বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৬ বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের মধ্যে সম্পন্নযোগ্য ২২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন ও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অধীন দপ্তর-সংস্থার প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ইশতেহার বাস্তবায়নে নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রতি সপ্তাহে উপস্থাপন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত ফলোআপের নির্দেশনাও দেন তিনি। তার ভাষায়, ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার।
কর্মশালায় জানানো হয়, শ্রম আইন সংস্কার ও আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ শ্রম অধ্যাদেশ, ২০২৫-কে আইনে রূপান্তরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ মার্চ ২০২৬। একই সঙ্গে বাংলাদেশ শ্রম আইনের আলোকে নতুন শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন এবং শিশুশ্রম ও জবরদস্তিমূলক শ্রম বন্ধে পৃথক আইন প্রণয়নের কাজ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর্মসংস্থান খাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট একচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কর্মসংস্থান অধিদপ্তর গঠনের সময়সীমা ধরা হয়েছে ৩০ আগস্ট ২০২৬।
জাতীয় কর্মসংস্থান নীতিমালা ২০২২-এর আলোকে জাতীয় কর্মসংস্থান কৌশলপত্র প্রণয়ন এবং নীতিমালায় উল্লেখিত বিভিন্ন কমিটি গঠন ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সহযোগিতায় হালনাগাদ কর্মসংস্থান জরিপ আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শ্রম প্রশাসন শক্তিশালী করতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের বিভিন্ন ক্যাটাগরির শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্নের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট খাতে শ্রমিকদের জন্য আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড ট্যানারি, হোটেল ও আয়রন ফাউন্ড্রি খাতে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করবে বলে জানানো হয়।
এ ছাড়া ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটাল ব্যবস্থায় সহজীকরণের কাজ ২০২৬ সালের ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শ্রমবিচার প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুরোনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতি চালুর সময়সীমা ধরা হয়েছে আগামী ৩০ জুন।
রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে শতভাগ কারখানায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধে অ্যান্টি-হারাসমেন্ট কমিটি গঠনের কাজ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তহবিল ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাধ্যমে অন্তত ৩০০টি কোম্পানিকে ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ)-এর আওতায় আনার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
আরটিভি/এসকে





