ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বিতর্কিত প্রকল্প ঘিরে ফয়েজের কীর্তি, ১০০ কোটি টাকার চাপে ব্যাংক ম্যানেজার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। ফাইল ছবি

দেশত্যাগের পর থেকেই দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ মিলছে সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের বিরুদ্ধে। এবার বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) বিতর্কিত এক প্রকল্প ঘিরে দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে তার।

বিটিসিএলের সক্ষমতা বাড়াতে ‘ফাইভজি উপযোগীকরণে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। প্রায় ২৮ লাখ টাকা খরচ করে বুয়েটের মাধ্যমে প্রথমে প্রকল্পের ফিজিবিলিটি বা সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করা হয়।

বুয়েটের ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী দল দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার বিদ্যমান ব্যান্ডউইথ ব্যবহার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা ব্যান্ডউইথ ইত্যাদি বিবেচনা করে একটি সূত্রের মাধ্যমে ২০৩০ সালে বিটিসিএলের ব্যান্ডউইথ চাহিদা ২৬ দশমিক ২ টেরাবাইট নির্ধারণ করে। এই ব্যান্ডউইথ সরবরাহের জন্য বুয়েট ১০০জি লাইন কার্ড স্থাপনের সুপারিশ করে। বুয়েট এ সমীক্ষাটি চালায় করোনার প্রাদুর্ভাবকালে। সে সময়ে দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার ছিল সর্বোচ্চ। তবে, বুয়েটের প্রতিবেদন উপেক্ষা করে সুকৌশলে ২৬ টেরাবাইটের পরিবর্তে ১২৬ টেরাবাইটের যন্ত্রপাতি কেনার ফন্দি আঁটেন তৎকালীন সরকারের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। ২৬ টিবিপিএসে সর্বোচ্চ ১৫ মিলিয়ন ডলার (দরপত্র আহ্বানের সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১১০ টাকা হিসাবে ১৬৫ কোটি টাকা) খরচে যে কাজ করা সম্ভব ছিল, সেটা করতে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ৩২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে যন্ত্রপাতি কেনার আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়।

এ অবস্থায় প্রকল্পটি ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর দুদক প্রকাশ্য অনুসন্ধানে নামলে স্থবির হয়ে পড়ে প্রকল্পের কার্যক্রম। অনুসন্ধানে পদে পদে অনিয়মের প্রমাণ পায় দুদক। প্রকল্পের গোপনীয়তার শর্ত লঙ্ঘন, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করে সরকারি বিপুল অর্থের অপচয়, ক্ষমতার অপব্যবহার, পিপিআর লঙ্ঘন, মানহীন যন্ত্রপাতি ক্রয়, বুয়েটের প্রস্তাবের চেয়ে চার গুণ বেশি যন্ত্রাংশ ক্রয়চেষ্টার সত্যতা পায় সংস্থাটি। অভিযোগটি এখনও দুর্নীতি দমন কমিশনে অনুসন্ধানাধীন।

এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার পালাবদলে তথ্য ও যোগাযোগ উপদেষ্টা হন বর্তমান এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে তার দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে ও যন্ত্রাংশ ক্রয়ের উদ্দেশ্যে চায়নায় ফ্যাক্টরি ভিজিটে যেতে তিন কর্মকর্তার অনুকূলে জিও জারি করা হয়। তবে, দুর্নীতির বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর নাহিদ সেই জিও বাতিল করান। একইসঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগটি তদন্তের উদ্যোগ নেন তিনি। তবে, নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দায়িত্ব নিয়ে আবার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে ওঠেন। প্রকল্পের সরঞ্জাম আমদানি করতে শুরু হয় তোড়জোড়। প্রথমে গত বছরের ১৩ এপ্রিল ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে দুদকে চিঠি দিয়ে প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এছাড়া, ১৬ এপ্রিল ফের বিটিসিএল থেকে ফ্যাক্টরি ভিজিটে চায়না যাওয়ার অনুমতি চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়। তবে, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি না দিয়ে আবেদনটি ফেরত পাঠানো হয়। এ পরিস্থিতিতে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব তার ব্যক্তিগত সহকারীকে নিয়ে নিজেই যান চীনে। গত ৪ মে জারি করা জিও থেকে জানা যায়, চীন ভ্রমণের সব ব্যয় বহন করে চায়না এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (সিইএবি)।

আরও পড়ুন

জানা যায়, সিইএবি বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করা ৩০০টিরও বেশি বড় চীনা কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করে। সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে হুয়াওয়ে টেকনোলজিস। আর বিটিসিএলে ফাইভজি প্রকল্পে যন্ত্রাংশ সরবরাহের কার্যাদেশ পেয়েছে এই হুয়াওয়ে টেকনোলজিস।

গত ১৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাব দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের তৎকালীন সচিব খোরশেদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘এ প্রকল্পের ক্রয় প্রক্রিয়ার অবশিষ্ট কার্যক্রম এগিয়ে বা চালিয়ে নিলে তা আইনের ব্যত্যয় হবে বলে প্রতীয়মান হয় এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ ব্যয় আইনসিদ্ধ হবে না বলে অনুমেয়।’

দুদকের এই মতামত পাওয়ার পর চীন থেকে ফিরেই বেপরোয়া হয়ে পরেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। ২২ জুন তার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্যাডে একটি আধাসরকারি পত্র দেন দুদক চেয়ারম্যানকে। প্রকল্পের সুফল ও গুরুত্ব তুলে ধরে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ফাইভজির উপযোগীকরণে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রাখা একান্ত প্রয়োজন। এরপর এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত মনোযোগ ও আন্তরিক সহযোগিতা চান তিনি।

দুদক চেয়ারম্যান সেই চিঠির কি জবাব দিয়েছেন বা আদৌ দিয়েছেন কি না বা চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না, তা জানা যায়নি। তবে, দুদকের অনুসন্ধানে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যায়।

এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ বলেন, অভিযোগটি ঘিরে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে এরই মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। শিগগিরই প্রতিবেদন দাখিল করবেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা। প্রতিবেদনের আলোকে কমিশনের অনুমোদনক্রমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ১৮ ও ১৯ মে বিটিসিএলের ফাইভজি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে চিঠি দিয়ে যন্ত্রাংশ পাঠানোর কথা বলে হুয়াওয়ে। কোনো কিছুতেই যখন কোনো বৈধ অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয় বিটিসিএলের এমডিকে। ২৫ মে উপসচিব মৌরান করিম স্বাক্ষরিত সেই চিঠিতে নিজের ইচ্ছামতো কিছু নির্দেশনা দিয়ে ফয়েজ তৈয়্যব ওই প্রকল্পের মালপত্র শিপমেন্ট করার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে বিটিসিএলের মধ্যকার সেই চিঠি প্রকল্প পরিচালক এনডোর্স করে হুবহু পাঠিয়ে দেন হুয়াওকে। হুয়াওয়েও নির্দেশ পেয়ে মালপত্র শিপমেন্ট করে।

জানা গেছে, এখন সেই প্রকল্পে এলসির প্রায় ১০০ কোটি টাকা পরিশোধের জন্য ব্যাংক ম্যানেজারকে নানাদিক থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। চীনের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সুইফটে টাকা চাওয়া অব্যাহত আছে। অন্যদিকে, হুয়াওয়ে বাংলাদেশ ও হুয়াওয়ের পক্ষে নিয়োগকৃত বাংলাদেশি বিভিন্ন লবিস্ট নিয়মিত ব্যাংক ম্যানেজারকে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে। অনুসন্ধান চলমান থাকায় ব্যাংক ম্যানেজার টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। উপায়ান্তর না পেয়ে ব্যাংক ম্যানেজার বেশ কয়েকবার দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও দেখা করেছেন। অনুসন্ধান শেষ হলেও দুদকের প্রতিবেদন কোনো এক অদৃশ্য কারণে আটকে আছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সঙ্গে। একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। এরপর প্রশ্ন লিখে মেসেজ পাঠালে তিনি “বিটিসিএল কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘ফাইভজি’র উপযোগীকরণে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের প্যাকেজ নং-GD-01 এর আওতায় আমদানীকৃত যন্ত্রপাতির গুণগতমান নিশ্চিতকল্পে গঠিত সাবজেক্ট ম্যাটার এক্সপার্ট টিমের প্রতিবেদন শীর্ষক একটি রিপোর্ট হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।’ এরপর লেখেন, ‘এ ধরনের চাপ দেওয়ার কোনো বিষয় নেই। বরং বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট নিয়ে কমিটি করে ইন্টেনসিভ টেস্টিং করা হয়েছে। এখানে রিপোর্ট আছে। মন্ত্রণালয় থেকে এর বাইরে কোনো কিছু করা হয়নি।’

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে বড় সহায়তা চায় বাংলাদেশ
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে বড় সহায়তা চায় বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠক
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বেড়েছে জাহাজ, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংও। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটোরিয়ামে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বাগেরহাট ও মোংলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় আয় বেড়েছে ৪০৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ সময়ে বন্দরে এসেছে ৮১৫টি জাহাজ। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন, আর কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউজ। এছাড়া আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সক্ষমতা বাড়াতে নতুন সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তবে ১৪৪ কিলোমিটার চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা এখনও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা আরও জানান, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। আরটিভি/এসআর  
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে যোগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক জানান, তারেক রহমান মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ‘নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জ’-এ সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ এ অধিবেশনে যোগ দেন।  সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনের আসনগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো থাকায় বি আদ্যাক্ষরের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল প্রথম সারিতে আসন পায়। অধিবেশনস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। মিলনায়তনে প্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রী ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি ড. খলিলুর রহমানকে অভিবাদন জানান। এরপর তিনি আসন গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত ২ জুন অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ৯৯টি ভোট পেয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনে প্রবেশ করে নিজ আসনে বসার পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন। এবারের অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুগুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে, যা হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্ব সংস্থায় তাঁর প্রথম ভাষণ। ভাষণটি তিনি বাংলায় দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, তিনি সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভাষণ দেবেন, যেখানে তিনি বিশ্ব শান্তিরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরবেন। আরটিভি/এসআর
জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর
চলতি অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডে (জিপিএফ) ১১-১৩ শতাংশ হারে মুনাফা দেবে সরকার। তহবিলে জমা অর্থের পরিমাণ অনুযায়ী তিন স্তরে এ মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরেও একই হারে মুনাফা দেওয়া হয়েছিল। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ বিভাগ। এতে বলা হয়, প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রারম্ভিক স্থিতি বা চলতি অর্থবছরে জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে মুনাফার হার হবে ১৩ শতাংশ। ১৫ লাখ টাকার বেশি থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১২ শতাংশ এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি হলে মুনাফার হার হবে ১১ শতাংশ। জিপিএফের আদলে পরিচালিত প্রদেয় ভবিষ্যৎ তহবিলের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিধি অনুযায়ী মুনাফার হার নির্ধারণ করতে পারবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের সর্বনিম্ন ৫-২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ প্রদেয় ভবিষ্যৎ তহবিলে জমা রাখতে পারেন। অন্যদিকে, সিপিএফভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মূল বেতনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদা দিতে পারেন।  জিপিএফ ও সিপিএফ উভয় ক্ষেত্রেই কর্মীর জমার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত অংশ অর্থ দেয়। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত মূল বেতনের ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ অর্থ এ তহবিলে দেয়। জমা করা অর্থের ওপর চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা পান অংশগ্রহণকারীরা। আরটিভি/এসআর  
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর
আরও পড়ুন
একনেকে অনুমোদন পেল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প
একনেকে অনুমোদন পেল ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্প 
সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে বড় পরিকল্পনা, ২০৩০ সালের মধ্যে মিলবে ৬৮৯ মেগাওয়াট
অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে সচিবদের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ