বলেন, এই দ্বন্দ্ব ইরানের ইসলামি বিপ্লবের অনেক আগের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ইয়েমেনের হুথি, ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের হাশদ আল-শাবির প্রতি ইরানের শক্তিশালী রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন রয়েছে। আরটিভি/টিআর
হরমুজ পার হতে বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: রাষ্ট্রদূত
মালিক-শ্রমিকপক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী
ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা, শ্রমিক সংগঠনের নেতা এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন। এর আগে বুধবার বেলা ১১টায় পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা হয়। সভায় আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তবে নতুন মজুরির পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রথম বেতন দেওয়া হতে পারে আগামী জানুয়ারিতে।  ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে। পরে তাকে পরিবর্তন করে সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়। নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার। বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকেরা তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে এ দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কর্মবিরতি চলছে। আন্দোলন কেন্দ্র করে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। কয়েক শ কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে। এতে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, খাদ্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসাসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে মালিকপক্ষ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার চাপের কথা তুলে ধরে আসছে। আরটিভি/টিআর
মালিক-শ্রমিকপক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী
ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডিবি হেফাজতে, যা জানা যাচ্ছে
তার সঙ্গে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে ডিবিসি নিউজের ক্রাইম চিফ রাজিব ঘোষকেও। বর্তমানে তারা ডিবি কার্যালয়ে রয়েছেন।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডিবি হেফাজতে, যা জানা যাচ্ছে
আরও পড়ুন
একনেকে অনুমোদন পেল নতুন ১১ প্রকল্প
নারায়ণগঞ্জে শ্রমজীবী নারীদের জন্য তৈরি হয়েছে সরকারি আধুনিক হোস্টেল
পুলিশের জন্য এবার দুই মেগা প্রকল্পের প্রস্তাব, সম্পূর্ণ ব্যয় সরকারের
সাতক্ষীরায় মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক