ঈদযাত্রা: বাস টার্মিনাল ও রেল স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ঢল

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ , ১০:০৩ পিএম


ঈদযাত্রা: বাস টার্মিনাল ও রেল স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ঢল

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা থেকে বাড়িমুখী মানুষের ঢল নেমেছে আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। এতে মহাসড়কসহ এর আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

মূলত সোমবার (১৬ মার্চ) শেষ কর্মদিবস হওয়ায় চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়িতে রওনা হয়েছেন। সে কারণে বিকেলের পর থেকে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে। ইফতার শেষে সন্ধ্যার পর সেই চাপ আরও কিছুটা বেড়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে দূরপাল্লার কিছু কিছু বাস কাউন্টারে টিকিট সংগ্রহের জন্য যাত্রীরা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। কিছু কিছু পরিবহনের টিকিট পাওয়া না গেলেও বেশিরভাগ পরিবহনেরই আজ সহজে টিকিট মিলছে।

বিজ্ঞাপন

আজ দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী গাবতলী, কল্যাণপুর বাস টার্মিনাল থেকে পাওয়া তথ্যে ঈদযাত্রার এমন চিত্র উঠে এসেছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, এসব টার্মিনালের টিকিট কাউন্টারগুলোতে ভিড় করছেন ঘরমুখো মানুষ। যারা টিকিট সংগ্রহ করেছেন তারা নির্দিষ্ট গাড়ির অপেক্ষায় কাউন্টারে বসে সময় গুনছেন। যারা টিকিট কাটতে পারেননি তারা টিকিটের জন্য কাউন্টারগুলোর সামনে ভিড় করছেন। অধিকাংশ দূরপাল্লার যাত্রীরা আজ কাউন্টারে সহজে টিকিট পাচ্ছেন। আবার কোনো কোনো পরিবহনের গাড়িতে দেখা গেছে আসন সংকটও। কোনো কোনো কাউন্টারে দেখা গেছে বিপরীত চিত্রও। সেসব কাউন্টারে টিকিটের জন্য যাত্রীর চাপ অনেকটাই কম। সেখানকার দায়িত্বরত পরিবহন শ্রমিকেরা যাত্রীর খোঁজে হাঁকডাক ছাড়ছেন। 

বিজ্ঞাপন

সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাস টার্মিনালগুলো ঘিরে আশপাশের সড়কে তৎপরতা দেখা গেছে। পাশাপাশি টার্মিনালগুলোতে র‍্যাব ও পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নজরদারি করতেও দেখা যায়।

আরও পড়ুন

গাবতলী বাস টার্মিনালে সাকুরা এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার রিপন বলেন, আজকে আমাদের ১৩টি গাড়ি গাবতলী থেকে ছেড়ে গেছে। কোনো গাড়িতেই আসন ফাঁকা ছিল না। রাত ১২টায় আরেকটি গাড়ি আছে, সেটিতেও আসন ফাঁকা নেই। কেউ চাইলে ইঞ্জিন কাভারে বসে যেতে পারবেন। এখন পর্যন্ত মোটামুটি যাত্রীর চাপ আছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের ভোগান্তি নেই বললেই চলে। আগে ঈদের সময় টার্মিনালে পা রাখা যেতো না। একপাশ থেকে অন্যপাশে যেতে এক ঘণ্টা সময় লাগতো। যাত্রীদেরও কষ্টের সীমা ছিল না। এখন ঈদযাত্রীরা আরামে টিকিট সংগ্রহ করে ভ্রমণ করতে পারছেন। টার্মিনালেও তেমন জটলা নেই।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার পাপ্পু বলেন, গত দু-তিন দিনের তুলনায় আজ যাত্রীর চাপ কিছুটা বেশি। তবে খুব বেশি নয়। অতিরিক্ত গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার মতো যাত্রী নেই। যে পরিমাণ যাত্রী আসছে তাতে শিডিউলের গাড়িগুলোই যথেষ্ট। তবে কোনো গাড়িতেই আসন ফাঁকা থাকছে না।

কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে কথা হয় সাতক্ষীরার যাত্রী রবিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, দুপুরে শ্যামলী থেকে টিকিট কেটেছি। গাড়ি সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে। কাউন্টারে গিয়েই টিকিট পেয়েছিলাম। বাসা ঢাকা উদ্যানের পাশে হওয়ায় বেড়িবাঁধ দিয়ে গাবতলী এসেছি। এখান থেকে গাড়িতে উঠবো। তবে গাবতলী কাউন্টারে টিকিটের খোঁজ নিয়ে জানলাম এখানে টিকিট নেই। দুপুরে শ্যামলী থেকে টিকিট কেটে না রাখলে আজ বাড়ি যেতে পারতাম না।

546456

ঈদের ছুটি কাটাতে গ্রামের বাড়ি মাগুরায় যাবেন মো. রাসেল। তিনি বলেন, বাড়িতে যাওয়ার জন্য কাউন্টারে এসেছি। কয়েকটা কাউন্টারে ঘুরলাম, এখনো টিকিট পাইনি। তবে নরমাল গাড়িগুলোতে সিট ফাঁকা আছে। ভালো গাড়িতে টিকিট খুজছিলাম, পেলাম না। দেখি, যদি ভালো কোনো গাড়িতে টিকিট পাই তবে চলে যাবো। আর না পেলে যে গাড়ি পাবো সেটাতেই যেতে হবে।

পাবনার যাত্রী এমদাদ হোসেন বলেন, গাড়ির অপেক্ষায় বসে আছি। টিকিট পেতে খুব একটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। কাউন্টারে এসে যে গাড়িটা পেয়েছি সেটিতে কোনো সিট ছিল না। সন্ধ্যা ৭টার গাড়িতে ছিট পেয়েছি।

এদিকে, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকিট কেটে রাখা যাত্রীদের ঈদযাত্রা শুরু হয় শুক্রবার (১৩ মার্চ)। সে হিসেবে আজ ট্রেনের অগ্রিম টিকিটধারীরা চতুর্থ দিনের ঈদযাত্রায় গ্রামের বাড়িতে ছুটছেন। তবে গত তিনদিন ঘরমুখো মানুষের ট্রেনযাত্রায় তেমন ভিড় দেখা যায়নি। বাড়তি ভিড় না থাকায় অনেকটা স্বস্তি ও আনন্দদায়ক পরিবেশে বাড়ি ফিরেছেন তারা। তবে আজ সেই চিত্র কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে। গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ট্রেনগুলোর পাশাপাশি সবগুলো প্লাটফর্মে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।

546645456

সরেজমিনে দেখা যায়, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাত ৮টায় লালমনি, রংপুর, কুড়িগ্রাম, বুড়িমারীর উদ্দেশে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ছেড়ে গেছে। উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা করা এই ট্রেনে ঠেসে ঠেসে চড়ে গন্তব্যে ছুটছেন ঘরমুখো মানুষ। যাত্রীদের চাপে অতিরিক্ত বগি দেওয়া সত্ত্বেও অনেকে টিকিট নিয়ে নিজ বগিতে চড়তে পারেননি। গেটে ঝুলে ঝুলে যেতে দেখা গেছে অনেককে। তবে ট্রেনের ছাদে চড়ে কাউকে যেতে দেয়নি স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

শুধু কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নয়, প্রতিটি ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছানো যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তুষ্টি লক্ষ্য করা গেছে। তবে যাত্রীদের অনেকেই টিকিট কেটেও নিজের আসনে পৌঁছাতে পারেননি। কিংবা নির্ধারিত বগি খুঁজে পাননি।

ট্রেনের টিটিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিনদিনের তুলনায় আজ সন্ধ্যা থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে। আগামী দিনগুলোতে চাপ আরও বাড়বে। বেসরকারি অনেক চাকরিজীবীদের আগামী বুধবারও অফিস করতে হবে। ওইদিন সবচেয়ে বেশি ভিড় হতে পারে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission