ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্যামিলি কার্ডের সফল বাস্তবায়নে দারিদ্র্যমুক্ত হবে ১ কোটি ২৩ লাখ মানুষ: গবেষণা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের অতি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় আশার আলো দেখাচ্ছে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। সাম্প্রতিক রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) এক গবেষণা অনুযায়ী, এই প্রকল্প যদি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশে ১ কোটি ২৩ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে স্থায়ী মুক্তি পাবে। একই সঙ্গে অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৫৬ লাখ হ্রাস পাবে এবং প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার গুলশানে আয়োজিত এক সেমিনারে র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এই তথ্য উপস্থাপন করেন।

২০২২ সালের হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভের (এইচআইইএস) তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে সার্বিক দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সকল দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা প্রদান করলে দারিদ্র্যের হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসবে। এছাড়া অতি দারিদ্র্য ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাবে বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে তার দলের ইশতেহারের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে ঢাকার কড়াইল বস্তিতে এই কর্মসূচির একটি পাইলট প্রকল্প চলমান রয়েছে।

র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রতিশ্রুত অর্থ যদি প্রকৃত দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, তবে বাস্তবায়নের প্রথম বছরেই দারিদ্র্য বিমোচনে দেশ এক অভাবনীয় দৃশ্যমান ফলাফল দেখতে পাবে।

সেমিনারে জানানো হয়, অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির সুবিধা থেকে প্রায় ৬৩ শতাংশ দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত ছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায়। তবে মাঠ পর্যায়ে সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু অসামঞ্জস্যতা ও চ্যালেঞ্জের কথা উঠে এসেছে।

সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ প্রকল্পের লক্ষ্য নির্ধারণে আসা বিভিন্ন অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয় নিশ্চিত করাই এখন এই কর্মসূচির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তালিকায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সচিব জানান, এমনও অভিযোগ পাওয়া গেছে যেখানে তিন তলা বাড়ির মালিকের নামও এই তালিকায় উঠেছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা প্রকৃত দরিদ্রদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে।

ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের সহায়তায় আয়োজিত এই সেমিনারে বক্তারা একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন, যাতে ফ্যামিলি কার্ড কেবল প্রকৃত হকদারদের হাতেই পৌঁছায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হাতে সরাসরি নগদ অর্থ পৌঁছালে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে সচিবদের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ
বিদ্যুতের চলমান সংকট মোকাবিলা এবং সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সচিবদের। পাশাপাশি কাজের দক্ষতা বাড়ানো, প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে সচিবদের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ
পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৮ কর্মকর্তাকে বদলি
বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আট কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৮ কর্মকর্তাকে বদলি
সাত মাসে সর্বোচ্চ মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে সরকার: মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, নির্বাচিত বিএনপি সরকার গত সাত মাসে দেশে মানুষের অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে।
সাত মাসে সর্বোচ্চ মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে সরকার: মাহদী আমিন
শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছি, ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদেরকে কেন চাইব না: ডা. জাহেদ
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য যাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মামলা রয়েছে, সাজা হয়েছে, তাদেরও ফেরত চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।  মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে নিজের সৌজন্য সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বৈঠকে শেখ হাসিনা এবং অন্যদের বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।’  তিনি বলেন, আমি তাকে আমার জায়গা থেকে জানানোর চেষ্টা করেছি, শেখ হাসিনা এবং অন্য যারা আছেন, তাদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান কী। বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ওয়ার্কিং এনগেজমেন্টের জন্য এসব বিষয় তাদের বিবেচনা করা উচিত।’ শুধু শেখ হাসিনা নন, অন্যদেরও ফেরত চাওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনাকে চাইছি, ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদের চাইবো না কেন? যারা যেখানে আছেন এবং যাদের অবস্থান সম্পর্কে আমরা জানি, সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে নিশ্চয়ই তাদের চাওয়া হবে।’ ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সহজীকরণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমি ভারত সরকারের কাছেও আহ্বান জানাতে চাই, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সহজীকরণের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’  তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারের সময় সংঘটিত ঘটনাগুলোকে কেবল জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই।’  তিনি বলেন, ‘আমরা যেন এই ভুলটা না করি যে শেখ হাসিনা শুধু জুলাইয়ে এসে খারাপ হয়েছেন। বর্বরতা বহু আগে থেকে, বছরের পর বছর চলেছে। নানাভাবে অনেক মানুষ সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’  বিদেশে অবস্থান করে বাংলাদেশের রাজনীতি ও পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়াও দেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘তারা যখন অন্য একটি দেশের মাটিতে বসে আরামের জীবনযাপন করেন এবং সেখান থেকে নানা বক্তব্য ও নসিহত করেন, সেটা নিশ্চয়ই মানুষকে আহত করে। আমি আশা করি ভারত সরকার বিষয়টি বুঝবে এবং তাদের আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে।’  তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশে ফেরাতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং অতীতের ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আরটিভি/এসআর  
শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছি, ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদেরকে কেন চাইব না: ডা. জাহেদ
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন বুধবার
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।  বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আরটিভি/এসআর  
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন বুধবার
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান লালন-পালনে কম খরচ হয় যেসব রাজ্যে
বিশ্বখ্যাত প্যালগ্রেভ এনসাইক্লোপিডিয়ায় বাংলাদেশি গবেষক তাসরিফের লেখা
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে ত্রুটি মাত্র ১.২ শতাংশ: অর্থমন্ত্রী
আঙুল মটকানো ভালো না খারাপ? কী বলছে গবেষণা