ভিড় কমেনি ফিলিং স্টেশনে, দীর্ঘ হচ্ছে লাইন

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬ , ০৪:৩৭ পিএম


ভিড় কমেনি ফিলিং স্টেশনে, দীর্ঘ হচ্ছে লাইন
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভিড় করছেন যানবাহনের চালকরা। এতে আজও ঢাকার অনেক ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে দীর্ঘ যানবাহনের সারি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে এমন চিত্র দেখা যায়। একই পরিস্থিতি রাজধানীর আরও বেশ কয়েকটি এলাকায় লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাখালী থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে পর্যন্ত মোটরসাইকেলের কয়েকটি লাইন দাঁড়িয়ে আছে তেল নেওয়ার অপেক্ষায়। পাশাপাশি রয়েছে প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি। চালকেরা নির্ধারিত সিরিয়াল মেনে ধীরে ধীরে এগিয়ে পাম্প থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলচালক আশিকুজ্জামান চয়ন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর তেল নিতে পেরেছেন তিনি। তার ভাষ্য, অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। তাও মাত্র ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হয়েছে।

আরেক মোটরসাইকেলচালক রাব্বি বলেন, গাড়িতে তেল প্রায় শেষ। গত দুদিন পাম্পের ভিড় দেখে তেল নেইনি। ভেবেছিলাম কিছুদিন পর চাপ কমবে। কিন্তু এখন শুনছি অনেক পাম্পে তেল নেই বলে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিচ্ছি। না হলে গাড়ি ঠেলে নিতে হতো।

বিজ্ঞাপন

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে গত শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি তেল সরবরাহে কিছু সীমা নির্ধারণ করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, একবারে মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেটকারে ১০ লিটার, এসইউভি/জিপ/মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ বা লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি নেওয়া যাবে।

শুক্রবার পরীবাগে একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা অস্বাভাবিক নয়। তবে জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, গত কয়েক দিনে চাহিদার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সরকার চেষ্টা করছে যেন দাম না বাড়াতে হয়। একান্ত প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে জনগণকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদও একটি পাম্প পরিদর্শন করে জনগণকে প্রয়োজনের বেশি তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছে বিপিসি।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission