এবার মেলায় ১৭ কোটি টাকার বই বিক্রি

আরটিভি নিউজ

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬ , ০৬:০৬ পিএম


এবার মেলায় ১৭ কোটি টাকার বই বিক্রি
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন ও রমজানের কারণে পিছিয়ে যাওয়া এবারের অমর একুশে বইমেলা শেষ হয়েছে ১৮ দিনেই। সংক্ষিপ্ত সময়ের এই মেলায় অংশ নেওয়া ৫৭০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১৭ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১৫ মার্চ) সমাপনী অনুষ্ঠানে মেলা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

তবে গত বছরের তুলনায় এবার বই বিক্রি ও নতুন বই প্রকাশের সংখ্যা- দুটোই কমেছে। 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেলার দিন কমে যাওয়া এবং প্যাভিলিয়ন না থাকাই বিক্রিতে প্রভাব ফেলেছে।

বিক্রির খতিয়ান
রোববার মেলার মূল মঞ্চে সমাপনী প্রতিবেদন পাঠ করেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব সেলিম রেজা। 

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২৬৯টি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৭ দিনে তাদের বিক্রির পরিমাণ ছিল আট কোটি টাকা। গড় হিসাবে ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৭ দিনে ১৭ লাখ ৪ হাজার ৬২৯ টাকার বই বিক্রি করেছে। ২০২৪ সালে মেলায় বই বিক্রি হয়েছিল ৬০ কোটি টাকার এবং ২০২৩ সালে বিক্রি হয়েছিল ৪৭ কোটি টাকার।

বিজ্ঞাপন

কমেছে অংশগ্রহণ ও বইয়ের সংখ্যা
গত বছর মেলায় ৭০৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও এবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭০-এ। মেলার তথ্যকেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ১৪ মার্চ পর্যন্ত নতুন বই জমা পড়েছে ১ হাজার ৭৭টি। তবে অনেক প্রকাশক বই জমা না দেওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবার মোট ২৫২টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

মেলার আয়োজন ও বৈশিষ্ট্য
এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মেলার উদ্বোধন করেছিলেন। মেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মোট ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার ৬৮টি ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এবার কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার স্টল ভাড়া মওকুফ করায় প্রকাশকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে।

প্রাণবন্ত ছিল শিশু চত্বর
শিশুদের জন্য এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের সামনে বড় পরিসরে শিশু চত্বর সাজানো হয়েছিল। প্রতি শুক্র ও শনিবার ছিল ‘শিশুপ্রহর’। পাপেট শো এবং বায়োস্কোপ শিশুদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্য আয়োজিত আবৃত্তি, সংগীত ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সমাপনী দিনে পুরস্কৃত করা হয়।

​বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। 

স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। 

অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত 'গুণিজন স্মৃতি পুরস্কার' প্রদান করা হয়।

​মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব সেলিম রেজা বলেন, ‘বইমেলা নিছক বিকিকিনির হাট নয়; এটি আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও চেতনার অংশ। বইমেলা আজ আমাদের প্রাণের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।’

আরটিভি/এমএ 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission