ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদযাত্রা: বাস টার্মিনাল ও রেল স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ঢল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা থেকে বাড়িমুখী মানুষের ঢল নেমেছে আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। এতে মহাসড়কসহ এর আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

মূলত সোমবার (১৬ মার্চ) শেষ কর্মদিবস হওয়ায় চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়িতে রওনা হয়েছেন। সে কারণে বিকেলের পর থেকে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে। ইফতার শেষে সন্ধ্যার পর সেই চাপ আরও কিছুটা বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে দূরপাল্লার কিছু কিছু বাস কাউন্টারে টিকিট সংগ্রহের জন্য যাত্রীরা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। কিছু কিছু পরিবহনের টিকিট পাওয়া না গেলেও বেশিরভাগ পরিবহনেরই আজ সহজে টিকিট মিলছে।

আজ দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী গাবতলী, কল্যাণপুর বাস টার্মিনাল থেকে পাওয়া তথ্যে ঈদযাত্রার এমন চিত্র উঠে এসেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এসব টার্মিনালের টিকিট কাউন্টারগুলোতে ভিড় করছেন ঘরমুখো মানুষ। যারা টিকিট সংগ্রহ করেছেন তারা নির্দিষ্ট গাড়ির অপেক্ষায় কাউন্টারে বসে সময় গুনছেন। যারা টিকিট কাটতে পারেননি তারা টিকিটের জন্য কাউন্টারগুলোর সামনে ভিড় করছেন। অধিকাংশ দূরপাল্লার যাত্রীরা আজ কাউন্টারে সহজে টিকিট পাচ্ছেন। আবার কোনো কোনো পরিবহনের গাড়িতে দেখা গেছে আসন সংকটও। কোনো কোনো কাউন্টারে দেখা গেছে বিপরীত চিত্রও। সেসব কাউন্টারে টিকিটের জন্য যাত্রীর চাপ অনেকটাই কম। সেখানকার দায়িত্বরত পরিবহন শ্রমিকেরা যাত্রীর খোঁজে হাঁকডাক ছাড়ছেন।

সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাস টার্মিনালগুলো ঘিরে আশপাশের সড়কে তৎপরতা দেখা গেছে। পাশাপাশি টার্মিনালগুলোতে র‍্যাব ও পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নজরদারি করতেও দেখা যায়।

আরও পড়ুন

গাবতলী বাস টার্মিনালে সাকুরা এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার রিপন বলেন, আজকে আমাদের ১৩টি গাড়ি গাবতলী থেকে ছেড়ে গেছে। কোনো গাড়িতেই আসন ফাঁকা ছিল না। রাত ১২টায় আরেকটি গাড়ি আছে, সেটিতেও আসন ফাঁকা নেই। কেউ চাইলে ইঞ্জিন কাভারে বসে যেতে পারবেন। এখন পর্যন্ত মোটামুটি যাত্রীর চাপ আছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের ভোগান্তি নেই বললেই চলে। আগে ঈদের সময় টার্মিনালে পা রাখা যেতো না। একপাশ থেকে অন্যপাশে যেতে এক ঘণ্টা সময় লাগতো। যাত্রীদেরও কষ্টের সীমা ছিল না। এখন ঈদযাত্রীরা আরামে টিকিট সংগ্রহ করে ভ্রমণ করতে পারছেন। টার্মিনালেও তেমন জটলা নেই।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার পাপ্পু বলেন, গত দু-তিন দিনের তুলনায় আজ যাত্রীর চাপ কিছুটা বেশি। তবে খুব বেশি নয়। অতিরিক্ত গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার মতো যাত্রী নেই। যে পরিমাণ যাত্রী আসছে তাতে শিডিউলের গাড়িগুলোই যথেষ্ট। তবে কোনো গাড়িতেই আসন ফাঁকা থাকছে না।

কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে কথা হয় সাতক্ষীরার যাত্রী রবিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, দুপুরে শ্যামলী থেকে টিকিট কেটেছি। গাড়ি সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে। কাউন্টারে গিয়েই টিকিট পেয়েছিলাম। বাসা ঢাকা উদ্যানের পাশে হওয়ায় বেড়িবাঁধ দিয়ে গাবতলী এসেছি। এখান থেকে গাড়িতে উঠবো। তবে গাবতলী কাউন্টারে টিকিটের খোঁজ নিয়ে জানলাম এখানে টিকিট নেই। দুপুরে শ্যামলী থেকে টিকিট কেটে না রাখলে আজ বাড়ি যেতে পারতাম না।

546456

ঈদের ছুটি কাটাতে গ্রামের বাড়ি মাগুরায় যাবেন মো. রাসেল। তিনি বলেন, বাড়িতে যাওয়ার জন্য কাউন্টারে এসেছি। কয়েকটা কাউন্টারে ঘুরলাম, এখনো টিকিট পাইনি। তবে নরমাল গাড়িগুলোতে সিট ফাঁকা আছে। ভালো গাড়িতে টিকিট খুজছিলাম, পেলাম না। দেখি, যদি ভালো কোনো গাড়িতে টিকিট পাই তবে চলে যাবো। আর না পেলে যে গাড়ি পাবো সেটাতেই যেতে হবে।

পাবনার যাত্রী এমদাদ হোসেন বলেন, গাড়ির অপেক্ষায় বসে আছি। টিকিট পেতে খুব একটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। কাউন্টারে এসে যে গাড়িটা পেয়েছি সেটিতে কোনো সিট ছিল না। সন্ধ্যা ৭টার গাড়িতে ছিট পেয়েছি।

এদিকে, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকিট কেটে রাখা যাত্রীদের ঈদযাত্রা শুরু হয় শুক্রবার (১৩ মার্চ)। সে হিসেবে আজ ট্রেনের অগ্রিম টিকিটধারীরা চতুর্থ দিনের ঈদযাত্রায় গ্রামের বাড়িতে ছুটছেন। তবে গত তিনদিন ঘরমুখো মানুষের ট্রেনযাত্রায় তেমন ভিড় দেখা যায়নি। বাড়তি ভিড় না থাকায় অনেকটা স্বস্তি ও আনন্দদায়ক পরিবেশে বাড়ি ফিরেছেন তারা। তবে আজ সেই চিত্র কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে। গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ট্রেনগুলোর পাশাপাশি সবগুলো প্লাটফর্মে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।

546645456

সরেজমিনে দেখা যায়, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাত ৮টায় লালমনি, রংপুর, কুড়িগ্রাম, বুড়িমারীর উদ্দেশে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ছেড়ে গেছে। উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা করা এই ট্রেনে ঠেসে ঠেসে চড়ে গন্তব্যে ছুটছেন ঘরমুখো মানুষ। যাত্রীদের চাপে অতিরিক্ত বগি দেওয়া সত্ত্বেও অনেকে টিকিট নিয়ে নিজ বগিতে চড়তে পারেননি। গেটে ঝুলে ঝুলে যেতে দেখা গেছে অনেককে। তবে ট্রেনের ছাদে চড়ে কাউকে যেতে দেয়নি স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

শুধু কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নয়, প্রতিটি ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছানো যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তুষ্টি লক্ষ্য করা গেছে। তবে যাত্রীদের অনেকেই টিকিট কেটেও নিজের আসনে পৌঁছাতে পারেননি। কিংবা নির্ধারিত বগি খুঁজে পাননি।

ট্রেনের টিটিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিনদিনের তুলনায় আজ সন্ধ্যা থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে। আগামী দিনগুলোতে চাপ আরও বাড়বে। বেসরকারি অনেক চাকরিজীবীদের আগামী বুধবারও অফিস করতে হবে। ওইদিন সবচেয়ে বেশি ভিড় হতে পারে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সেনাবাহিনী-সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: আইএসপিআর
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এ অবস্থায় সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান সম্পর্কিত যেকোনো তথ্যের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে আইএসপিআর এ আহ্বান জানায়। এতে বলা হয়, সুদৃঢ় চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক আস্থা, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা ঐক্যবদ্ধ। দেশ ও জনগণের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালনে বাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আইএসপিআর জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচারের বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব তথ্যের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার জন্য সবাইকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ‘রিউমর স্ক্যানার’-এর ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণেও সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘিরে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি উঠে এসেছে। এসব অপতথ্যের বেশিরভাগই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি এবং ভিত্তিহীন। ‘রিউমর স্ক্যানার’-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাহিনীর উচ্চপদস্থ নেতৃত্বকে ঘিরে অন্তত ৯৬টি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৭৪। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে অপতথ্য ও গুজবের পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।মানচিত্র দেখুন একই সময়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে নিয়ে ২১টি সুনির্দিষ্ট ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়, যা নিরপেক্ষ ফ্যাক্টচেকিংয়ে ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। শুধু সেনাবাহিনী নয়, সামগ্রিকভাবে সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ১৯৫টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। আরটিভি/এসআর
সেনাবাহিনী-সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: আইএসপিআর
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বাংলাদেশ ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। এ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় দেশের শান্তিরক্ষা অভিজ্ঞতার সম্ভাব্য অবদানের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘আমরা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা করছি। আমরা এটিকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখছি।’ হুমায়ুন কবির বলেন, চুক্তিটি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে থাকলে এবং শান্তিরক্ষায় দেশের অভিজ্ঞতা যদি মুসলিম দেশগুলোর কল্যাণ ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে, তবে বাংলাদেশ এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তিনি বলেন, ‘যদি এটি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং আমরা অনুভব করি যে আমাদের শান্তিরক্ষার অভিজ্ঞতা মুসলিম দেশগুলোর সেবায় ও একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য গঠনে অবদান রাখতে পারে, তবে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সব সুযোগ রয়েছে।’ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ যৌথভাবে ‘ফ্রম ওয়ার্কফোর্স টু স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ : রিম্যাজিনিং বাংলাদেশ-কেএসএ রিলেশনস’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সের রাজকীয় অতিথি হিসেবে সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং খুব শিগগিরই সুবিধাজনক সময়ে সেখানে সফর করবেন।’ তিনি আরও বলেন, সৌদি ক্রাউন প্রিন্সও বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং উভয়ের জন্য সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা তাকে স্বাগত জানাবে। হুমায়ুন কবির বলেন, প্রস্তাবিত এই সফরগুলো দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন। তিনি সৌদি আরবের জন্য সামুদ্রিক নিরাপত্তায় বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী অংশীদার হিসেবেও বর্ণনা করেন। একটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে শ্রম অভিবাসন ও রেমিট্যান্সের প্রথাগত কাঠামোর বাইরে সম্প্রসারিত করা উচিত। তিনি বলেন, ‘সেই ভিত্তিটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটিই আমাদের আকাঙ্ক্ষার শেষ সীমা হতে পারে না।’ সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর, দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ, মানবসম্পদ, প্রযুক্তি এবং সংযোগের মতো ক্ষেত্রগুলোতে অভিন্ন স্বার্থ তৈরি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, অগ্রাধিকারমূলক খাতগুলোতে যৌথ বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব সহজ করার জন্য একটি সম্ভাব্য ‘বিনিয়োগ তহবিল’ গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস, কৃষি, মৎস্য, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, ফার্মাসিউটিক্যালস, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সৌদি বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন।  তিনি বলেন, এই ধরনের বিনিয়োগ আকর্ষণে একটি ধারাবাহিক ও স্বচ্ছ ব্যবসায়িক পরিবেশ, উন্নত প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সময়োচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন। সৌদি আরবের শ্রমবাজারের পরিবর্তনশীল চাহিদা মেটাতে প্রশিক্ষিত ও সনদপ্রাপ্ত পেশাদার পাঠানোর ওপর জোর দেন কবির। সৌদি বাজারের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের কল্যাণ, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার থাকবে। প্রতিমন্ত্রী জ্ঞান ও প্রযুক্তি অংশীদারিত্বের পাশাপাশি বন্দর, শিপিং, লজিস্টিকস, এভিয়েশন এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) সহযোগিতার সুযোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘তাই বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায় কেবল সংখ্যার পরিমাপে নয়, বরং মূল্য সৃষ্টির (ভ্যালু ক্রিয়েশন) মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত হওয়া উচিত।’ সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. মুক্তার আহমেদ। বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান এবং এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরীও সেমিনারে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুমায়ুন কবির পুনর্ব্যক্ত করেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বিবেচনার ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতাই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, মক্কা ও মদীনা সংলগ্ন অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখা একটি প্রধান উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ চাইলে সারাবিশ্বে আরও কার্যকর ও ব্যাপকভাবে শান্তিরক্ষায় তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। তিনি আরও বলেন, চুক্তিতে অংশগ্রহণ বা জোটে যোগদানের উদ্যোগগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। হুমায়ুন কবির বলেন, উভয় দেশের মধ্যে মন্ত্রী ও কর্মকর্তা পর্যায়ের সফরসহ নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের আদান-প্রদান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি সৌদি আরবে আরও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবী পাঠানোর পাশাপাশি জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বহুমুখী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা চলছে। ইনশাআল্লাহ, দুই দেশের মধ্যে অনেক নতুন সুযোগ তৈরি হবে।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, লাভজনক খাতগুলোতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব যৌথভাবে বিনিয়োগ করতে পারে, এমন একটি বিস্তৃত বিনিয়োগ অংশীদারত্বের সুযোগ রয়েছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অন্যের ওপর নির্ভরশীলতার দিন শেষ। আমরা এখন দুই দেশের মধ্যে সমতাভিত্তিক অংশীদারত্ব এবং টেকসই নীতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।’ আরটিভি/এসআর
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী  
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে।
দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী  
চারদিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
চারদিনের সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
চারদিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
‘প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে গুরুত্ব পাবে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগ’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে মূল অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
‘প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে গুরুত্ব পাবে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগ’
আরও পড়ুন
মহাখালী বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা এসি বাসে আগুন
রাজধানীতে সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ
রাজধানীর তিন বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
ঈদযাত্রার ১৩ দিনে দুর্ঘটনায় ৩০৬ জনের মৃত্যু