কানাডার ‘বেগমপাড়ায়’ ওয়াসার এমডির স্ত্রীর নামে বাড়ি

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬ , ০৫:০২ পিএম


কানাডার ‘বেগমপাড়ায়’ ওয়াসার এমডির স্ত্রীর নামে বাড়ি
ঢাকা ওয়াসার এমডি আব্দুস সালাম ব্যাপারী ও তার স্ত্রী মাহবুবুন্নেছা। ছবি সংগৃহীত

ঢাকা ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে কানাডায় বিপুল মূল্যের সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা প্রথম আলো এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছে, টরন্টোতে তার স্ত্রীর নামে কেনা একটি বাড়ি রয়েছে, যেটির বর্তমান বাজারমূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ কোটি টাকা। 

বিজ্ঞাপন

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকা প্রথম আলো এই বিষয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

পত্রিকাটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, কানাডার ভূমি নিবন্ধন অফিস ‘সার্ভিস অন্টারিও’ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ আব্দুস সালাম ব্যাপারী ও তার স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার নামে বাড়িটি কেনা হয়। কেনার সময় প্রায় ১২ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলেও বর্তমানে এর দাম ২০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। পরবর্তীতে কৌশলে ২০২৩ সালে মালিকানার অংশ থেকে নিজের নাম বাদ দিয়ে এক ছেলের নাম যুক্ত করেন আব্দুস সালাম। সবশেষে পুরো মালিকানা স্থানান্তর করা হয় তার স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার নামে। 

বিজ্ঞাপন

ঢাকা ওয়াসা সূত্রের দাবি, ২০০৮ সালের দিকে দুই ছেলেকে নিয়ে কানাডায় যান আব্দুস সালাম ব্যাপারীর স্ত্রী মাহবুবুন্নেছা। মাহবুবুন্নেছা নিজেও ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। যথাসময়ে দেশে ফেরত না আসায় তিনি আর চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। সূত্র আরও বলছে, সালামের দুই সন্তান যখন পড়াশোনায় ছিলেন, তখন তাঁদের কানাডায় নিয়ে যান মাহবুবুন্নেছা।

আরও পড়ুন

আব্দুস সালাম ব্যাপারীকে ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটিও ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। গত বছর ১১ নভেম্বর তাকে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, তাকে যোগ্য করতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছিল এবং কোনো ধরনের সাক্ষাৎকার ছাড়াই তাকে তালিকার শীর্ষে রাখা হয়। অথচ ১৯৯১ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, যার ফলে বিগত সরকারের আমলে তাকে প্রায় চার বছর কাজবিহীন বা ‘ওএসডি’ করে রাখা হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আব্দুস সালাম তার পুরো চাকরিজীবনে বেতন-ভাতা বাবদ সর্বমোট আড়াই কোটি টাকার মতো পেয়েছেন। আয়ের এই তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বৈধ উপার্জন দিয়ে কানাডায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ কেনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। 

কানাডায় বহু বাংলাদেশির বাড়ি রয়েছে। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে কেনা অনেক বাড়িতে বাংলাদেশি নাগরিকদের স্ত্রী ও সন্তানেরা বাস করেন। এ কারণে ওই সব এলাকা ‘বেগমপাড়া’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। কানাডায় পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা ও পাচারকারীদের বিচারের আওতায় আনা নিয়ে অতীতে অনেক কথা হয়েছে, কাজ তেমন একটা হয়নি।

আর্থিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমটিকে বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার পক্ষে বৈধ আয় দিয়ে কানাডায় বাড়ি কেনা অসম্ভব। এটি স্পষ্টতই অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের শামিল। বিষয়টির সুনির্দিষ্ট তদন্ত হওয়া উচিত এবং তদন্ত চলাকালীন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা প্রয়োজন।

কানাডায় বাড়ি থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুস সালাম ব্যাপারী প্রথমে বিষয়টি স্বীকার করলেও দাবি করেন এটি তার সন্তানরা কিনেছেন। তবে সন্তানদের পড়াশোনা ও কর্মজীবনের সময়কাল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাড়িটি কেনার সময় তারা শিক্ষার্থী ছিলেন। এ নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান এবং ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে খবর ছাপলে মামলার হুমকি দেন।

বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে বলেন, আমি এখনো এই কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। মন্ত্রণালয় সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা নিতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এআর 
 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission